দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে এলাকাবাসী


মোঃ নাজমুল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ১নং শিবরামপুর ইউনিয়নের মধনসাঁকো-হাপাডাঙ্গা রাস্তার প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত এ সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলেও সড়কটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। অতিস্বল্প সময়ে এ সড়ক দিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা সদর ও স্থানীয় হাট খোঁচাবাড়ী পৌঁছা যায় বলে সড়কটি উপজেলাবাসীর কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ।

মধন সাঁকো গ্রাম থেকে শুরু করে ইউনিয়নের মুরারীপুর,শাহাডুবি, রথ বাজার, দৌউলি ধানগাঁও পর্যন্ত ২ কিলোমিটার রাস্তা পাকা না হওয়ায় ১০ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ সহ স্কুল -মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে চলাচল করছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেশিরভাগ স্থানে উঁচু-নিচু হওয়াসহ গর্তের সৃষ্টি হয়ে কাঁদা জমাট হয়ে প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে দিয়ে অটোচার্জার, মোটরসাইকেল, ভ্যান সহ যানবাহন চলাচল করছে। এ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারীরা। এই রাস্তাটি বৃষ্টিপাতের কারণে বড় বড় গর্তের সষ্টি হয়ে কাঁদামাটিতে একা-কার হয়ে যায়।

ঘন-বর্ষার সময়ে পানি কাঁদায় শিশু ও বয়স্কদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে, এ রাস্তায় পায়ে হেঁটে চলাচল করা যায় না। ফলে স্বাভাবিকভাবে চলাচলের আর উপায় থাকে না। বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ের যেতে সম্যাসার সম্মুখীন হন। এছাড়া কাঁদা রাস্তা পাড়ি দিয়ে হাট- বাজারে যেতে এলাকাবাসীকে পড়তে হয় চরম বিপাকে। সোমবার সরেজমিনে গেলে, এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নেতা আসে নেতা যায়, কিন্তু এ রাস্তা পাকা হয় না। নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিরা এ রাস্তাটি পাকা করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচনের পরে আর কেউ এর খোঁজ রাখেন না। এই ইউনিয়নের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইস্কুল, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী ও ভূমি অফিস, পোষ্ট অফিস, ব্র্যাক এনজিওসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

এ ব্যাপার শিবরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনক চন্দ্র অধিকারী  বলেন, এলজিডির আওতাধীন কাঁচা সড়কের কাজ দীর্ঘদিন হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে করোনার কারণে এই সড়কের সংস্কার হচ্ছে না। এই ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষের চলাচল করতে নানাভাবে দুর্ঘটনা ও ভোগান্তিতে পোহাতে হচ্ছে। এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মান্নাফ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই সড়কের বরাদ্দ আসলে কাজ শুরু হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য