প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই গর্ভপাতের মামলা সুষ্ঠু তদন্ত দাবি


মো. কামরুল ইসলাম কামু, পঞ্চগড়ঃ

পঞ্চগড়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই গর্ভপাতের মামলা করার অভিযোগ উঠেছে। ওই মামলায় যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তারা বুধবার দুপুরে পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন।  

গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের আঘাতে এক নারীর গর্ভপাতের বিষয়ে তোলপার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি এখনো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আলোচিত সমালোচিত হচ্ছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায় জেলার সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের ঠুটাপাখুরি গ্রামের সয়বুর রহমানের লাঠিকাঘাতে প্রতিবেশি অন্তসত্তা গৃহবধূ নাজমা বেগমের গর্ভপাত হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি ওই গৃহবধূ ৬ নভেম্বর সয়বুর রহমানসহ তার পরিবারের ৫ সদস্যকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। ৫ আসামীর মধ্যে সয়বুর রহমান ও তার ভাই আবুল হোসেন পলাতক রয়েছে। সয়বুরের স্ত্রী নিলুফার বানু, মেয়ে শারমিন আক্তার বিথী ও ভাই সরফরাত জামিনে রয়েছেন। 

সংবাদ সম্মেলনে সয়বুরের স্ত্রী নিলুফার বানু জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে প্রতিবেশি আমিনার রহমান ও নাজমা দম্পতির সাথে তাদের বিরোধ চলে আসছিল। ২০১৫ সালে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে সয়বুর। এরপর তারা আরও সহিংস হয়ে উঠে। গত মার্চে তারা আবারও সয়বুরের পরিবারের উপর হামলা করে। 

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করে সয়বুর। পরে বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশ আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করে। গত ৫ নভেম্বর তারা আমাদের জমিতে গাছ কাটতে আসলে বাঁধা দেয় সয়বুর ও তার স্ত্রী নিলুফার বানু। ওইদিন কোন মারধরের না ঘটলেও মারধরের কারণে নাজমার গর্ভপাত হয়েছে বলে নাটক সাজিয়ে তারা সয়বুরের পরিবারের ৫ সদস্যকে আসামী করে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি মামলা করে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তারা। 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ গণামাধ্যমে যে ছবি ছড়িয়ে পড়েছে তা ভুলভাবে প্রচার করা হচ্ছে। ওই নারীর হাতে একটি বেদা ছিলো সেটি আমার স্বামী কেড়ে নিয়ে ফেলে দেন। মারধরের কোন ঘটনাই ঘটে নি। মারধরের ঘটনা ঘটলে নিশ্চয়ই তাদের লোকজন চুপ করে থাকতো না। আমরা মাত্র দুজন লোক ছিলাম। তারা ১০/১৫ জন লোক ছিলো। 

এছাড়া যে সন্তান গর্ভপাতের কথা বলা হয়েছে সেটি আল্ট্রাসনোগ্রামের রিপোর্টের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মূলত তারা মামলা করে আমাদের ফাঁসানোর জন্যই এই মিথ্যে অভিযোগ করছে। তাদের হুমকিতে আমাদের বাড়িতে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। একই সাথে আমাদেরকে এই মিথ্যে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার দাবি জানান তিনি। 

সেদিনের ঘটনায় নাজমার মেয়ের করা এক ভিডিও পাওয়া গেছে। সেখানে দেখা যায়, নাজমা পানির ড্রেনের ময়লা পরিষ্কার করছিলেন এমন সময় সয়বুর তার হাত থেকে বেদাটা কেড়ে নিয়ে ফেলে দেন। সেখানে মারামারি কোন দৃশ্য ছিলো না। বেদা কেড়ে নেয়ার মুহুর্তের ছবিটি ফেইসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ওই ছবি প্রচার করে ফেইসবুকে দেখানো হচ্ছে যে সয়বুর লাঠি দিয়ে ওই নারীর পেটে আঘাত করছেন। 

ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পঞ্চগড় সদর থানার উপ-পরিদর্শক ভবেশ চন্দ্র পাল বলেন, ওই নারীর কি কারণে গর্ভপাত হয়েছে তা এখনি নিশ্চিত করে বলা যাবে না। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। মেডিকেল রিপোর্টসহ সব বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য