কক্সবাজারের গোমাতলীতে যে কোন সময় ঘটতে পারে প্রাণহানীসহ মারাত্মক দূর্ঘটনা

দিদারুল আলম সিকদারঃ
ছবিতে দৃশ্যমান জরাঝীর্ণ ও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজটি কক্সবাজার সদরের পোকখালী ইউনিয়নের গোমাতলী ব্রীজ নামেই পরিচিত। প্রায় শোয়াশত ফুট দৈর্ঘ্যের মাঝে মাঝে পাঠাতন উঠে যাওয়া এবং জনজীবন প্রতিনিয়ত সংকটে রাখা এই ব্রীজটিতে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার লোক যাতায়ত করে। এটি মুলত ইউনিয়নের ৭,৮ও ৯ নং ওয়ার্ডের তথা ইউনিয়নের এক তৃতীয়াংশ জনগন ও আয়তনের সংযোগ স্থল এই সংকটাপন্ন ব্রীজটি। ইউনিয়নের এক তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠীর কক্সবাজার ও ঈদগাও যাওয়ার একমাত্র এবং বিকল্পহীন পথ এটি। এই ব্রীজ দিয়েই প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে চলছে সাধারন যানবাহন। এই পথ দিয়েই চলছে মালবাহী গাড়িও। ব্রীজের পাটাতন গুলি ভেঙ্গে গিয়ে চরম ঝুঁকিতে থাকলেও কোন পদক্ষেপ নেই কর্তৃপক্ষের। 

ইতিপূর্ব­ে ব্রীজটির এমন করুন দশা সরেজমিনে পরিদর্শনে এসেছিলেন স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি সহ উর্ধ্বতন মহলের লোকজন। এছাড়া এই সংকটাপন্ন ব্রীজটি নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়েও নিউজ হয়েছে বেশ কয়েকবার। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করেছে বারং বার। কিন্তু আশার বানী ছাড়া চোখে পড়ার মতো এখনো পর্যন্ত কাজের কাজ তেমন কিছু হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। শোনা যাচ্ছে আগামী মাস পাঁচেকের মধ্যেই ব্রীজটি টেন্ডারে যাবে। কিন্তু ততদিনে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজ দিয়ে কিভাবে মানুষ এবং সাধারণ যান বাহন চলাচল করবে সেটাই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অভিমত, স্থায়ী ঢালাই ব্রীজ নির্মান না হওয়া পর্যন্ত পাঠাতন গুলি তুলে নিয়ে দ্রুত মেরামত না করলে যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের দূর্ঘটনায় প্রাণ হানী হবে এটা শতভাগ নিশ্চিত বলা যায়। যে কোন যাত্রী ব্রীজের পাশে আসা মাত্রই ভয়ে তটস্থ হয়ে যায় এবং ব্রীজের কাছে আসা মাত্রই ভয়ে যানবাহন থেকে নেমে যেতে বাধ্য হয়। এমতাবস্থায় মানবিক বিবেচনায় মারাত্মক ঝুঁকি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট, স্থায়ী ব্রীজ নির্মান না হওয়া পর্যন্ত দ্রুত পাঠাতন তুলে নতুন পাঠাতন স্থাপনের জন্য জরুরী ব্যবস্থা করার দাবী জানান স্থানীয়রা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য