নীলফামারীতে চওড়া ইউনিয়নে করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়ায় -অনেকেই অনাহারে, অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।


রংপুর  ব‍্যুরো অফিস ঃ  নোভেল করোনা ভাইরাস এর কারনে সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়ার কারণে চওড়া বড়গাছা ইউনিয়নে স্থায়ী বাসিন্দারা কষ্টে দিন যাপন করতেছে। অনেকেই অর্ধাহারে অাবার কেউ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। নোভেল করোনা ভাইরাস সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যেই সারা বিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছে। এ থেকে বাদ পড়েনি বাংলাদেশ। দেশে ২৬ মার্চ থেকে টানা ছুটি চলছে। জনসাধারণকে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। নীলফামারীর সদর উপজেলার চওড়া বড়গাছা ইউনিয়নে কাঞ্চনপাড়ায় সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, মধ্যবিত্ত আর দরিদ্র মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় তাদের মধ্যে অনেকের ঘরে চুলা জ্বলছে না। সাম্প্রতিক সময়ে নোভেল করোনা ভাইরাস এর কারনে কর্মহীন হয়ে পড়ায় অনেকে অনাহারে অাবার অর্ধাহারে অনেকের দিন কাটতেছে। অনেক কষ্টে তারা জীবন যাপন করতেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ার কারনে তাদের ভাগ্যে জুটতেছে না কোন ত্রাণ। সরকারের ত্রাণের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা শহরের মধ্যে ত্রাণ দিলেও গ্রাম প্রত্যন্ত অঞ্চলে কেউ লক্ষ্য রাখছে না বলে জানান অনেকেই। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সরকারি ত্রান আসলেও গুষ্টিকয়েক পাচ্ছে মাত্র, অনেকেই ত্রানের মুখ দেখতে পাচ্ছে না বলে দাবি করেন উক্ত এলাকাবাসী। চওড়া বড়গাছা ইউনিয়নের( ৫ ও ৬) নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা ভ্যান চালক মাজিদুল ইসলাম ও রশিদুল ইসলাম,সুবান, কামাল, আলমগীর বলেন, ভ্যান চালিয়ে কোন মত সংসার চালাতাম কিন্তু এখন ভ্যান চালাতে না পেরে অনেক কষ্টে দিন যাপন করতে হচ্ছে। কখনো না খেয়ে পার করতে হয় দিন, অনেকেই ত্রান পেয়েছে শুনেছি কিন্ত আমি পাইনি। ৫ নং ওয়ার্ডের মুন্সিপাড়ায় মোঃ বাবলু, মোঃ আলামিন, আব্দুল ময়েন বলেন, মানুষের জমিতে কাজ করে কোন মতো দিন চালাতাম কিন্ত এখন অন্যের বাসায় কাজ ও করতে পারিনা, তাই অনেক কষ্টে দিন যাচ্ছে। মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশের একজন বলেন, গতকাল থেকে না খেয়ে আছি কোন উপায় নাই কি করে খাবো। ক্ষুধার যন্ত্রনায় পেট জ্বলছে। সরেজমিনে আরো দেখা যায়, অনেকেই ব্যবসা করত, মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় করে সম্মানের সঙ্গে সংসার চালাতো। নিজেরাও পথেঘাটে ভিক্ষুকদের সাহায্য করত। কিন্তু সবকিছু বন্ধ থাকায় আজ তার নিজের সংসার চলছে না। বলতে পারছে না আত্মীয় বা প্রতিবেশীদের। কারণ তারাও মোটোমুটি এভাবেই জীবিকা নির্বাহ করে। তারা পথে বের হয়ে বলতে পারছে না ‘আমার শিশুটি কাঁদছে, ঘরে খাবার নেই’। তাই অর্ধাহারে অনাহারে কাটছে তাদের দিন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য