মেধাবী সন্তানের বাবার স্বপ্নভঙ্গ; কাদঁছে বাবা

মোঃ কামরুল ইসলাম কামু পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ  
আশার প্রদীপ যেনো নিভে গেলো দিনমজুর বাবার চার মেধাবী মেয়ের। অনিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের উচ্চ শিক্ষার পথও। চারটি গরু লালনপালন করে বড় করে বিক্রি করে মেয়েদের বিয়ে ও পড়াশোনার খরচ যোগানোর কথা ছিল দিনমজুর ওই পরিবারের। 

কিন্তু এক রাতেই তাদের সে স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের টুনিরহাট ঘটবর এলাকার দিনমজুর আনিসুর রহমান। স্ত্রী ও ৪ কন্যার সংসারে ১০ শতক জমির ভিটেমাটি আর ৪টি গরুই একমাত্র সম্পদ।

গত মঙ্গলবার রাতে প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যমানের ৪টি গরুই চুরি হয়ে যায়। গরু চুরির পর দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওই পরিবারটি।পিকআপে করে সংঘবন্ধ একটি চোরচক্র তালা ভেঙ্গে গরুগুলো চুরি করে নিয়ে যায়।আনিসুর রহমানের চার মেয়ের বৃত্তির টাকা, টিউশনির টাকা, বাড়ির জমানো টাকায় এই গরুগুলো কেনা হয়েছিল। 

মেয়েরা ৪/৫ বছর আগে ১৫/২০ হাজার টাকা করে একেকটি গরু কিনে বাবাকে দিয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার রাতে পরিবারের সকলেই খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়ে। আনিসুরের স্ত্রী আয়েশা বেগম ভোরে নামাজ পড়তে উঠে দেখতে পান গরুর ঘরে গরু নেই। এটা দেখে তিনি চিৎকার করতেই আশপাশের লোকজন এসে জড়ো হয়ে অনেক খোঁজাখুজি করেও গরুগুলোর কোন সন্ধান পাননি।


আনিসুর রহমান জানান, মেয়েদের বৃত্তির টাকা এবং বাড়ির কিছু টাকা যোগ করে ৪ টি গরু কেনা হয়। এগুলো লালন পালন করে এখন বড় করেছি। ১ টি বিদেশি গরুসহ মোট ৪ গরুর বাজার মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা হবে। আমার মেয়েগুলোর স্বপ্ন ছিল গরুগুলো বড় করে বিক্রি করে যে টাকা আসবে তা দিয়ে তাদের লেখাপড়ার খরচ ও বিয়ের খরচ জোগাড় করা হবে। কিন্ত আমার ও আমার মেয়েদের সব স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে। 

মেয়েরা হতভম্ব হয়ে গেছে। দুঃশ্চিন্তায় নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। বিষয়টি আমরা পুলিশ সুপার মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করেছি। অবশ্য পুলিশ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল বিভাগের ছাত্রী রোমানা আক্তার জানান, গরুগুলো আমরা কিনেছিলাম যেন বিপদের সময় বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করতে পারি। 

এখন আমাদের আর কিছু রইলো না। সামনে আমার পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করতে ১২ হাজার টাকা লাগবে। সেই টাকা কোথায় পাবো ভেবে পাচ্ছি না। করোনার মধ্যে এমনিতে আমাদের টানাপোড়েনে দিন যাচ্ছে। এখন সব কিছু অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, ওই পরিবারের ৪টি গরু চুরির ঘটনাটি আমরা তদন্ত করছি। আমরা চোর চক্রটিকে ধরার জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছি।
আনিসুর রহমানের পরিবারের চার মেধাবী সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে আফসানা খাতুন এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর ইংরেজি বিষয়ে অনার্স সম্পন্ন করেন। 

মাস্টার্স পড়া অবস্থায় সম্প্রতি তার বিয়ে দিয়েছেন। মেজ মেয়ে রোমানা আক্তার এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ উত্তীর্ণ হয়। সে এখন রংপুর মেডিকেল কলেজে ডেন্টাল বিভাগে তৃতীয় বর্ষে পড়ছে। 

সেজ মেয়ে লাবনী আক্তার এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং এইচএসসিতে জিপিএ-৪ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। সে এখন রংপুর আইএইচটিতে রেডিওলোজি নিয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে। এছাড়া ছোট মেয়ে রিপা আক্তার পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য