মো. সাদিকউর রহমান শাহ্ স্কলার, রংপুর ব্যুরোঃ নীলফামারীতে ছয় লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধর, পেটে লাথি ও গলা চেপে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় ওই গৃহবধূর বাবা- মাকেও মারধর ও গলা চেপে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে নীলফামারী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মোছা. মিম আক্তার (২০)। তিনি নীলফামারী পৌরসভার প্রগতিপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মো. আহসান হাবিব চৌধুরী (ইমনের) স্ত্রী।
লিখিত অভিযোগে মিম আক্তার উল্লেখ করেন, প্রায় ছয় মাস আগে মুসলিম শরিয়া মোতাবেক আহসান হাবিব চৌধুরীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে সংসার করার সময় যৌতুকের টাকার জন্য স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রত্যক্ষ মদদে তাকে একাধিকবার মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর মিম আক্তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। গত ৩১ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে বাবা মো. মতিয়ার রহমান ও মা মোছা. সামসুন নাহার রিনাকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে গেলে তার স্বামী বাবার কাছে ছয় লাখ টাকা যৌতুক দাবী করেন। তার বাবা যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ সময় ঘটনার প্রতিবাদ করায় এক নারী আত্মীয় মিম আক্তারের চুলের মুঠি ধরে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তার স্বামী তাকে গর্ভবতী অবস্থায় তলপেটে লাথি মারেন বলেও অভিযোগ করেন মিম। এতে তার তলপেটে ব্যথা ও রক্তপাত শুরু হয় বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর স্বামী তাকে মাটিতে ফেলে গলা চেপে ধরেন। বাবা-মা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে তাদেরও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার মাকে গলা চেপে ধরার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে মিম আক্তার, তার বাবা ও মাকে জোরপূর্বক আটকে রেখে তালাকের কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় মিম তার পরিচিত এক নারীকে ফোন করে বিষয়টি জানালে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
পরে মিম আক্তারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার বাবা- মা তাকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার গর্ভের ভ্রূণ ও গর্ভফুল বের হয়ে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মিম আক্তার তার স্বামী মো. আহসান হাবিব চৌধুরী (ইমন), শ্বশুর মো. শাহ আলম চৌধুরী, শাশুড়ি মোছা. আলেয়া চৌধুরীসহ আরও তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন।
নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


0 মন্তব্যসমূহ