মিঠাপুকুরের পৈশাচিক নির্যাতন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন

রুবেল ইসলাম রংপুরঃ
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ উত্তর পাড়ায় মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনে গুরুত্বর আহত শামসুল হক ভুট্টো নামে এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায়  মারা গেছেন। 

গত ২২ এপ্রিল এ  একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় মিঠাপুকুর থানা পুলিশ চারজনকে আটক করেন।

আলোচিত ঘটনাটি ঘটে উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের রংগাতি পাড়ায় রবিবার রাত ৩টায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শামসুল আলম ভুট্টো নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে মধ্য যুগীয় কায়দায় পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়-২০১৪ সালের মামলাকে কেন্দ্র করে শামসুল আলম ভুট্টো কে আটক করে শহিদুল ইসলাম এর পরিবার। প্রথমে তাকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন ও পরে হাত পিছনে বেঁধে ও পা বেঁধে বেধড়ক মারপিট করা হয়। 

ভুট্টোর চিৎকারে তার মা এগিয়ে আসলে তার নাকে মুখে এলোপাতাড়ি ঘুসি মারে শহিদুলের পরিবারের লোকজন। আরো জানা যায়- শহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শেফালী বেগম এর সঙ্গীয় বাহিনী ভাইরা রাজু ও তার স্ত্রী বেবি,মেয়ে শিরিনা, জামাই আনিসুল ও সাহাবুল সহ বেধড়ক মারপিট করে। 

ঘটনার ভিডিও করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয় সদর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক খন্দকার মিলন। পড়ে ভিডিওটি তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক khandokar milon নামে আইডিতে পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয়। 

সদর উপজেলা  প্রেসক্লাবের  সাধারণ সম্পাদক খন্দকার জানায়- তিনি তার শ্বশুড়বাড়িতে বেড়াতে আসলে হঠাৎ রাতে আত্মচিৎকারে শব্দ শুনে বাইরে বের হন। এতে এগিয়ে গিয়ে বাধা প্রদান করেন কিন্তু তার বাধা অতিক্রম করেই বেধড়ক মারপিট করতে থাকে সন্ত্রাসী শহিদুলের বাহিনী। 

শহিদুলের স্ত্রী শেফালী বেগম জানায়- রাতে ভুট্টো তার বাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা কালে হাতেনাতে ধরে তাকে মারধর করা হয়। কারণ দীর্ঘদিন ধরে সে তার পরিবারের উপর বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার করে আসতেছে। 

তার বাগানের আম গাছ কেটে ফেলা, বাড়িতে ইট দিয়ে ঠেলা, মা ও মেয়েকে ধর্ষণ করার হুমকি এবং নাতিকে জবাই করার প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছে। তার অত্যাচার সহ্য করতে না পারে মসজিদে কয়েকবার বিচার এবং চেয়ারম্যান এর মাধ্যমে বিচার করা হয়েছে। তা না মেনে বসে তার পরিবারের উপর নির্যাতন করছে'' বিধায় রাতে তাকে ধরে মারপিট করা হয়"।

ভুট্টোর মা আম্বিয়া বেগম  জানায়- এলাকাবাসী ডাকে ও  ছেলের চিৎকারে এগিয়ে গেলে তিনিও সন্ত্রাসী বাহিনী শহিদুল এর কাছে মারপিটের শিকার হন। তাদের এলোপাতাড়ি ঘুষিতে নাক ফেটে রক্ত বেরিয়ে যায়।

মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ জাফর আলী বিশ্বাস জানান-৯৯৯ থেকে ফোন আসার পর পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। 

সেখান থেকে পুলিশ ভূট্টকে উদ্ধার করে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। 

আটককৃতরা হলেন শহীদুল ইসলাম, বড় মেয়ে শিরিনা বেগম ও জামাতা আনিসুল ইসলাম। পরে থানার গেট থেকে ভাইরা রাজুকে আটক করা হয়। ঘটনায় ভুট্টোর ভাই দুলাল মিয়া বাদী হয়ে একটি মামলা রুজু করেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য