নিজস্ব প্রতিবেদক,
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কক্সবাজারের পর্যটন জোনের প্রাণকেন্দ্র কলাতলীতে মেরিন ড্রাইভ সড়কের অধিগ্রহণকৃত সরকারি জমি ভুয়া খতিয়ানের মাধ্যমে কেনাবেচার এক ভয়াবহ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজার ভূমি অফিসের এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মচারী এবং বাহারছড়ার কুখ্যাত ভূমিদস্যু শামসুল ইসলাম পরিবারের সদস্যরা যোগসাজশ করে সরকারের কয়েক কোটি টাকার সম্পদ হাতিয়ে নিচ্ছে।
জালিয়াতির নেপথ্যে যা জানা গেছে
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঝিলংজা মৌজার বিভিন্ন দাগে এলএ মামলা নং ২৬/১৯৯৩-৯৪ইং মূলে মেরিন ড্রাইভ সড়কের জন্য সরকার জমি অধিগ্রহণ করে। নিয়ম অনুযায়ী এই জমি সরকারের মালিকানাধীন থাকলেও, জালিয়াতি চক্রটি গত ০৮-০২-২০১০ইং তারিখে প্রায় ৪০ শতাংশ জমি ৭৬৫৮নং খতিয়ানভুক্ত করে নিজেদের নামে রেকর্ড করে নেয়। পরবর্তীতে এই জমি ঢাকা ও কুমিল্লার বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে কম দামে বিক্রি করে প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়েছে।
যাদের নামে জালিয়াতির খতিয়ান হয়েছে
তথ্যমতে, জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্ট খতিয়ানগুলো ব্যবহার করে এরই মধ্যে জমির মালিকানা স্থানান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি খতিয়ান হলো:
খতিয়ান নং ২০১৬৯: মো. খালেদ গং
খতিয়ান নং ২০১১০: আবুল কালাম আজাদ গং
এছাড়া সিন্ডিকেটের মূল হোতা শামসুল ইসলাম পরিবারের সদস্যরা অবশিষ্ট জমি নিজেদের নামে আলাদা খতিয়ানে ভাগ করে নিয়েছে, যা বর্তমানে বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে:
ডা. ইব্রাহিম খলিল (খতিয়ান নং ১২৮১৭)
সাইফুল ইসলাম (খতিয়ান নং ১২৮১৮)
রবিউল ইসলাম (খতিয়ান নং ১২০৮৬ ও ১৯২৯৪)
কানিজ জহুরা (খতিয়ান নং ২০১৬৯)
সরকারি গেজেট ও বর্তমান অবস্থা
সরকারি গেজেট ও এলএ মামলার রেকর্ড অনুযায়ী, উল্লিখিত খতিয়ানের অধিকাংশ জমি মেরিন ড্রাইভের জন্য স্থায়ীভাবে অধিগ্রহণকৃত। আইনত এই জমি নামজারি বা বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। অথচ ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এই চক্রটি সাধারণ ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করছে।
কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ
এই জালিয়াতি রোধে এবং সাধারণ মানুষকে আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে ভূমি মন্ত্রণালয়, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক এবং ভূমি অধিগ্রহণ শাখার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই ভুয়া খতিয়ানগুলো বাতিল করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
সতর্কতা: সাধারণ ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে যে, ঝিলংজা মৌজার উল্লিখিত খতিয়ানভুক্ত জমি ক্রয়ের পূর্বে এর বৈধতা যাচাই করুন, অন্যথায় বড় ধরনের আইনি জটিলতা ও আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ