নীলফামারী জলঢাকা উপজেলা সড়ক ও ড্রেনের কাজের অনিয়মের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি ঃ
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার পৌরসভার প্রানকেন্দ্র জিরো পয়েন্ট মোড় থেকে উপজেলা কমপ্লেক্স হয়ে মাথাভাঙ্গা এলাকার আউলিয়াখানার দোলা পর্যন্ত সড়ক ও ড্রেনের নির্মাণ কাজের অনিয়ম অভিযোগ পাওয়ায় সরেজমিনে এসে পরিদর্শন করলেন জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি ( জাইকা) এর প্রতিনিধি দল। 

মঙ্গলবার দুপুরে এ প্রতিনিধি দলটি কাজের মান পরিদর্শনের শুরুতেই স্থানীয়, পথচারীসহ বিভিন্ন পেশার লোকজনের মুখে নানান প্রশ্নের সম্মুখীন হন। ঠিকাদারি প্রতিষ্টান ও পৌর কতৃপক্ষের উপর অভিযোগ এনে এসময় তারা প্রতিনিধি দলটিকে জানান, নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ সমাপ্তির পরিকল্পনা করায় আমরা বাধা দিলে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখায়।

৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খায়রুল কবীর রানা'স কনস্ট্রাকশন এ নির্মাণ কাজটি করছে। এর মধ্যে রয়েছে ড্রেনের দৈর্ঘ্য ১৩ শত মিটার । রাস্তার দৈর্ঘ্য ১ হাজার ২২ মিটার এবং প্রস্থ ১৩ ফিট। ড্রেনের সঙ্গে নির্মান করা হবে ফুটপাত ও ইউনিব্লোক। 

যুবলীগ নেতা সাইফুর রহমান পিকু বলেন, জলঢাকার প্রাণকেন্দ্র উপজেলা সড়কটি সংস্কার ও ড্রেন নির্মান কাজ ধীরগতিতে হওয়ায় অনিয়ম সৃষ্টির কারনে জনগণকে মারাতœক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

রাস্তার পাশে অবস্থানরত ডে-নাইট ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী মতিউর রহমান জানান, ড্রেনের কাজ শুরু থেকে শেষের পথে এলেও ইঞ্জিনিয়ার বা জাইকার প্রতিনিধি দলের কাউকে চোখে পড়েনি। 

রিক্সা চালক মিজানুর রহমান জানায়, ধীরে ধীরে সড়কটির কাজ হওয়ায় আমরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছি।  এছাড়াও অনেকের অভিযোগ, কাজটির মান নিয়ে সকলের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কাজের পরিপত্র অনুযায়ী যেখানে বালু এবং খোয়ার অনুপাত থাকবে সমানে সমান। সেখানে বালুর পরিমাণ বেশি দিয়ে খোয়ার পরিমান দিয়েছে কম।   

ডাব্লিউবিএমবিসিতে খোয়ার সাইজ হবে ৪ ইঞ্চি। সেখানে গোটায় গোটায় ইট ফেলে রোলার দিয়ে ডলতে দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান,পানি যাওয়ার ফুটো (গ্রেটিং) রাস্তা থেকে দেড় ইঞ্চি নিচে থাকার কথা কিন্তু বাস্তবে কোথাও কোথাও এক থেকে দেড় ফিট উচুতেও এ গ্রেটিং এর অবস্থান রয়েছে। তারা জানান, যেভাবে ড্রেন হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। বর্ষাকালীন সময় এ রাস্তা দিয়ে চলাচলে চরম ভোগান্তীতে পড়তে হবে।

পৌরসভার প্রকৌশলী ছাইদুর রহমান বলেন, গ্রেটিং গুলোতে যে ভিড্রেন করা হয়েছে, সেখানে সলিং করা হবে হাফ মিটার। পানি আটকানোর কোন মানেই হয় না। যেখানে উচু গ্রেটিং রয়েছে সেটা কেটে ফিনিশিং করা হবে। 

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর বলেন,এ কাজটি নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে হয়েছে, তা ছয়মাসে ঠিকবে কী না সন্দেহ। জাইকার টাকা লুটপাট হচ্ছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে এ কাজটি নিয়ে। 

জাইকা (নবিদেপ) দিনাজপুর প্রতিনিধি দলের প্রধান আবাসিক প্রকৌশলী নুর আলম, এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন,কাজ করতে গেলে কিছু ত্রুটি থাকে। তবে তেমন কোন ত্রুটি পাইনি। যে সব জায়গায় বেশি করে বালি ফেলেছে সেখান থেকে বালিগুলো সড়িয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছি।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রফিকুল ইসলাম বলেন,ডিজাইন ও প্রোফেশন অনুযায়ী কাজ করেছি। যারা কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য