প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিক (রা.) হিজরি ১৩ সনের জমাদিউস সানি মাসে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁর অবর্তমানে নবীন রাষ্ট্রের কাণ্ডারি হিসেবে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে পরবর্তী খলিফা হিসেবে মনোনীত করেন। মাত্র দুই বছর তিন মাসের শাসনামলে আরবের বুক থেকে গৃহযুদ্ধ ও ধর্মত্যাগের উত্তাল ঝড় থামিয়ে স্থিতিশীল রাষ্ট্রের ভিত্তি দাঁড় করানোর পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। তৎকালীন আরব সমাজে গোত্রপ্রীতি এবং রাজনৈতিক অনৈক্যের আশঙ্কা থাকলেও আবু বকর নিজের পরিবার বা গোত্রের কাউকে উত্তরাধিকারী করার কথা ভাবেননি এবং তাঁর নিজের যোগ্য সন্তানেরাও মদিনায় উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও স্বজনপ্রীতির কোনো আশ্রয় নেননি। আবু বকর নিজে কোরাইশের বনু তাইম গোত্রের এবং ওমরের শেকড় বনু আদি গোত্রে থাকায় তাঁদের মধ্যে নিকটাত্মীয়তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। ইসলামি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গবেষকদের মতে, এটি রাজতান্ত্রিক যুবরাজ প্রথার সঙ্গে সম্পর্কহীন, বরং সংকটকালে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তিকে বাছাই করার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ছিল। ওমরের কঠোর মেজাজ নিয়ে অনেকের সংশয় থাকলেও আবু বকর জানতেন এই তেজ ন্যায়ের প্রশ্নে অবিচল থাকার শক্তি। পারস্য ও রোমের মতো আগ্রাসী শক্তিগুলোর মোকাবিলায় ওমরের চেয়ে আপসহীন ব্যক্তিত্ব দ্বিতীয় কেউ ছিলেন না। ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, ওমর ছিলেন প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী এবং রাসুল (সা.) তাঁকে উম্মতের প্রজ্ঞাবান মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। খলিফা আবু বকরের শাসনামলে ওমর তাঁর প্রধান রাজনৈতিক পরামর্শক ছিলেন এবং জনস্বার্থে খলিফার সামনে দ্বিমত পোষণ করতে পিছপা হননি। আবু বকর অসুস্থ হওয়ার পর প্রথমে ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে চাইলেও সাহাবিরা বিভেদের আশঙ্কায় তাঁকেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করেন। এরপর আবু বকর আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রা.) ও ওসমান ইবনে আফফান (রা.)-সহ মদিনার শীর্ষ নীতিনির্ধারক সাহাবিদের সঙ্গে দীর্ঘ পরামর্শ করেন। আব্দুর রহমান ইবনে আওফ ওমরের কঠোরতার কথা উল্লেখ করলে আবু বকর জানান যে নেতৃত্বের দায়ভার নিজের কাঁধে পড়লে ওমর নমনীয় হয়ে যাবেন। ওসমান ইবনে আফফান ওমরের যোগ্যতার উচ্চ প্রশংসা করেন। আনসার ও মুহাজিরদের শীর্ষ প্রতিনিধিদের এই আস্থার পর আবু বকর চূড়ান্ত দলিল প্রস্তুত করেন, যা শুরার গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছিল। ঐতিহাসিকদের মতে, ওমরের এই মনোনয়ন কোনো স্বৈরতান্ত্রিক ফরমান ছিল না।
প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিক (রা.) অসুস্থ হওয়ার পর নিজ পরিবার বা গোত্রের কাউকে উত্তরাধিকারী না করে শুরার ভিত্তিতে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে পরবর্তী খলিফা হিসেবে মনোনীত করেছিলেন।



0 মন্তব্যসমূহ