গরিবের ভাইজান’ মিজান: লড়াই থেকে নেতৃত্বের পথে এক মানবিক গল্প



বাসটার্মিনাল পূর্ব লারপাড়ার মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন ব্যবসায়ী নন, ভরসার আরেক নাম। মিজানুর রহমান। স্থানীয়রা ডাকেন ‘গরিবের ভাইজান’ বলে। এস কে গেস্ট হাউজের স্বত্বাধিকারী এই তরুণ উদ্যোক্তা এবার ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তার গল্পটা শুরু রাজনীতি দিয়ে নয়, সংগ্রাম দিয়ে।

অল্প বয়সেই সংসারের হাল ধরতে হয় মিজানকে। ছোটবেলায় নানা পেশায় কাজ করেছেন। কখনও দিনমজুরি, কখনও ছোটখাটো ব্যবসা। সেখান থেকে ধীরে ধীরে দাঁড় করান একটি ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পরে ব্যাংক ঋণ নিয়ে বাড়ান ব্যবসার পরিধি। বর্তমানে ঘরভাড়া, গাড়িভাড়া ও হোটেল ব্যবসা মিলিয়ে একটি স্থিতিশীল অবস্থানে পৌঁছেছেন বলে জানান তিনি।কিন্তু এলাকার মানুষের কাছে তার পরিচিতি গড়ে ওঠে অন্য কারণে। 

রাম্তাঘাটের সংস্কার কাজে সহযোগিতা, স্থানীয় মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা, এতিম শিশুদের পড়ালেখার খরচ বহন এসব উদ্যোগ তাকে আলাদা করে তুলে ধরে। হতদরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়ের আয়োজনেও পাশে দাঁড়িয়েছেন একাধিকবার। কেউ প্রকাশ্যে বলতে চায় না, কিন্তু অনেকেই স্বীকার করেন, বিপদের সময় দরজায় কড়া নাড়লে মিজান ফিরিয়ে দেন না।

৬০ বছর বয়সী রহিমা খাতুন বলেন, “এবার বাজারের যে অবস্থা, দুবেলা ভাতের চিন্তা ছিল। মিজান ডেকে নিয়ে ইফতার সামগ্রী দিয়েছে, চিকিৎসার খরচও দিয়েছে। তাই আমরা তাকে গরিবের ভাইজান বলি।”

লারপাড়ার বাসিন্দা আব্দু সালাম বলেন, “এলাকার উন্নয়নে যাকে দরকার, সে মাঠে আছে। গরিবের জন্য যে ভাবে, তাকে আমরা প্রতিনিধি হিসেবে চাই।”

স্থানীয়দের একটি অংশের এমন অনুরোধের পরই নির্বাচনে আসার সিদ্ধান্ত নেন মিজান। শুরুতে রাজি না হলেও সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চাপে শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। 

এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে।মিজান বলেন, “অতীতেও কিছু কুচক্রী মহল মামলা-হামলার ভয় দেখিয়েছে। এখনো চেষ্টা করছে। তবে মানুষের ভালোবাসাই আমার শক্তি। আমি যা করেছি, প্রকাশের জন্য করিনি।”

তার দাবি, ব্যবসা থেকে যে আয় হয় তার একটি অংশ নিয়মিতভাবে অসচ্ছল মানুষের জন্য ব্যয় করেন। “এলাকার মানুষ জানে আমি কোথায় দাঁড়িয়ে আছি,” বলেন তিনি।

ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচন সামনে রেখে এখন আলোচনায় মিজানের নাম। সমর্থন ও সমালোচনা দুই-ই বাড়ছে। তবে লারপাড়ার গলি থেকে রাম্তাঘাটের পাড় পর্যন্ত একটি বিষয় স্পষ্ট, এই নির্বাচন কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয়; একজন মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম আর সামাজিক সম্পৃক্ততারও পরীক্ষা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ