জজ কোর্টের আদেশকে অমান্য করছে বাঁশখালী আদালত ও কক্সবাজার বিআরটিএ

 সাংবাদিক মনছুরকে হয়রানি করে জোরপূর্বক অপরাধী বানানোর চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদলতের ফৌজদারী রিভিশন মামলায় দেওয়া আদেশ অমান্য করছে বাঁশখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও কক্সবাজার বিআরটিএ। বাঁশখালী আদালতে মামলায় চার্জ গঠনের ধার্যদিনে অব্যহতির পিটিশন দাখিলের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলেও জানান এডভোকেট নাজমুল আলম চৌধুরী। সাংবাদিক মোঃ মনছুর আলমের বিরুদ্ধে করা বাঁশখালী থানার মিথ্যা মামলা ও গাড়ী জিম্মায় নেওয়ার জন্য করা ফৌজদারী রিভিশন মামলায় হয়রানীর শিকার হচ্ছেন এবং তাকে জোরপুর্বক অপরাধী বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মোঃ মনছুর আলম বর্তমানে বাঁশখালী নিউজের প্রকাশক ও সম্পাদক, পরিকল্পিত বার্তার প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক, দৈনিক সরকারের স্টাফ রিপোর্টার, জাতীয় অর্থনীতির ক্রাইম রিপোর্টার এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক সংস্থার তথ্য সংরক্ষণ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। 

গত ১৮ অক্টোবর ২০২৩ ইং তারিখে বাঁশখালী থানার মামলা নং- ৩৫(০৪)২৩ইং, জিআর নং- ১৫৮/২৩ এর জব্দকৃত মোটর সাইকেল গাড়ী HUNK DD, কক্সবাজার-ল-১১-৫৭৬৩ গাড়িটি জিম্মায় পাওয়ার জন্য চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সাংবাদিক মোঃ মনছুর আলম বাদী হয়ে ফৌজদারী রিভিশন মামলা নং- ৮৮০/২৩ইং দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে পরবর্তী শুনানীর দিন গত ৩০ অক্টোবর ২০২৩ইং তারিখ ধার্য করে বাঁশখালী আদালত'কে মামলার নথি প্রেরণ ও কক্সবাজার বিআরটিএ'কে গাড়ির মালিকানা প্রতিবেদন প্রেরণের আদেশ দেন। উক্ত ধার্যদিনের শুনানীতে ফৌজদারী রিভিশন মামলার বাদী মনছুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির থাকলেও মামলার নথি ও গাড়ীর বিআরটিএ প্রতিবেদন না থাকায় শুনানীর পরবর্তী দিন ধার্য করেন গত ২৬ নভেম্বর ২০২৩ইং। এই দিনেও ফৌজদারী রিভিশন মামলার বাদী মনছুর শুনানিতে উপস্থিত থাকলে মামলার নথি ও গাড়ীর বিআরটিএ প্রতিবেদন না থাকায় পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য করেন ০৯ জানুয়ারী। বরাবরের মতই ফৌজদারী রিভিশন মামলার বাদী সাংবাদিক মোঃ মনছুর আলম সর্বশেষ ধার্যদিনে উপস্থিত থাকলেও চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আদেশ অমান্য করে বাঁশখালী আদালত মামলার নথি এবং কক্সবাজার বিআরটিএ গাড়ীর প্রতিবেদন প্রেরণ না করায় পরবর্তী শুনানী ধার্যদিন নির্ধারণ করেন আগামী ২৪ জানুয়ারী। তার আগে সাংবাদিক মোঃ মনছুর আলম বাঁশখালী আদালতে গত ০৯ আগস্ট ২০২৩ইং ও ১৯ সেপ্টম্বর ২০২৩ইং তারিখে উক্ত গাড়ী জিম্মায় পাওয়ার জন্য পরপর দুবার আবেদন করলেও, "একমাত্র আসামী" বলে কারণ দেখিয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবদুল হামিদ না মঞ্জুর করলে পরবর্তীতে জজ কোর্টে ফৌজদারী রিভিশন মামলাটি দায়ের করেন তিনি।

এদিকে বাঁশখালী আদালতে উক্ত জিআর মামলার চার্জ গঠনের ধার্যদিন ০৫ নভেম্বর ২৩ইং হলেও সাংবাদিক মোঃ মনছুর আলমের নিয়োগকৃত এ্যাডভোকেট নাজমুল আলম চৌধুরী নিষেধাজ্ঞার দোহাই দিয়ে অব্যাহতির পিটিশনের পরিবর্তে হাজিরার পিটিশন দাখিল করেন। কোনমতে অব্যাহতির পিটিশন দাখিল করতে না পারায় সাংবাদিক মনছুর অপারগ হয়ে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত থেকেও সময়ের পিটিশন দিয়ে আদালতকে অনুপস্থিত দেখাতে বাধ্য হন। পরবর্তী চার্জ গঠনের ধার্য তারিখ ২০ নভেম্বর বাঁশখালী আদালতে বিচারক অনুপস্থিত থাকায় সেদিনও শুনানী হয়নি। বাঁশখালী আদালতে চার্জ গঠনের শুনানীর ধার্যদিনে অব্যহতির পিটিশন দাখিল নিয়ে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সাংবাদিক মোঃ মনছুর আলম ও এডভোকেট নাজমুল আলম চৌধুরীর ২ মিনিট ২২ সেকেন্ডের একটা অডিও রেকর্ড সাংবাদিকদের হাতে আসে।


এব্যাপারে সাংবাদিক মনছুর আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি পুলিশি হয়রানীর শিকার হয়ে আসছি। বর্তমানে বাঁশখালী আদালতেও আমি হয়রানী হচ্ছি। আমার সাথে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাটিকে মিথ্যা মাদক মামলায় রূপান্তর করার বিষয়টি স্থানীয় ভাবে সকলেই অবগত। এছাড়া সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা রিপোর্ট আমার পক্ষে, মিথ্যা মামলায় সাজানো সাক্ষীদের দেওয়া রেকর্ড করা বক্তব্যও আমার পক্ষে। তারপরও আমি চার্জ গঠনের ধার্যদিনে যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ সহ অব্যহতির পিটিশন দিতে না পারাটাও আমাকে হয়রানী করা। আমি চার্জ গঠনের সময় কোন তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন না করলে, সে সুযোগটা পুলিশের বিরুদ্ধে করা অভিযোগে কাজে লাগানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে আর আমাকে হয়রানি করে জোরপূর্বক অপরাধী বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি বাঁশখালী আদালতে গাড়ী জিম্মায় চাওয়ার সময় আমার কোন তথ্য প্রমাণ শুনতে চাইনি, এক কথায় বলে দিলেন একমাত্র আসামী তাই জিম্মায় দেওয়া হবে না। এরপর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে গাড়ী জিম্মায় পাওয়ার জন্য রিভিশন মামলা দায়ের করলেও বাঁশাখালী আদালত মামলার নথি প্রেরণ করছেন না এবং কক্সবাজার বিআরটিএ থেকে কোন প্রতিবেদন প্রেরণ করছেন না। আমি নিজে তদবির চালিয়ে বাঁশখালী আদালত থেকে চট্টগ্রাম জজ কোর্টে মামলার নথি প্রেরনের ব্যাপারে পেশকারের জন্য টাকা দিয়েছি কয়েকবার। তারপরও মামলার নথি না পাঠিয়ে আমার অজান্তে চার্জ গঠনের দিন ধার্য করে আমার অনুপস্থিতে চার্জ গঠন সহ ওয়ারেন্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এজন্য তারা জজ কোর্টের আদেশকেও অমান্য করতেছে বারবার। এমন যদি হয়, ক্ষমতাশালীরা ক্ষমতার অপব্যবহার করবে আর আইন আইনের মত চলবে, মাঝখানে নিরপরাধীদের কোন আর্তনাদ আমলে নেওয়া হবে না। তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?

প্রসঙ্গত, সাংবাদিক মোঃ মনছুর আলমকে হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। হত্যাচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার লক্ষ্যে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা কিংবা পরীক্ষা না করিয়ে উলটো মাদক সেবনের ভুয়া সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে মিথ্যা মাদক মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠান। গত ১৬ এপ্রিল রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী থানাধীন সাধনপুর ইউনিয়নের দক্ষীণ সাধনপুর এলাকার বদর পীর মাজার গেইটের সামনে স্থানীয় পোড়াবাড়ি পুলিশ ক্যাম্প চেকপোস্ট স্থলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে ১ মাস ২৬ দিনের মাথায় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করে সাবেক আনোয়ারা সার্কেল ও বাঁশখালী থানার সাবেক ওসি কামাল সহ মোট ৬ জনকে অভিযুক্ত করে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ আইজিপি কমপ্লেইন সেলে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে ১৩ পাতার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, একই সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে অনুলিপিও জমা দেন। এবং বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে আঘাতের চিকিৎসা না করিয়ে উলটো পুলিশকে মাদক সেবনের মিথ্যা সার্টিফিকেট প্রদানের বিষয়ে সিভিল সার্জন চট্টগ্রাম বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যারা হলেন, রামদাস মুন্সি হাট ফাঁড়ির সাবেক এসআই মোঃ শহীদ, বাঁশখালী থানার সাবেক ওসি মোঃ কামাল উদ্দিন (বর্তমান সীতাকুণ্ড থানার ওসি), ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সোলেইমান, সাবেক আনোয়ারা- বাঁশখালী- চন্দনাইশ এএসপি (সার্কেল), বাঁশখালী থানার সাবেক এসআই মোঃ বাবুল মিয়া সহ ফাঁড়ির সাবেক এএসআই মিথুন। বর্তমানে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে দায়ের করা অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে এবং সিভিল সার্জন চট্টগ্রাম বরাবর দায়ের করা অভিযোগের তদন্ত রিপোর্ট ৩১ অক্টোবর ২০২৩ইং তারিখ প্রকাশ করেছে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডোপ টেস্ট ও কেমিক্যাল টেস্টের ব্যবস্থা নেই।

আইজিপি কমপ্লেইন সেলে দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের বাঁশখালী থানাধীন রামদাস মুন্সির হাট ফাঁড়ি'র সাবেক এসআই মো: শহীদের হয়রানি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার ও এএসপি (সার্কেল) বরাবরে ভুক্তভোগীরা বেশ কিছু লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীকে আইনি প্রতিকার পাওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করায় প্রতিপক্ষ ও সাবেক এসআই শহীদ সাংবাদিক মনছুরের উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় ঐ ঘটনার প্রতিপক্ষের লোকজন সাংবাদিক মনছুরকে হামলার পরিকল্পনা এবং সাবেক এসআই শহীদ প্রায় সময় চলাচলের পথে তল্লাশীর নামে হয়রানি সহ হেয়প্রতিপন্ন করত। বিষয়টি তিনি নিজে এবং সিনিয়র সাংবাদিকদের মাধ্যমে একাধিকবার বাঁশখালী থানার সাবেক ওসি মো: কামাল উদ্দিনকে (বর্তমান সীতাকুণ্ড থানার ওসি) জানালেও কোন কর্নপাত করেননি। উলটো সাবেক এএসপি (সার্কেল) ও সাবেক ঐ ওসি কামাল এসব অভিযোগের নেপথ্যে সাংবাদিক মনছুরকে দায়ী করে, তার পেছনে সাবেক এসআই শহীদকে লেলিয়ে দেন। এপর্যন্ত সাবেক এসআই শহীদের বিরুদ্ধে করা লিখিত ও মৌখিক প্রায় সকল অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি (সার্কেল) হলেও অজ্ঞাত কারণে এসবের প্রতিকার পায়নি কোন অভিযোগকারী। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ মার্চ রাত ১১টায় উপজেলা স্টেশন থেকে বাইক যোগে বাড়ি ফেরার পথে কালিপুর সদর আমিন হাট এলাকায় সাবেক এসআই শহীদ সিভিলে ২জন কনস্টেবল নিয়ে সাংবাদিক মনছুরের গাড়ি গতিরোধ করে প্রহসনের তল্লাশি চালায়। পরে বাইকটি ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে, মদ্যপান করে রাস্তায় লোকজন নিয়ে উশৃংখল করার অভিযোগ তোলে হাতকড়া পড়িয়ে সাংবাদিক মনছুরকে থানায় নিয়ে যায় এবং বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ভুয়া মাদক সেবনের সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে। পরে রাত ২টায় থানা থেকে সাংবাদিক মনছুরকে ছেড়ে দিলে ঘটনাস্থল থেকে বাইক উদ্ধার করেন তিনি। এঘটনায় সংবাদ প্রকাশসহ সাবেক এসআই শহীদের সহযোগিতায় সোর্স রহিমের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ ও মুক্তিপন আদায়ের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে ঐ ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ সোলেইমান, সাবেক এসআই শহীদ ও বাঁশখালী থানার সাবেক ওসি মোঃ কামাল উদ্দিন চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন সাংবাদিক মনছুরের উপর। সেই থেকে সাংবাদিক মনছুরকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালচালতে থাকেন অভিযুক্ত পুলিশ ও সোর্সরা। এরই প্রেক্ষিতে ১৬ এপ্রিল রাত ১১টার পর গুণাগরি খাসমহল বাজার থেকে গুরা মিয়া বাঙ্গালীর ছেলে আজিজের সাথে সাংবাদিক মনছুর তার বাইক যোগে বাড়ি যাওয়ার পথে পোড়াবাড়ি চেকপোস্ট স্থলে কালীপুরের আমির হোসেন প্র: বাইশ্যার ছেলে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও পুলিশের সোর্স রহিম, রেজাউল করিম প্রকাশ লেদুর ছেলে সোর্স রহিম, দুধুর্ষ ডাকাত আনোয়ার ও কিশোর গ্যাং সাকিল সহ অজ্ঞাত ১৪/১৫ জন সন্ত্রাসী তার মোটর সাইকেল গতিরোধ করে ফেলে দিয়ে পোড়াবাড়ি ক্যাম্পমুখী পাঁকা রাস্তা দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার ভেতরে সাংবাদিক মনছুরকে তোলে নিয়ে যায়। পরে সাংবাদিক মনছুরকে বেঁধে তার পকেটে থাকা মোবাইল, ম্যানিব্যাগ ও ব্লুথুট হেডসেট ছিনতাই করে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে ও শরীরে মদ ডেলে দিয়ে গণপিটুনি শুরু করে। ঐ সময় মোটর সাইকেল রাস্তায় পড়ে থাকায় উভয়মুখী গাড়ির জ্যাম লেগে পথচারী ও যাত্রী জড়ো হতে থাকে। সাংবাদিক মনছুরের শৌর চিৎকারে জড়ো হওয়ায় জনতা বাঁচাতে এগিয়ে আসতে চাইলে শুরুতে স্থানীয় এক সাবেক মেম্বার আবু হেনা তার ১০/১২ জন অজ্ঞাত সহযোগীদের নিয়ে জনগণকে বাঁধা দেয়। একপর্যায়ে আবু হেনার বাঁধা উপেক্ষা করে জনগণ এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা কিছু কিছু পালিয়ে যায় আর কিছু জনগণের সাথে মিশে যায়। জনগণ সাংবাদিক মনছুরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতাল নিয়ে যেতে চাইলে সাবেক ঐ মেম্বার আবুহেনা পুলিশের দোহাই দিয়ে বাঁধা দেন। একপর্যায়ে ফাঁড়ির টহল ডিউটিরত সাবেক সাবেক এএসআই মিথুন ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে আসেন ও পরে বাঁশখালী থানার টহল ডিউটিরত সাবেক এসআই মোঃ বাবুল মিয়া ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে এসে চিকিৎসার নামে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও কোন চিকিৎসা কিংবা পরীক্ষা না করিয়ে মাদক সেবনের ভুয়া সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে মিথ্যা মাদক মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠান।

সাংবাদিক মোঃ মনছুর আলম বলেন, বাঁশখালী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের পরিসমাপ্তির জন্য আমাকে হত্যা করা ছাড়া আর কোন উপায় সাবেক এসআই শহীদ, পুলিশ পরিদর্শক সোলেইমান, সাবেক ওসি কামাল (বর্তমান সীতাকুণ্ড থানার ওসি) ও সাবেক এএসপি (সার্কেল)দের ছিল না। এজন্য ২য় ঘটনার তারিখ ও সময়ে মিথ্যা মাদক সেবন ও উশৃংখল করার মিথ্যা অভিযোগে গণপিটুনিতে মৃত্যু নিশ্চিত করায় ছিল তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। ঘটনাস্থলে পথচারীর মানবিক দৃষ্টান্তে তাদের হত্যা চেষ্টা চরমভাবে ব্যর্থ হওয়ায় আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে প্রকৃত ঘটনার ধামাচাপা দিয়ে রাখেন। ঘটনাস্থলে বিভিন্ন এলাকার শতাধিক পথচারী ও যাত্রী উপস্থিত থাকলেও তাদেরকে ছাড়া হামলার ঘটনার সহযোগীদেরকে সাজানো মামলার সাক্ষী করেন। তাই দিশেহারা হয়ে সাবেক ওসি কামাল কোন ব্রিফিং দেননি। থানায় ও ঘটনাস্থলে পুলিশের নাটকীয় ভাবে তোলা ২টি ছবি তাৎক্ষণিকভাবে হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা বিভিন্ন ম্যাসেঞ্জারে দ্রুত চারিদিকে চড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংবাদিক সহ সচেতন মহল জোর প্রতিবাদ জানান। ঘটনার ১৮ ঘন্টা পর কোন চিকিৎসা ও খাবার ব্যতীত থানার সাবেক এসআই মোঃ বাবুল মিয়া বাদী হয়ে তিনি নিজেই বিকাল ৫টার দিকে ৫০ পিস ইয়াবা ও ২ লিটার মদের মামলা {২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) এর ১০(ক)/২৪(ক) ধারা} দিয়ে বাঁশখালীর বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করলেও, টানা ৫ দিন পাঠানো হয়নি মামলার কোন এফ,আই,আর/এজাহার কিংবা জব্দ তালিকা। ঐ ৫ দিনে ওসির মৌখিক নিষেধাজ্ঞার কারণে থানা থেকেও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি মামলার কোন নকল কপি। অথচ আসামী চালান প্রতিবেদনে সাবেক এসআই শহীদ আমাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দের কথা উল্লেখ করলেও তাকে আমি ঐ ১৮ ঘন্টার মধ্যে ১৮ সেকেন্ডের জন্যও থানায় দেখিনি। টানা ৫দিন মামলার তথ্য গোপন রেখে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে রামদাস হাট মুন্সি (ফাঁড়ি) তদন্তকেন্দ্রের সাবেক এসআই শহীদ আদালতে রিমান্ডের আবেদন দাখিলের পরপরই মামলার নকল কপি পাওয়া যায়। ওসির মৌখিক দেয়া টানা ৫ দিনের সেই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বাঁশখালীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়িত্বরত পুলিশের হস্তক্ষেপে আসামী চালান প্রতিবেদনে বর্ণনা ও মামলার সূত্র পরিবর্তন করা হয়। এতদিনের মধ্যে ৫০ পিস ইয়াবা গিয়ে ১৫০ পিসে ঠেকে আর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ২৫/৩৮ ধারা ২টি অতিরিক্ত যুক্ত করে মোটরসাইকেলও মামলায় জড়িয়ে দেন। একই সাথে মাদক সেবনের ভুয়া সনদও সংযুক্ত করেন। অথচ এজাহারে মাদক সেবনের রিপোর্ট সংগ্রহ এবং বাইক উদ্ধারের বিষয়ে কোন বিবরণও নেই। রিমান্ড শুনানীতে বিজ্ঞ আদালতে উপস্থানকৃত তথ্য-উপাত্ত দেখে ও শুনানির মাধ্যমে পুলিশের সাজানো নাটক বুঝতে পারায় রিমান্ড না মঞ্জুর করেন। অথচ বাঁশখালী থানায় মাদকের প্রকৃত বড় চালানের মামলায়ও রিমান্ড চাওয়ার নজির নেই। পরে ১ মাস ২৬ দিনের মাথায় আমি জামিনে মুক্তি পাই। এই নাটকীয় মামলায় আমাকে কারাগারে পাঠানো হয় ২টি ধারায় আর জামিনে বের হতে হয় ৪টি ধারায় এবং আহত অবস্থায় কারাগারে গিয়ে কারা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিতে হয়।

তিনি আরো বলেন, ঘটনা শুরু হয় রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে আর বাঁশখালী থানার সাবেক এসআই মো: বাবুল মিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে। হাসপাতালে নেওয়া হয় রাত ১২ টা ১০ মিনিটে আর হাসপাতাল থেকে থানায় নিয়ে যায় রাত ১২ টা ২০ মিনিটের দিকে। অথচ এই মিথ্যা মাদক মামলার কথিত এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০ কি.মি. দূরে নাপোড়ায় রাত্রীকালীন ডিউটি করার সময় রাত ১১ টা ৪৫ মিনিটের দিকে ৯৯৯ কলের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাদী সাবেক এসআই মোঃ বাবুল মিয়া ঘটনাস্থলে আসেন রাত ৩ টার দিকে। কথিত এজাহারে ১০০/১২০ জনতা আমাকে ইয়াবা ট্যাবলেট ও মদ সহ আটকের কথা উল্লেখ করলেও মোটর সাইকেলের বিষয়ে কোন কথা উল্লেখ নেই। বাইকটি মূলত আমার দেখানো মতে রাস্তায় পড়ে থাকা অবস্থা থেকে উদ্ধার করলেও, শুধু মিথ্যা মামলার জব্দ তালিকায় উল্লেখ করেন। এমনকি হামলায় জড়িতরা ছাড়া প্রায় অধিকাংশ জনতা আমার মোটর সাইকেল দেখেওনি, তবু মামলার পরিবর্তিত জব্দ তালিকায় সংযুক্ত করে দেন, অথচ মামলার এজাহারে কিভাবে বাইক উদ্ধার করল সে বিষয়ে কোন বর্ণনাও নেই। মিথ্যা মাদক মামলার কথিত জব্দ তালিকায় বাইকের কথা উল্লেখ থাকলেও, উল্লেখ নেই মোবাইল ফোন ও ফোনে থাকা ২টি সিম এবং ১টি মেমোরি কার্ড, ব্লুথুট হেটসেট বক্স ও বক্সে থাকা ২টি হেডফোন এবং ম্যানিব্যাগ ও ব্যাগে থাকা ৪টি এটিএম ডেবিট  কার্ড, ১টি ডুয়েল কারেন্সি'র আমেরিকান এক্সপ্রেস ডলার কার্ড, ১টি গাড়ির স্মার্ট লাইসেন্স কার্ড, ১টি জাতীয় পরিচয় পত্রের স্মার্ট কার্ড, ২টি সংবাদমাধ্যমের পরিচয় পত্র, কক্সবাজার সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত কালীন সময়ের পরিচয় পত্র, জিমনেসিয়ামের পরিচয় পত্র, রক্তদাতা কার্ড ও ৫০০ (পাঁচশত) টাকার নোট ৩টি সহ গুরুত্বপূর্ণ আরো কিছু কাগজপত্র জব্দের কথা। এছাড়া কথিত এজাহার মতে আর বাস্তব ঘটনা অনুযায়ী শতাধিক জনগন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও এই মিথ্যা মামলায় সাক্ষী হিসাবে ঘটনাস্থল এলাকার সাবেক মেম্বার আবু হেনা ও হামলাকারীদের সহযোগীদের ছাড়া বাইরের প্রত্যক্ষদর্শী কোন সাক্ষী নেই। এমনকি সাবেক মেম্বার আবু হেনাও সাক্ষী হননি। কথিত এজাহারে উল্লেখ করেন, কক্সবাজার জেলা থেকে এই ইয়াবা ও মদ বাঁশখালীতে এনে বিক্রি করে আসতেছি। অথচ ২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর বাঁশখালী আসার পর থেকে আমার কক্সবাজার আর যাওয়া হয়নি। তাই, সেই থেকে এখন পর্যন্ত আমার মোবাইল লোকেশন যাচাই করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে, আর আমি কখনো কোন মাদক লেনদেনের বিষয় কারো সাথে আলাপ করছি কিনা, তা কল রেকর্ড যাচাই করলেও স্পষ্ট হওয়া যাবে। কথিত এজাহার মতে, আটককালীন সময় উত্তেজিত জনতা আমাকে মারধর করায় বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার বলেন আমি মদ খাইছি। অথচ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও আমাকে কোন চিকিৎসা কিংবা পরীক্ষা করানো হয়নি বরং আমি প্রকৃত ঘটনা বলা শুরু করলে, চিকিৎসা না করিয়ে সাবেক এসআই বাবুল মিয়া ওসির সাথে ফোনে কথা বলে মাদক সেবনের মিথ্যা সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে থানায় নিয়ে যায়। 

ঘটনায় সাংবাদিক মনছুরের সাথে মোটরসাইকেলে থাকা বাণিগ্রামের গুরা মিয়ার ছেলে আজিজ বলেন, রাত অনুমান ১১টার দিকে গুনাগরি থেকে সাংবাদিক মনছুরের বাইক যোগে বাড়ী যাওয়ার পথে বদর পীর শাহ মাজারের স্পিড ব্রেকারে কয়েকজন মুখোশধারী লাঠিসোটা নিয়ে তাদেরকে গাড়ি সহ ফেলে দেয়। সাংবাদিক মনছুরকে ১০০ গজ ভেতরে তোলে নিয়ে বেঁধে তার মোবাইল ও মানিব্যাগ নিয়ে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে ও মদ ঢেলে দিয়ে আমাকে সহ মারধর শুরু করে। আগে থেকে উপস্থিত থাকা লোকজন সাংবাদিক মনছুরকে বাঁচানোর চেষ্টা করেনি। পরে লোকজন বেড়ে গিয়ে সাংবাদিক মনছুরকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে সাংবাদিক মনছুরকে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

মামলার কথিত এজাহারে উল্লেখিত সাক্ষী মৃত নাজু মিয়ার ছেলে আবদুর রহমান বলেন, গুনাগরি থেকে বাজার করে আসার পথে দেখেন তার বাড়ির পথের রাস্তায় ৪/৫ জন লোক মারামারি করতেছে। তারমধ্যে একজন বাঁচার জন্য চিৎকার করলে তিনি মোবাইলের ফ্লাস লাইট জ্বালিয়ে এগিয়ে গেলে বাকিরা পালিয়ে যায় একজনকে পেছনে হাতবাঁধা ও কাপড়চোপড় ভিজা অবস্থায় দেখি এবং তার সাথে বাণিগ্রাম এলাকার আরেকটা ছেলে ছিল। পরে ঐ লোককে ১০০ গজ মত দূরে মেইন রোডের রাস্তার মাথায় নিয়ে গেলে ১০/১৫ জন মানুষের সামনে পুলিশ এসে তার পকেট থেকে অনুমানিক ১০০ পিসের মত একটা ইয়াবার পোটলা ও তার গেঞ্জির ভেতর থেকে ২ লিটারি মদের বোতল উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

কথিত এজাহারে উল্লেখিত আরেক সাক্ষী আলী হোসেনের ছেলে মোঃ ইসমাইল বলেন, রাত ৯টার দিকে তার দোকানে অবস্থান করার সময় স্থানীয় সাবেক মেম্বার আবুহেনা তাকেসহ ৪/৫ জনকে ডেকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। ১০/১৫ জন লোক সাংবাদিককে কোথাও থেকে ধরে এনে ঘটনাস্থলে মারধর করার সময় আমরা গেলে তারা পালিয়ে যায়। তখন বাণিগ্রামের একটা ছেলের পাশে ঐ সাংবাদিকের বুকের উপর ২ লিটারি মদের বোতল সহ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেন। পুলিশ আসলে সাংবাদিকের মোবাইলটি সাবেক মেম্বার আবু হেনা পুলিশের হাতে জমা দেন এবং তার পকেট থেকে একটা ইয়াবার পোটলা উদ্ধার করে নিয়ে যায়। একপ্রশ্নের জবাবে, ইয়াবা কয়টা ছিল জানি না, এসব তো প্রশাসনের বিষয়, আমরা কিভাবে বলব কয়পিস। পুলিশ আসামাত্র সবকিছু মোবাইলে ভিডিও করছিল, পুলিশের কাছে বিস্তারিত সব ভিডিও করা আছে।

কথিত এজাহারে উল্লেখিত আরো এক সাক্ষী মোজাফফর আহম্মদের ছেলে মোঃ ফারুক বলেন, রাত ১১টার দিকে চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি কিছু ব্যক্তি একটা লোককে মারধর করতেছে। স্থানীয় সাবেক মেম্বার আবু হেনা সহ লোকজন এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে সাবেক এএসআই মিথুন ঘটনাস্থলে আসলে সাবেক মেম্বার আবু হেনা ঐ লোকটিকে বাঁধা অবস্থায় ২ লিটারি মদের বোতল সহ পুলিশের হাতে বুঝিয়ে দেন। এছাড়া আর কিছু জানেন না।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সাবেক মেম্বার আবু হেনা বলেন, রাত ১০টার দিকে ইসমাইলের দোকানে বাজার করার সময় ঘর থেকে কল দিয়ে জানায়, আমাদের বাড়ির সামনে মারমারি হচ্ছে আর একজন লোক বাঁচার জন্য চিৎকার করতেছে। আমি স্থানীয় কিছু লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তখন সাংবাদিককে বাঁধা অবস্থায় গেঞ্জির ভেতরে ২ লিটারি মদের বোতল সহ নিয়ে তাকে ধরাধরি করে মেইন রোডে নেওয়া মাত্র পুলিশ আসে। এক প্রশ্নের জবাবে, ঐ সাংবাদিককে কারা হামলা করছে এবং তার সাথে কি হয়েছিল তা সবার সামনে পুলিশকে সাংবাদিক নিজে বলছেন। পরে পুলিশ তার পকেট থেকে ইয়াবার পোটলা উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

মামলার এজাহারে উল্লেখিত পুলিশ সাক্ষী সাবেক এএসআই মিথুন চক্রবর্তী'র কাছে জানতে চাইলে, তিনি মোবাইল ফোনে বক্তব্য দিতে অপারগতা দেখিয়ে ফাঁড়িতে গিয়ে সরাসরি আলাপ করার জন্য বলেন। এদিকে মামলার বাদী সাবেক এসআই মোঃ বাবুল মিয়াও একই সুরে বলেন, ঘটনাস্থলে থানা থেকে তিনি সহ রামদাস ফাঁড়ি পুলিশও গিয়েছিলেন। বিস্তারিত জানতে থানায় এসে ওসি সাহেবের সাথে কথা বলুন।

মাদক মামলার ঘটনায় মাদক সেবনের সার্টিফিকেটের বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডঃ মোঃ শফিউর রহমান বলেন, আমাদের এখানে ডোপ টেস্ট করানো হয় না। এছাড়া ১৬ এপ্রিলের ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে আবাসিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

এ বিষয়ে আবাসিক কর্মকর্তা ডাঃ দিদার বলেন, উপজেলা পর্যায়ে ডোপ টেস্ট করানোর সুযোগ নেই যেহেতু আমরা মাদক সেবনের সার্টিফিকেট দিতে পারি না। পুলিশ কিভাবে আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মাদক সেবনের সার্টিফিকেট সংগ্রহ করল সেই বিষয়ে আমার জানা নেই। এছাড়া তিনিও ১৬ এপ্রিলের ঘটনার বিষয়ে অবগত নন বলে জানান।

এ ঘটনার পরদিন ১৭ এপ্রিল বাঁশখালী থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কামাল উদ্দিন (বর্তমান সীতাকুণ্ড থানার ওসি) এক সাংবাদিককে বলেছিলেন, গতকালকে আমরা সেহেরীর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এই সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও চৌকিদার সহ অনেক লোকজন আমাকে ফোন দিয়ে বলে, স্যার সেহেরী খাওয়ার সময় এক লোক মদ খেয়ে মদ বিক্রি করতেছে আমরা তাকে ধরছি। পরে থানার মোবাইল টিমের ইনচার্জ গিয়ে দেখে ২ লিটার মদ, ১৫০ পিস ইয়াবা ও ১টি মোটরসাইকেল সহ জনগণ ধরে রাখছে। এই মনছুর আরো একাধিকবার ঐ স্থানে মদ বিক্রি করার সময় স্থানীয় কালীপুর ইউনিয়নের শাহাদত চেয়ারম্যান ওরে দৌড়াইছে, ধরতে পারে নাই। তার সাথে এক মহিলা ছিল তাকে ধরছে। এই মনছুর কক্সবাজার থেকে মদ নিয়ে এসে এখানে বিক্রি করে। পুলিশ না গেলে তাকে গণপিটুনি দিয়ে পিটাইতে পিটাইতে মেরে ফেলতো। ঐ চেয়ারম্যানে তাকে পাহারা দেয়, আমি পুলিশের ২টিম পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করছি, নইলে তাকে জায়গায় মেরে ফেলতো, বাঁশখালী এটা সেনসিটিভ এলাকা কিন্তু।

ওসির বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিক মোঃ মনছুর আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাবেক ওসি কামাল (বর্তমান সীতাকুণ্ড থানার ওসি) যে, ঘটনার সময় গণপিটুনি দিয়ে আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টার কথা বলল তা ঠিক। তবে আমাকে কোন চিকিৎসা করানো হয়নি কেন? চেয়ারম্যান, মেম্বার, চৌকিদার সহ জনগণের ফোনে পুলিশের ২টি টিম পাঠিয়ে আমাকে মদ খাওয়া অবস্থায় সেহেরীর সময় উদ্ধার এবং মদ, ইয়াবা ও মোটর সাইকেল সহ তারা আমাকে আটক করে রাখার যে কথাটি ওসি বলল, সেটা কোথা থেকে বলল আমার জানা নেই। এখানে আমার প্রশ্ন, তাহলে কারা আমাকে আটক করে হামলা করল এবং মদ ক্রেতারা কারা? সাবেক ওসি কামাল নিশ্চয় জানেন! তো সাবেক ওসি কামাল এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিল না কেন? এমনকি এ কথাটি ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাবেক মেম্বার আবু হেনা সহ শতাধিক জনতা ও মিথ্যা মাদক মামলার কথিত এজাহারে উল্লেখিত সাক্ষীরাও জানেন না বলে দাবী করছেন। এছাড়াও কথিত এজাহারে উল্লেখ আছে ৯৯৯ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। সাবেক ওসি কামাল যে বলল, আমি কক্সবাজার থেকে মদ নিয়ে এসে বিক্রি করার সময় চেয়ারম্যান শাহাদত আমাকে দৌড়ায়ে ধরতে পারেনি, এক মহিলাকে তারা ধরছে। অথচ আমি জানি যে, ২৭ মার্চ সকাল ১১টার দিকে একটা বিধবা মহিলাকে ধরে সাবেক এসআই শহীদের সহযোগিতায় সোর্সরা গণধর্ষণ ও মুক্তিপন নেওয়ার পর ছেড়ে দেয়। আর সেই মহিলা সাবেক ওসি কামালের কাছে আইনি সহযোগিতা চাইতে গিয়ে রোষানলে পড়েন। এ বিষয়ে তাকে আইনিভাবে সহযোগিতা করতে ১৩ এপ্রিল থানায় গিয়ে সাংবাদিক মোঃ  বেলাল উদ্দিন সহ আমাকেও পড়তে হয় পুলিশের রোষানলে। এছাড়াও ঐ মহিলাকে থানায় সাবেক ওসি কামাল কিভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাকে ও সাংবাদিক বেলালকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন, সব রেকর্ড তো আছে। এর ৩ দিন পরইতো গণপিটুনির নাটক সাজিয়ে রাত ১১টার পর চেকপোস্ট সরিয়ে আমাকে হত্যার চেষ্টা চালায়। আর শাহাদত চেয়ারম্যান আমাকে কেন পাহারা দেয় আর কখন দৌড়ালো তা আমি জানি না, অথচ সেটা সাবেক ওসি কামাল জানে! ঘটনা ঘটল ২নং ইউনিয়নে আর এখানে ৫নং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ভূমিকা কি? তবে এটা সত্য যে, আমার উপর হামলাকারীরা সকলেই কালীপুর ইউনিয়নের চিহ্নিত সন্ত্রাস, ডাকাত, কিশোর গ্যাং ও পুলিশের সোর্স। আমার মনে হয় এমন অবান্তর বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি মাতাল অবস্থায় ছিলেন, তাকে ডোপ টেস্ট করানো দরকার মনে করছি।

এছাড়াও সাংবাদিক মনছুরের উপরে চলে আসা দীর্ঘদিন ধরে পুলিশি হয়রানী ও নির্যাতন, হত্যাচেষ্টা এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি সহ অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবী জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানার জন্য বাঁশখালী উপজেলার ৫নং কালীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট আ.ন.ম শাহাদত আলমের মঠোফোনে একাধিক বার কল করেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

এ ব্যাপারে ঘটনাস্থল এলাকার ২নং সাধনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খোন্দকার মোঃ সালাহউদ্দিন কামাল জানান, ১৬ এপ্রিল রাতে দক্ষীণ সাধনপুর এলাকার বদর পীর শাহ মাজারের সামনে ঘটা ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তাই এই বিষয়ে ওসিকে ফোন দেওয়ার প্রশ্নই আসে না বলে জানান তিনি। 


ঘটনার পরপর সাবেক আনায়ারা-চন্দনাইশ-বাঁশখালী সার্কেল এএসপি কামরুল ইসলাম আরেক সাংবাদিককে বলেছিলেন, আমি বিষয়টি দেখতেছি। পরে তিনি থানা ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওসির সাথে একমত পোষণ করলে, তাকে পূর্বের ঘটে যাওয়া ঘটনা অবগত করে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সকল সংবাদের কপি দেওয়া হয়। অতঃপর তিনি বলেন আরেকটি নিউজ করে দেন। সেসময় পুলিশ সুপারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এছাড়াও, গত ১১ জুলাই (মঙ্গলবার) 'জাতীয় অর্থনীতি'র শেষ পাতায় প্রকাশিত "বাঁশখালীতে এসআই শহীদের যত অপকর্ম, অভয়দাতা ওসি কামাল" শিরোনাম এবং "মহিলা পুলিশ ব্যতীত দিনদুপুরে নারীকে টেনে হেঁচড়ে গাড়িতে উঠালেন ২ পুরুষ" উপ শিরোনামের সংবাদের ভিকটিমের মা জেসমিন আক্তার বাদী হয়ে সাংবাদিক মোঃ মনছুর আলম সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে সাইবার মামলা দায়ের করেন। ঐ সাইবার পিটিশন মামলা নং- ৩৮৯, তাং- ১১/০৭/২৩ইং এর তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজমের এসআই জুলফিকার হোসেন ৪ জন বিবাদী বরাবরে ১৭ আগস্ট নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশ গুলো বাঁশখালী থানাধীন রামদাস মুন্সিহাট ফাঁড়ির সাবেক এসআই শহীদ গোপন করেন বলে জানতে পারি। আমার বিরুদ্ধে আইসিটি মামলা হয়েছে সেটা অনেক আগে থেকেই আমি শুনেছি। তবে কি কারণে মামলা হল এবং কোথায় তদন্ত করছেন কিংবা কোন নোটিশ করছে কিনা তা জানতাম না। আমি পরে আনফিসিয়ালি ভাবে জানতে পেরে কাউন্টার টেররিজমে যোগাযোগ করে গত ২৩ আগস্ট উপস্থিত হই। মূলত রামদাস মুন্সি হাট ফাঁড়ির সাবেক এসআই শহীদ একেরপর এক অনিয়ম করে পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেই চলছে। সেই সাথে বাদী জেসমিনকে প্ররোচনা দিয়ে আইসিটি মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতেও পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার পায়তারা চালাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের কপি ও তথ্যপ্রমাণ আমার হাতে রয়েছে। তার এমন অপকর্মে সে কখনো একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা হতে পারে না, বরং সে পুলিশের ট্যাগ ব্যবহার করে নিজ স্বার্থ উদ্ধার ও বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত।

উক্ত প্রকাশিত সংবাদের সূত্রে, সাইবার মামলার বাদী জেসমিন আক্তারের মেয়ে ভিকটিম সুমাইয়া ঘর থেকে পালিয়ে গিয়ে রাশেদকে বিয়ে করে। বাদী জেসমিন আক্তার চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালীর কালীপুর ইউনিয়নের গুনাগরি এলাকার ১নং ওয়ার্ডের মতলব বাড়ী প্রবাসী ইউনুসের স্ত্রী। তার মেয়ের বিয়ের পর থেকে রাশেদের ঘরে সংসার করা অবস্থায় সাবেক এসআই শহীদ আরো পুলিশ নিয়ে ৬ মে সকালে জেসমিন আক্তারের সাথে বাহারছড়া গিয়ে সুমাইয়াকে তোলে আনে। সেই মুহুর্তের ধারণ করা ১ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে সাবেক এসআই শহীদের প্রকাশ্য অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় জাতীয় অর্থনীতিতে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর বেশ কয়েকটি অনলাইনে সূত্রমূলে সংবাদটি প্রকাশিত হয়। যে ভিডিওতে দেখা যায়, সাবেক এসআই শহীদের নেতৃত্বে কোন মহিলা পুলিশ ছাড়াই ২ পুরুষ দ্বারা দিনদুপুরে এক নারীকে টেনে হেঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে পুলিশবাহী সিএনজি গাড়িতে উঠিয়ে নেয়। একই সাথে ঐ নারীকে গালমন্দ করতে করতে সিএনজি গাড়ীর কাছে যায় সাবেক এসআই শহীদ ও তার সঙ্গীয় ফোর্স। এসময় পুলিশের পেছন পেছন ও আশপাশে এলাকার শতশত নারী পুরুষের ঢল নেমে আসে। এছাড়াও জেসমিন আক্তারের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় সাবেক এসআই শহীদ তার দায়িত্বরত এলাকা পেরিয়ে পুলিশ আইনকে উপেক্ষা করেও ভাইরাল হওয়া ভিডিওর দৃশ্যের মত এমন অপরাধ করতে দ্বিধাবোধ করেননি বলে প্রকাশ হয়।

অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে মামলা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জেসমিনের সাথে পুলিশের যোগাযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময় থানায় কিংবা ফাঁড়িতেও আসাযাওয়া করেন তিনি। সেই সূত্রে তার সাথে পুলিশের সাবেক এসআই শহীদের গভীর সম্পর্ক সহ তিনি একজন পুলিশের সোর্স হিসেবে জনশ্রুতি রয়েছে এলাকায়। এমনকি এই সাবেক এসআই শহীদ যেকোন কাজে জেসমিনকে সহযোগিতা করেন। এমনকি মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে জেসমিনের সাথে সাবেক এসআই শহীদ কোর্টে গিয়েও সহযোগিতা করেন বলে তথ্য রয়েছে।

বাদীনি জেসমিন আক্তার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, দীর্ঘদিন মামলার সূত্র ধরে বাঁশখালী থানার সাবেক ওসি কামাল (বর্তমান সীতাকুণ্ড থানার ওসি) ও সাবেক এসআই শহীদের সাথে তার সবসময় যোগাযোগ হয়। খবরটা প্রকাশ হওয়ার পর সাবেক ওসি কামাল তাকে ফোন করে জানান। মামলাটি হওয়ার পর তদন্তকারী অফিসার তাকে ফোন করে বিবাদীর মোবাইল নাম্বার চাওয়ায় তিনি রামদাস ফাঁড়ির সাবেক এসআই শহীদকে জানালে, নাম্বার না দেওয়ার জন্য নিষেধ করেন। এছাড়াও গত রমজানে ১৬ এপ্রিল রাতে সাংবাদিক মনছুরের নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে পুলিশ বলে এত মারধরের পরও তার শিক্ষা হচ্ছে না।

 

 


এ বিষয়ে সাংবাদিক মোঃ মনছুর আলম বলেন, জাতীয় দৈনিক অর্থনীতিতে প্রকাশ হওয়া সংবাদটিতে ভিকটিম সুমাইয়াকে প্রকাশ্যে শতশত লোকের সম্মুখে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানী ও সাবেক এসআই শহীদের আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হলেও ভিকটিমের মা জেসমিন আক্তার উলটো আমার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন। শুধু তাই নয়, মামলাটি তদন্তকারী কর্মকর্তা যেন মামলার বিষয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করতে না পারে। এবং আমাকে অবগত না করে গোপনে আমার বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করিয়ে গ্রেপ্তারি ফরোয়ানা জারীর চেষ্টাও করেছিল সাবেক এসআই শহীদ। পরে আমি খবর পেয়ে নিজেই তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে মামলার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ