নীলফামারীতে গোপনে মাদ্রাসার দুইটি পদে নিয়োগ সুপারের পলায়ন বিপাকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা


রংপুর ব্যুরো অফিসঃ

দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে বিভিন্ন মাদ্রাসার নিয়োগ বানিজ্য চলে আসছে, এর ধারাবাহিকতায় ০২ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার নীলফামারী জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে তৃতীয় তলার হলরুমে নিরাপত্তা কর্মী ও আয়া পদে লিখিত পরীক্ষার জন্য ১০ জন পরীক্ষার্থী নিয়ে আসে নীলফামারী সদর টুপামারী ইউনিয়নের নিত্যানন্দী পাটোয়ারী পাড়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি হাবিবুর রহমান সেবু ও মাদ্রাসা সুপার ময়নুল ইসলাম। 

এই খবর জানা জানি হলে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে না পারা পরীক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ নিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলামের দ্বারস্ত হন ও স্থানীয় সংবাদ কর্মীদের প্রশ্নের মুখে পরীক্ষা স্থগিতের নোটিশ না দিয়ে তরিঘরি করে অফিস বন্ধ করে সরকারি কলেজে কাজ আছে বলে সরে পড়েন জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম, এর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পরীক্ষার সকল আয়োজন ছেড়ে একটি দালাল চক্রের সহায়তায় দ্রুত পালিয়ে যান মাদ্রাসার সভাপতি হাবিবুর রহমান সেবু ও মাদ্রাসা সুপার ময়নুল ইসলাম। 

পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে না পারা মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ ময়নুল ইসলাম, আকবর আলী নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধের জন্য লিখিত অভিযোগ করেছে  জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর। নিয়োগ পরীক্ষা অংশ গ্রহন করতে না পারা আকবর আলী বলেন, মাদ্রাসা সুপার ও সভাপতি ৬ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে হাফিজুল ইসলামকে নিরাপত্তা কর্মী পদে নিয়োগ দেবার প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করে ফলেছে, আমাদেরকে জানতে না দিয়ে অতি গোপনে দালাল চক্রেরের মাধ্যমে জেলা শিক্ষা অফিসকে ম্যানেজ করে লোক দেখানো নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগের বৈধতা দেবার চেষ্টা করছে। 

অথচ আমরা ৩০ থেকে ৩৫ জনের মত বেকার যুবক নিরাপত্তা কর্মী পদে আবেদন করি। মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, প্রতি পদে নিয়োগ পাইয়ে দেবার জন্য ৬ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহন করেছে নিত্যানন্দী পাটোয়ারী পাড়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি হাবিবুর রহমান সেবু ও মাদ্রাসার সুপার ময়নুল ইসলাম। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম মুঠো ফোনে বলেন, আসলে আমি একজন সদস্য পরীক্ষা কমিটির, পরীক্ষা বন্ধের মালিক মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেবু। নিয়োগ পরীক্ষা দিতে না পারা পরীক্ষার্থীরা আরো বলেন, একটি দালাল চক্র এ ভাবে গোপনে নিয়োগ পরীক্ষার ব্যবস্থা করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। 

এতে চাকুরী থেকে বঞ্চিত হয় আমাদের মত হাজারো বেকার যুবক, এর আগেও এই শিক্ষা অফিসের ভিতর গত ৩ মাসে ৫০টি নিয়োগ বানিজ্য হয়েছে বিভিন্ন পদে। এ বিষয়ে নিত্যানন্দী পাটোয়ারী পাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার ময়নুল ইসলাম ও সভাপতি হাবিবুর ইসলাম সেবু কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরীক্ষা শুরুর সময় বিকাল ৩টা থাকলেও ৪টা ৩০মিনিটে পরীক্ষার সকল আয়োজন সম্পন্ন করে জেলা শিক্ষা অফিস।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য