নীলফামারীর হাজীগঞ্জে খাস জমি দখল স্মারকলিপি প্রদান


মো. মজিবুল ইসলাম, নীলফামারীঃ  

নীলফামারী সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ বাজারে সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল, বিক্রি ও অনুমোদনবিহীন স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে  ঘণ্টাব্যাপী চৌরঙ্গী মোড়ে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছে নীলফামারী জেলার সর্বস্তরের জনগণ ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।


সোমবার ১২ই জানুয়ারি ২০২৬ সকাল ১১ টার সময় নীলফামারী চৌরঙ্গী মোড়ে  মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন  শতাধিক সাধারণ জনগণ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন শেষে গণস্বাক্ষর ও স্মারকলিপি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ সাইদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নীলফামারী সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ বাজারের কাঞ্চনপাড়া মোড়ের পূর্ব পাশে অবস্থিত সরকারি খাস জমি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের দ্বারা অবৈধভাবে দখল, বিক্রি ও স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি আত্মসাৎ করা হচ্ছে। এসব অনিয়মের বিষয়টি একাধিকবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।


বক্তারা বলেন, জয়ন্ত রায় (পিতা: ব্রোথনাথ রায়) গত ২১ ডিসেম্বর ২০২৫  সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে সেখানে পাকাঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫  ভূমি অফিসের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয় এবং অবৈধ স্থাপনাটি ভেঙে ফেলা হয় তবে এখন পর্যন্ত চুড়ান্ত ভাবে দখলমুক্ত হয়নি। উল্লেখযোগ্য, জয়ন্ত রায় প্রায় চার বছর পূর্বে একই এলাকায় আনুমানিক চার শতক সরকারি খাস জমি অবৈধ ভাবে দখল করে তিনটি পাকা দোকানঘর নির্মাণ করেন, যা এখনো বহাল রয়েছে। নিজস্ব প্রায় ৩০ বিঘা জমি থাকা সত্ত্বেও তিনি সরকারি জমি দখল করে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি আত্মসাতের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।


এছাড়াও বক্তারা বলেন, একই এলাকার মোঃ আফজাল হোসেন আনুমানিক ২০০ মিটার সরকারি খাস জমি দখল করে অবৈধভাবে একটি দোকান মার্কেট নির্মাণ করেছেন, যেখানে বর্তমানে ৮টি দোকানঘর রয়েছে। শুধু তাই নয় এছাড়াও তিনি অবৈধভাবে দখলকৃত সরকারি জমি ৫ জনের কাছে বিক্রি করেছেন, যা সরাসরি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির অবৈধ হস্তান্তরের শামিল।


মানববন্ধনে আরও বলা হয়, অত্যন্ত উদ্বেগজনকভাবে মোঃ আফজাল হোসেন ওই এলাকায় সরকারি খাস জমিতে অবস্থিত একটি মসজিদ স্থানান্তর করে উক্ত জায়গাটি দখল করে অন্যের কাছে বিক্রি করেছেন। বক্তারা এ ঘটনাকে ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক মূল্যবোধ ও জনস্বার্থের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।


বক্তারা প্রশ্ন তুলে বলেন, “সব তথ্য প্রশাসনের কাছে থাকার পরেও কেন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? জয়ন্ত রায় ও আফজাল হোসেনের টাকার কাছে কি সবাই বিক্রি হয়ে গেছে, নাকি প্রশাসনের এখনো কাজ করার সদিচ্ছা আছে?” নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বক্তারা বলেন আপনি নীলফামারী জেলার অভিভাবক আপনার কাছে আমাদের প্রত্যাশা অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।


এসময় বক্তারা বলেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে যদি প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে সংবাদ সম্মেলন করা হবে ও বৃহত্তর কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।  


স্বারকলিপিতে জেলা প্রশাসকের কাছে

গোড়গ্রাম ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ বাজারের কাঞ্চনপাড়া মোড়ের পূর্ব পাশে অবস্থিত সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখলের সঙ্গে জড়িত জয়ন্ত রায় ও মোঃ আফজাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট সকল দখলদার ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উক্ত জমি দ্রুত উদ্ধার করার দাবি জানানো হয়।

এছাড়াও নীলফামারী জেলায় অবৈধভাবে দখলকৃত সকল সরকারি খাস জমি দ্রুত উদ্ধার করা, অবৈধভাবে নির্মিত সকল স্থাপনা স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে সরকারি খাস জমি দখল, বিক্রি ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ রোধে কার্যকর প্রশাসনিক তদারকি ও নজরদারি জোরদার করার জোর দাবি জানানো হয়।


মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন দ্বীপ্তমান মানবউন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি আব্দুল মোমিন। সঞ্চালনা করেন নিরাপদ যুব কল্যাণ সংস্থার সভাপতি এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইনসাফ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি আখতারুজ্জামান খান। এসময় বক্তব্য রাখেন নীলফামারী মডেল কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা, সুজনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রাজা আহমেদ, গ্রীন ভয়েস নীলফামারী জেলার সমন্বয়ক শাকিল ইসলামসহ অন্যরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মোঃ আসাদুজ্জামান,  রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ (রিব)-এর প্রতিনিধি মো: নজরুল ইসলাম, রিতা মহিলা কল্যাণ সমিতির সভাপতি রিতা বেগম, লাভলী মহিলা কল্যাণ সমিতির সভাপতি লাভলী বেগম, দ্বীপ্তমান নারী কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বৈশাখী প্রমুখ ।


নীলফামারী জেলার সর্বস্তরের জনগনের আয়োজনে ও দ্বীপ্তমান মানবউন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ সংস্থা, ইনসাফ কল্যাণ ফাউন্ডেশন, নিরাপদ যুব কল্যাণ সংস্থা, গ্রীন ভয়েস, লাভলী মহিলা কল্যাণ সমিতি, রিতা মহিলা উন্নয়ন সমিতি,  পরিবেশ সংরক্ষণ ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বাস্তবায়ন কমিটি এর সহযোগিতায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উদ্যোগে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি, গণস্বাক্ষর ও জেলা প্রশাসকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।


অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ সাইদুল ইসলাম স্মারকলিপি গ্রহণের সময় বলেন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ