রিক্সা ও ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের পাল্টা, সংবাদ সম্মেলন

রফিক, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ 

গাইবান্ধা জেলা রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের নাম ভাঙিয়ে জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রতিকার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সদর উপজেলা রিক্সা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা রিক্সা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আমিনুল ইসলাম মিন্টু। এছাড়াও  সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা রিক্সা ও ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন মাইন, সাধারণ সম্পাদক মো. ইখতেয়ার ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিটু মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন মিয়া, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হাই, দপ্তর সম্পাদক মো. শহিদ হাসান, রোড সেক্রেটারী সিজেল মিয়া, সদস্য এবিএম বখতিয়ার ফারুক অন্যরা।

তারা বলেন, গাইবান্ধা জেলা রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের ১৪ অক্টোবরের সংবাদ সম্মেলনকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। গাইবান্ধা সদর উপজেলা রিক্সা ও ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন নামে একটি অবৈধ সংগঠন গড়ে তুলে চাঁদাবাজিসহ সাধারণ রিক্সা শ্রমিকদের মাঝে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির পায়তারা করার সংবাদটি মিথ্যা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। 

এই সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়। মূলত: নবগঠিত এই সদর উপজেলা রিক্সা ও ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা কোথাও কোন চাঁদাবাজি করেনি। এমনকি তারা কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথেও জড়িত নয়। সদর উপজেলা রিক্সা ও ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সকল নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ পরিবারের সাথে জড়িত।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, জেলা রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে গাইবান্ধা সদর উপজেলা রিক্সা ও ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং বগুড়া- ০৩৩) সংগঠনটির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এই সংগঠনটি গত ২২ সেপ্টেম্বর  শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রম অধিদপ্তর বগুড়া কর্তৃক রেজিষ্ট্রেশনভুক্ত হয়। 

সংগঠনটি রেজিস্ট্রার্ডভুক্ত হওয়ার পর থেকে সুশৃংখলভাবে শ্রমিকদের সেবা ও উন্নয়নের জন্য সুষ্ঠুভাবে কাজ করার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গত ১৪ অক্টোবর গাইবান্ধা রেল স্টেশনের পশ্চিম পার্শ্বে কাউয়া চত্বরে উক্ত সংগঠনের কমিটির এক পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

এতে গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সাইফুল আলম সাকা, জেলা যুবলীগের সভাপতি সরদার মো. শাহীদ হাসান লোটন, বাস-ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরি সভাপতি ময়নুল হক বিএ, শহর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল সাহাসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ওই পরিচিতি সভা অনুষ্ঠানের খবরটি আগেই জেলা রিক্সা ও ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন জানতে পেরে তারা ঈর্ষান্বিত হয়ে দ্রুত মিথ্যা ভিত্তিহীন তথ্য উপাত্ত করে একটি সংবাদ সম্মেলন করে। যাতে করে সদর উপজেলা রিক্সা ও ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন কোন কার্যক্রম চালাতে না পারে। 

এছাড়া ওই জেলা রিক্সা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের বেশীর ভাগ সদস্য- শাহ আলম, হাকিম মিয়া, সুজন মিয়া, সাজু মিয়া, মাসুদ মিয়া, ফিরোজ মন্ডল, খলিলুর রহমান জামায়াত-বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সময় বিএনপি-জামায়াত রাজনীতির সাথে জড়িত জেলা রিক্সা ও ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নামধারী সদস্যরা আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক নেতা পরিচয় দিয়ে জেলা শহরের নিউ ব্রীজ, দারিয়াপুর তেতুলতলার মোড়, বালাসি রোড, খানকাশরীফ রোড, শাপলা মিল, কাবিলের বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় রিক্সা শ্রমিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদাবাজি করে। 

কোনো শ্রমিক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমনকি তাদের রিক্সা ও ভ্যান আটকিয়েও চাঁদা আদায় করা হয়। জেলা রিক্সা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন সংগঠনের নামধারী নেতাকর্মীরা ভোট বিহীন কমিটি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলা কমিটির নির্বাচন না হওয়ায় জেলা কমিটি ভেঙে দিয়ে ৬ মাস মেয়াদী এই এডহক কমিটি করা হয়। 

এডহক কমিটির নির্ধারিত সেই মেয়াদ এক বছর আগেই অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। অথচ ওই সংগঠনের নাম ভাঙিয়েই বিভিন্ন পদে মনগড়াভাবে জোরপূর্বক কার্যক্রম চালাচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য