জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় আগামী বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে হতে যাওয়া নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থীদের জন্য নতুন শক্তির উৎস হয়ে উঠতে পারে। নাৎসিবাদের ইতিহাসের কারণে জার্মানি দীর্ঘকাল কট্টর ডানপন্থীদের ক্ষমতার বাইরে রাখার চেষ্টা করলেও সাম্প্রতিক এই ফল সেই ধারায় বড় পরিবর্তন আনল।
ইউরেশিয়া গ্রুপের ইউরোপবিষয়ক বিশ্লেষক মুজতবা রহমান জানিয়েছেন, উন্নত ইউরোপ বর্তমানে এক ধরনের রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকারগুলো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও অন্যান্য উদ্বেগ নিরসনে ব্যর্থ হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এএফডির অভিবাসনবিরোধী ও জনতুষ্টিবাদী বক্তব্য এখন ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনের জাতীয়তাবাদী নেতাদের সুরের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।
জার্মানিতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও উচ্চ বেকারত্ব এএফডির জয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। নির্বাচনে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ভোট পেয়েছে দলটি। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় এবং অন্যান্য দল জোটে রাজি না হওয়ায় এএফডির সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এএফডিকে ‘সন্দেহভাজন’ উগ্রপন্থী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এদিকে ফ্রান্সে আগামী বসন্তের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী নেতা মারিন লো পেনের জয়ের সম্ভাবনা বাড়ছে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক ফিলিপ মারলিয়ের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জার্মানি ও ফ্রান্সে যে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য ছিল, তা এখন হুমকির মুখে। অন্যদিকে ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির জনপ্রিয়তা বজায় থাকলেও সেখানে আরও কট্টরপন্থী নেতাদের উত্থান ঘটছে। তবে হাঙ্গেরিতে ভিক্তর অরবানের পরাজয় মূলধারার রাজনীতিকদের কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে।
জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্টে কট্টর ডানপন্থী দল এএফডির বড় জয় ইউরোপের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস দিচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অভিবাসন ইস্যুতে ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালিতেও বাড়ছে ডানপন্থীদের সমর্থন।



0 মন্তব্যসমূহ