কে এই আমিনুল হক, বাঁকখালী নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের নাটের গুরু

আব্দুল আলীম নোবেলঃ
কক্সবাজার সদর উপজেলায় বাঁকখালী নদীস্থ ঝিলংজা ইউনিয়নের দরগা মকবুল সওদাগর পাড়া, চড় পাড়া, চেয়ারম্যান পাড়া সহ বিভিন্ন স্থানে দিবারাত্রী অবৈধ বালু উত্তোলনের এক মহাযজ্ঞ চলছে। বছরের পর বছর এই অবৈধ বালি উত্তোলন করে গেলেও এখানে রয়েছে প্রশাসনের রহস্যজনক নিরব ভূমিকা। এসব বালি উত্তোলন করে এ এলাকার কয়েকশত একর ফসলি জমি নষ্ট হয়েছে। এতে রাজস্ব খাতে কোটি কোটি টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। এই অবৈধভাবে বালি উত্তোলন বন্ধে এলাকার সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বরাবর একাদিক লিখিত অভিযোগ করলেও তার কোন সুরহা মিলছে না। নিরুপায় হয়ে একজন সচেতন এলাকাবাসী বালি উত্তোলন বন্ধে কক্সবাজার আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন সহ যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধের ব্যবস্থার জন্য কক্সবাজারের রামু থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি)কে নির্দেশ দেন। আদালতের এই আদেশ অমান্য করায় ঐ ওসিকে আদালতে উপস্থিত হয়ে স্বশরীরে ব্যাখ্যা প্রদানের আদেশ প্রদান করলেও তিনি তাহাও অমান্য করেন। এই বিষয়ে রামু থানার ওসি আবুল খায়ের এর কাছে জানতে চাইলে, আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক তিনি আগামীকাল সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন বলে জানান।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় খরুলিয়ার পূর্ব মুক্তারকুল এলাকার বাসিন্দা আব্দু শুক্কুরের ছেলে আমিনুল হক ও ওয়েস্ট্রার্ন কোম্পানীর টিকাদার বর্তমানে গা ঢাকা দেওয়া শাহাজাহান সহ আরো বেশকয়েকজনের কতিপয় সিন্ডিকেট পরস্পর যোগসাজশে অবৈধভাবে বাঁকখালী নদীর ঐ স্থান গুলো থেকে বালি উত্তোলনের কাজ অব্যাহত রেখেছে। অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের এ মহাৎসব চলতে থাকলে কয়েক গ্রামের বাসিন্দা চাষাবাদের জমিও নদী ভাঙ্গণের কবলে পার্শ্ববর্তি ঘর-বাড়ী ও মসজিদ-মত্তবের সহ বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, অবৈধভাবে বালি উত্তোলনকারী আমিনুল হক এর উপর কেউ কথা বলার সাহস পায় না। তার এসব কু-কর্মের নেপথ্যে কে রয়েছেন এই নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন অর্ধশতাদিক বালির ডাম্পার যোগে বিভিন্ন স্থানে বালি পাচার হলেও যেন দেখার কেউ নাই।

এই বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি এই বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান। অপর দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য