প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিদর্শন সংস্কার হচ্ছে ২৩ বছর আগের আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুরাতন ঘর


খাদেমুল মোরসালিন শাকীর, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
  

২৩ বছর আগে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের কাচারীপাড়ায় খাস জমিতে গৃহহীন ও ছিন্নমূল পরিবারের বসবাসের জন্য গড়ে তোলা হয় একটি আশ্রয়ন প্রকল্প। এ প্রকল্পে ঠাই হয় ৮০ টি অসহায় পরিবারের। তাদের প্রত্যেকের নামে ঘর বরাদ্দসহ দেয়া হয় জমির কাগজপত্র। 

এছাড়া প্রত্যেক উপকারভোগীদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য সমিতি গঠন করে পুকুরে মাছ চাষ ও ঋণের ব্যবস্থা করা হয়। তারা এসব সুযোগ সুবিধা নিয়ে হয়ে ওঠে স্বাবলম্বী। কিন্তু প্রকল্পটি ২৩ বছর আগে নির্মাণ হওয়ায় প্রকল্পের ব্যারাকের চালার টিন গুলো সংস্কার উপযোগী হয়ে পড়ে। সম্প্রতি এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নজরে আসে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প হতে গত ১৪ ফেব্রুয়ারী বিকালে ২ সদস্য বিশিষ্ট একটি দল সরেজমিন দেখার জন্য পাঠানো হয়। তারা পরিদর্শন শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, আমরা দেখে গেলাম। খুব দ্রুতই এ ব্যারাক গুলোর সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কিশোরগঞ্জের এ আশ্রয়ণ প্রকল্পটির সংস্কারের খবর শুনে আনন্দিত হয়ে পরে উপকারভোগীরা।

সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সালে এ উপজেলার ৮০টি পরিবারের আশ্রয়ণের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প হতে বাহাগিলী ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামে খাস জমিতে গড়ে তোলা হয় এ আশ্রয়ণ প্রকল্পটি। গৃহহীন ও ছিন্নমূল যাদের থাকার মত কোন জায়গা ছিল না এরকম ৮০ টি পরিবারকে এ প্রকল্পের ব্যারাকে ঘর ও খাস জমির কাগজপত্র তাদের নামে দেয়া হয়। ঋণের ব্যবস্থাসহ সমিতির মাধ্যমে পুকুরে মাছ চাষ করে করা হয় স্বাবলম্বীর ব্যবস্থা। ঋণ গ্রহণ ও পুকুরে মাছ চাষ করে সকলেই হয়ে উঠেছে স্বাবলম্বী। এ ছাড়া সরকারীভাবে শীতবস্ত্র, ভিজিডি, ভিজিএফসহ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সকল সুযোগ সুবিধা দেয়া হয় তাদেরকে। 

উপকারভোগীরা স্বাবলম্বী হলেও দীর্ঘ ২৩ বছর আগে প্রকল্পটি নির্মাণ হওয়ায় প্রকল্পের ব্যারাকের ঘরগুলোর টিন নষ্ট হয়ে পড়ে। টিন নষ্ট হওয়ায় উপকারভোগীদের বসবাসে একটু অসুবিধা হচ্ছিল। এ নিয়ে সম্প্রতি কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নজরে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ২ সদস্যের একটি দল এ প্রকল্পটি দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো হয়। তারা গত ১৪ তারিখ প্রকল্পের উপকারভোগীদের সাথে কথা বলেন। 

উপকারভোগীদের স্বাবলম্বী হওয়ার চিত্র দেখেন। বসবাসরত উপকারভোগীরা ঘরের চালাগুলো নিজ উদ্যোগে সংস্কার না করায় টিনগুলো নষ্ট হয়ে যায়।  উপকারভোগীদের সাথে কথা বলার সময় তারা জানান, এ খবর প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার সাথে সাথে আমাদের বাস্তব চিত্র দেখার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্পটির চালাগুলো অতিদ্রুত সংস্কার হবে বলে তারা জানান। এসময় গণমাধ্যম কর্মীরা উপজেলার আরও যে ২টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ব্যারাক রয়েছে এগুলো সংস্কার করার প্রয়োজন রয়েছে অবগত করলে তারা পরবর্তীতে এ ২টি প্রকল্প সংস্কার করার কথা বলেন।

নীলফামারী জেলার জেলা প্রশাসক মোঃ হাফিজুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার রহমান ও উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আরিফুল ইসলাম এ প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খন্দকার মোঃ নাহিদ হাসান,উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকসানা বেগম,বাহাগিলী ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান শাহ্ দুলু,চাঁদখানা ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজার রহমানসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীগণ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ