Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

স্বামীর হত্যার বিচার চাইতে এসে মেয়ের ধর্ষণের বর্ণনা দিয়ে ট্রাইব্যুনালে কাঁদলেন এক নারী

স্বামীর হত্যার বিচার চাইতে এসে মেয়ের ধর্ষণের বর্ণনা দিয়ে ট্রাইব্যুনালে কাঁদলেন এক নারী

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত এক ব্যক্তির স্ত্রী। সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ার সময় তিনি জানান, স্বামীর হত্যার বিষয়ে তদন্তকারীদের কাছে বক্তব্য দিতে তিনি যখন ঢাকায় ছিলেন, তখন পটুয়াখালীর দুমকিতে তার মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এই ঘটনার পর তীব্র মানসিক আঘাতে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেন।

সাক্ষী ওই নারী জানান, তার স্বামী একটি এনজিওর চালক ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ জুলাই মারা যান। স্বামীর মরদেহ বুঝে পেতে তাকে বনানী ও মোহাম্মদপুর থানায় একাধিকবার যাতায়াত করতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ৩১ জুলাই মরদেহ বুঝে পান এবং পরদিন দাফন সম্পন্ন হয়।

ট্রাইব্যুনালে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত বছরের ১৭ মার্চ তিনি যখন ঢাকায় তদন্তকারীদের সাথে কথা বলতে আসেন, তখন তার এইচএসসি পরীক্ষার্থী বড় মেয়ে বাড়িতে ছিলেন। বাবার কবর জিয়ারত করে ফেরার পথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা তাকে ধর্ষণ করেন বলে তিনি দাবি করেন। ওই নারী বলেন, তিনি সাক্ষ্য দিতে ঢাকায় আসার কারণেই তার মেয়ের ওপর এই পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। ধর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়লে লোকলজ্জা ও মানসিক যন্ত্রণায় তার মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

উল্লেখ্য, ঢাকার মোহাম্মদপুরে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় নয়জনকে হত্যার ঘটনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি করা হয়েছে। সাক্ষ্যের শেষ পর্যায়ে ওই নারী তার স্বামীর হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

সংক্ষেপে:
জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত স্বামীর বিচার চাইতে এসে ট্রাইব্যুনালে মেয়ের ধর্ষণের করুণ কাহিনী শোনালেন এক মা। পটুয়াখালীতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়ে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে সাক্ষ্যে জানান তিনি।
স্বামীর হত্যার বিচার চাইতে এসে মেয়ের ধর্ষণের বর্ণনা দিয়ে ট্রাইব্যুনালে কাঁদলেন এক নারী

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ