কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর তুলা চাষীদের সারা বছরের উৎপাদিত ফসল বর্তমানে ঈদুরের বসত ঘর


মো: মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামঃ চলমান করোনা পরিস্থিতির কারনে থমকে গেছে বিশ্ব। করোনা ভয়ংকর থেকে অা ভয়ংকর রুপ নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে শ্রমজীবী মানুষ সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের জীবনে। ব্যাহত হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সবার প্রত্যাশা দূর হবে করোনা কেটে যাবে অন্ধকার। নতুন সূর্য্যের আলোয় আলোকিত হবে বিশ্ব। এদিকে করোনার পরিস্থিতির অবনতিতে  ভালো নেই কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার তুলা চাষীরা। লকডাউনের কারনে তারা বিক্রি করতে পারছেন না তাদের উৎপাদিত তুলা। সারা বছরের পরিশ্রমের উৎপাদিত ফসল বর্তমানে ইঁদুরের বসতঘর। উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালাটারি গ্রামের তুলা চাষী- জয়নাল আবেদীন, সুলতান আলী ইউসুফ আলী বলেন, আমরা বছর এই এলাকার  চল্লিশ জন কৃষক তুলা উন্নয়ন বোর্ডের পরামর্শে প্রায় ৫৮ বিঘা জমিতে তুলা চাষ করেছি। সঠিক পরিচর্যার করতে পারায় ফলনও ভালো হয়েছে। আমরা সকল তুলা চাষী ফসল বাড়ীতে তুলেছি। তবে বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারনে তুলা উন্নয়ন বোর্ড আমাদের কাছ থেকে তুলা কিনছেন না। অন্যদিকে ঘরে রাখা তুলার বস্তায় ইঁদুরের উপদ্রব শুরু হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের কষ্টের ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। তারা আরও বলেন, আমাদের অনেকেই অন্যের জমি বর্গা নিয়ে তুলা চাষ করেছে। আর জমির মালিক ফসল ঘরে তোলার পর থেকে টাকার জন্য চাপও দিচ্ছে। তুলা বিক্রি করতে না পারলে আমরা কিভাবে টাকা দিব। তুলা চাষ করেই চলে আমাদের জীবন-জীবিকা। তুলা বিক্রি করতে না পারায় বর্তমানে আমাদের করুণ অবস্থায় দিন যাপন করতে হচ্ছে। আর তুলা উন্নয়ন বোর্ড ছাড়া অন্যকারো কাছে তুলা বিক্রির সুযোগ না থাকায় তাদের উৎপাদিত তুলা দ্রুততম সময়ে ক্রয়ের জন্য তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কাছে দাবি জানান তারা।  বিষয়ে উপজেলা কটন ইউনিট অফিসার লুৎফর রহমান বলেন, বছর আবওহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলায় লক্ষ্য মাত্রার চেয়েও অধিক তুলা (৫০০ মণ) উৎপাদিত হয়েছে।করোনা সংকটের মধ্যেও আমরা কৃষকের উৎপাদিত তুলা কেনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছি। চলতি মাসেই সকলের তুলা ক্রয় হবে বলে আশা করা যায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য