শিশুপুত্রকে নিয়ে স্বামী পলাতক সৈয়দপুরে অন্তঃসত্বা গৃহবধু হত্যার বিচার দাবিতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

মিজানুর রহমান মিলন স্টাফ রিপোর্টারঃ যৌতুকের দাবিতে পাষন্ড স্বামীর নির্যাতনে হত্যার শিকার এক সন্তানের জননী গৃহবধু লাবলী বেগমের (৩২) হত্যার বিচার ও যৌতুকলোভী পাষন্ড স্বামী একরামুল হক চৌধুরীকে গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মৃতের পরিবার।  আজ বুধবার বিকেলে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল হাজীপাড়ায় লাবলীর পিতার বাড়িতে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় পাষন্ড একরামুলের কাছে থাকা লাবলীর ৭ বছরের শিশু পুত্র লাবিবকে উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মেয়ে লাবলীকে হত্যার বিচার দাবু করে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন লাবলীর হতভাগ্য পিতা সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারি মোঃ আব্দুল হাফিজ (৭০)। পরে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য উপস্থাপন করেন লাবলীর বড় বোন রেখা আক্তার ও ভগ্নিপতি মো. আমজাদ হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মৃত লাবলীর মা রশিদা আক্তার, ভাই মমিনুল ইসলাম, নওশাদ আলী, শরিফুল আলমসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং এলাকবাসি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় প্রায় ১০ বছর আগে সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ঝাড়ুয়া পাড়ার (চৌধুরীপাড়া) মৃত আজিজুল হক চৌধুরীর পুত্র একরামুল হক চৌধুরীর সাথে পারিবারিভাবে বিয়ে হয় লাবলীর। সেসময় সংসার সাজাতে যা,প্রয়োজন তার সবগুলোই দেয়া হয়। এমনকি  নগদ টাকাও দেয়া হয় সে সময়। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই একরামুলের বোন ও দুলাভাইসহ পরিবারের অন্যান্যদের কু পরামর্শে পুনরায় যৌতুকের দাবিতে লাবলীর ওপর নির্যাতন শুরু হয়। এরই মধ্যে লাবলীর কোলজুড়ে আসে শিশুপুত্র। লাবিব নামে ওই হতভাগ্য সন্তানের বয়স এখন ৭ বছরেরও বেশী। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় যৌতুকের কারণে প্রায় সময় ঝগড়া করতো একরামুল। এনিয়ে পারিবারিকভাবে বেশ কয়েকবার শালিস বৈঠকও হয়। এক পর্যায়ে একরামুল চাকুরির সুবাদে তাঁর বোন লাবলীকে নিয়ে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার প্রফেসর পাড়ায় বসবাস শুরু করে। কিন্তু সেখানেও চলে তার ওপর শারিরীক ও মানসিক নিযাতন। এ অবস্থায় গত ১ এপ্রিল যোতুকলোভী স্বামী একরামুল লাবলীকে মারপিট করে বিরামপুরের বাসা থেকে তাড়িয়ে দিলে কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল হাজিপাড়ায় পিতার বাসায় চলে আসে সে। সেখানে একমাস অবস্থান করার পর আবারও লাবলী বিরামপুরে স্বামীর বাসায় যায়। সেখানে দুইদিনের মাথায় গত ৩ মে লাবলীর সাথে আবারও ঝগড়া শুরু করে একরামুল। পরে বেদম মারপিট করা হয় তাঁকে। এক পর্যায়ে সঙ্গে  মারা গেলে একরামুল লাবলীকে ঝুলিয়ে রেখে প্রচার চালায় সে নাকি আত্মহত্যা করেছে। আর তাঁকে সহযোগিতা করেছে
বিরামপুরে বসবাসকরা একরামুলের বোন রোজিনা ও দুলাভাই মোস্তাফিজুর। আর একরামুলকে বিভিন্ন সময় কু পরামর্শ দিয়েছে  তার বোন ও তাদের বিয়ের ঘটক শিউলি বেগম।  সংবাদ সম্মেলনে এমনই অভিযোগ করা হয় তাদের বিরুদ্ধে। লাবলীর বোন রেখা আক্তার ও দুলাভাই মো. আমজাদ আলী জানান, ওইদিন লাবলীর ভাড়াবাসার মালিকের দেয়া ফোনে তারা জানতে পারেন লাবলী মারা গেছে। পরে সেখানে উপস্থিত হলে দেখা যায় লাবলীর লাশ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানে একরামুলের পক্ষে প্রভাবশালী একটি মহল হত্যাকে অাত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় লাবলী অন্তঃসত্বা ছিল। ঘটনার পর থেকেই যৌতুকলোভী পাষন্ড স্বামী একরামুল শিশুপুত্র লাবিবকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এমনকি ময়নাতদন্ত থেকে শুরু করে লাশ দাফন পর্যন্ত একরামুলসহ তাঁর পরিবারের কোন সদস্যই উপস্থিত ছিলেন না। সংবাদ সম্মেলনে মৃত লাবলীর বাবা আব্দুল হাফিজ মা রাশেদা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এসময় তারা লাবলী হত্যার সুষ্ঠু বিচারের জন্য পাষন্ড স্বামী একরামুলসহ জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান। একইসাথে একরামুলের কাছে থাকা শিশুপুত্র লাবিবকে উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় বিরামপুর থানায় ওইদিনই লাবলীকে আত্মহত্যার প্ররোচনায় হত্যার অভিযোগে একটি মামলা করা হয়। মামলাটি করেন লাবলীর পিতা আব্দুল হাফিজ। মামলায় শারিরীক নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যার প্ররোচনা করে হত্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে আসামি করা হয়েছে একরামুলকে।এ ব্যাপারে বিরামপুরে প্রফেসর পাড়ার (বসুন্ধরা) একরামুলের ভাড়া বাসার মালিক মো. রুহুল আমিনের সাথে বুধবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন আমি আমার অন্য বাসায় থাকি। লোকমুখে খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখি মানুষজনের জটলা। পরে দেখা যায় লোকজন চিলেকোটার ঘরের দরজা ভেঙ্গে লাবলীকে উদ্ধার করছে। সাথে সাথে থানায় খবর দেয়া হলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এসময় নির্যাতনকারী পাষন্ড স্বামী একরামুল ছিলনা বলে জানান তিনি। ধারণা করা হচ্ছে ঘটনা ঘটার সাথে সাথে একরামুল লোকজনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে গেছে। এ বিষয়ে  আজ বুধবার রাতে মুঠোফোনে কথা হয় বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো.মনিরুজ্জামান মনিরের সাথে। তিনি বলেন এ ঘটনায় থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা জানতে মৃতের লাশের ময়নাতদন্ত
করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টে হত্যার বিষয়টি আসলেই মামলাটি হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হবে। তিনি বলেন মামলাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত  করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মামলার আসামিকে গ্রেফতারের জোর প্রচেস্টা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন একরামুলের কাছে থাকা শিশুপুত্র লাবিবকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এজন্য সব ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য