পুঠিয়ায় পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে কিশোর নির্যাতনের অভিযোগ

আরিফুল ইসলাম রুবেল,পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি :
রাজশাহীর পুঠিয়ায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পুঠিয়া পৌরসভার মেয়র রবিউল ইসলামের নির্দেশে পৌরসভায় অস্থায়ী কর্মচারী সুমন নামের এক যিবক তাকে পিটিয়ে আহত করে মোটরসাইকেল কেড়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনায় পৌর মেয়র রবি তার কর্মচারী সুমনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) বেলা টার দিকে পুঠিয়া পৌরসভার সামনে পুঠিয়া আড়ানী সড়কে কিশোরকে পেটানোর ঘটনা ঘটে। এরপর ওইদিন সন্ধ্যায় কিশোরের বাবা মেয়রসহ দুজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। বিষটি তদন্ত করে ব্যপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহত কিশোরের নাম শেখ আবরার ইয়াসির (১৪) সে পৌরসভা সদর এলাকার মহিরুল ইসলামের ছেলে এবং পুঠিয়া পি এন উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণির ছাত্র। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, করোনার কারণে বাজারে দোকান সীমিত খোলা থাকায় বেলা ১২ টার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে দাদীর জন্য ওষুধ কিনতে বের হয় ইয়াসির। সে পৌরসভার সামনে এলে পৌর মেয়র রবিউল ইসলাম তাকে থামতে সিগনাল দেন। এসময় মোটরসাইকেল থামানো মাত্র সেখানে উপস্থিত সুমন তাকে মারধর করে মোটরসাইকেল কেড়ে নেয়। ইয়াসিরের বাবা মহিরুল ইসলাম জানান, পরিকল্পিতভাবে মেয়রের নির্দেশে তার ছেলেকে মারধর করা হয়েছে। ব্যবসা সংক্রান্ত টাকা-পয়সা নিয়ে পৌর মেয়রের সঙ্গে তার পূর্ব থেকেই দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো এরই জের ধরে ছেলেকে মারধর করে মোটরসাইকেলটি কেড়ে নিয়েছে। ইয়াসিরের বাবা আরও বলেন, আটককৃত মোটরসাইকেল খানা গত পাচঁ বছর আগে ৯৫,০০০/-টাকা দিয়ে ক্রয় করেছিলেন সাবেক যুবলীগ সভাপতির নিকট থেকে(বর্তমান পৌর মেয়র) কিন্ত কাগজপত্র গুলো এফিডেভিট করে দিতে তালবাহানা করছিলেন।তিনি এর সুষ্ঠ বিচার দাবী করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে মারধর করার বিষয়টি অস্বীকার করে পৌর মেয়র রবিউল ইসলাম জানান, ছেলেটি বেপরোয়া ভাবে সড়কে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলো। এসময় পৌরসভার সামনের দেয়ালের সাথে সে এক্সিডেন্টে করে আহত হয়। পৌরসভার কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করেছে এবং মোটরসাইকেলটি পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম জানান, ছেলেটি পুঠিয়া আড়ানী সড়কে রেজিস্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলো। তারা মোটরসাইকেল ধরে আমাদের খবর দিয়েছেন। আমরা মোটরসাইকেল উদ্ধার করে মামলা দিয়েছি। তবে মহিরুল ইসলাম মেয়রসহ দুই জনের বিরুদ্ধে তার ছেলেকে মারধর করার অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ওসি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য