কিশোরগঞ্জে আগুনে পুড়ে গেছে ৪ ভাইয়ের বাড়ী,১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি


খাদেমুল মোরসালিন শাকীর, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়নের রূপালী কেশবা গ্রামে একই পরিবারের ৪ ভাইয়ের বাড়ী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামালসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বৃস্পতিবার রাতে মৃত আজগর আলীর স্ত্রী হাফিজা বেগম (৬০) রাতের রান্না শেষে এশার নামাজ পড়তে যায়। ফরজ নামাজ শেষে থাকা ঘর থেকে রান্না ঘরে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে নামাজ ছেড়ে দিয়ে হাউমাউ করে আগুন আগুন বলে চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে এসে প্রায় আধ ঘন্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। 

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যথা সময়ে উপস্থিত হতে না পারায় ৪ পরিবারের ১০টি ঘর,২টি গরু ২টি ছাগলসহ ঘরে থাকা নগদ টাকা স্বর্ণালংকার ও হাস মুরগী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রনে আসার প্রায় আধ ঘন্টা পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরে যাওয়া আসবাবপত্রে পানি দেয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের উপর চড়াও হয়। 

পরে কিশোরগঞ্জ থানার এস আই আব্দুল ওহাব ক্ষুব্ধ জনতাকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এতে মৃত আজগার আলীর ছেলে উপজেলার তারকা ফুটবলার সিরাজুল ইসলাম সিরাজের (২৫) নতুন আসবাবপত্রসহ তার স্ত্রীর গহনা ও ৩০ হাজার টাকা,আজিজুল ইসলামের (৩৭) গোয়াল ঘরে থাকা ১টি গরু ও ২টি ছাগলসহ ঘরের সমস্ত আববাবপত্র, এনামুল হোসেনের (৩৫) একটি থাকা ঘর ও আসবাবপত্র এবং রেয়াজুলের (২৭) ঘরের সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়েছে। 

ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক উপস্থিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারের সাথে কথা বলে শান্তনা দেন সদর ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুল ইসলাম আনিছ। ওই এলাকার আবু রায়হান জানান,প্রায় ১০ মিনিট ফায়ার সার্ভিসের মোবাইল ফোনে চেষ্টা করে ওয়েটিং থাকায় খবরটি দিতে দেরী হয়। এলাকাবাসীর দাবী সরকারী ফোন কি কারণে এত ওয়েটিং থাকে তা জানা যায়নি।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত ষ্টেশন অফিসার দারাজুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,আপনি মানুষের কথা শুনে নাচিয়েন না। আপনি কালকে অফিসে এসে অফিসের কল লিষ্ট চেক করবেন।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকসানা বেগমের সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খবর নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারের সদস্যদের পার্শ্ববর্তী স্কুলে থাকতে বলা হয়েছে। আগামী কাল সকালে ওই পরিবার গুলোর মাঝে প্রয়োজনীয় শুকনা খাবার ও অন্যান্য সরঞ্জামাদী দেয়া হবে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য