Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

ইসলামে হাঁচি দেওয়ার আদব ও সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন

ইসলামে হাঁচি দেওয়ার আদব ও সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন

হাঁচি মানবদেহের একটি স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া, যার মাধ্যমে শ্বাসনালির ক্ষতিকর ধূলিকণা ও জীবাণু দ্রুত বাইরে নিষ্ক্রান্ত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি মানবদেহের জন্য স্বস্তির হলেও ইসলামের দৃষ্টিতে এর প্রকাশভঙ্গিকে শালীন ও নিয়ন্ত্রিত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। হাঁচির সময় মুখ খোলা রাখলে জীবাণু ও লালার কণা অন্যের গায়ে ছিটকে পড়তে পারে এবং বিকট শব্দ আশপাশের মানুষের অস্বস্তির কারণ হতে পারে। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি (সা.) যখন হাঁচি দিতেন, তখন হাত বা পরিধেয় কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখতেন এবং হাঁচির শব্দ নিচু ও সংযত রাখতেন। ইসলামে হাঁচিকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। হাঁচির পরে দোয়া পাঠ এবং এর উত্তর দেওয়ার বিষয়ে ইসলামে সুনির্দিষ্ট আদব ও নিয়ম রয়েছে। হাঁচি আসার প্রক্রিয়াটি মানুষের ইচ্ছাধীন না হলেও হাঁচির পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা সম্পূর্ণ মানুষের ইচ্ছাধীন আমল। রাসুল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, হাঁচিদাতা যেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলেন। এরপর উপস্থিত ভাই বা সঙ্গীর ওপর তার জবাব দেওয়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বা ওয়াজিব। হাদিস অনুযায়ী শ্রোতা বা সঙ্গী তখন ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলবে। তবে হাঁচিদাতা যদি মুখে আল্লাহর প্রশংসা উচ্চারণ না করে, তবে শ্রোতার জন্য অন্ধভাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা বাধ্যতামূলক নয়। একবার রাসুলের মজলিসে উপস্থিত দুজনের একজন হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বললেও অপরজন তা না বলায় নবীজি প্রথম জনের হাঁচির জবাব দিলেও দ্বিতীয় জনের কোনো জবাব দেননি এবং কারণ জানতে চাওয়ায় তিনি তা বুঝিয়ে বলেন। ঠান্ডা বা অ্যালার্জির কারণে কারও উপর্যুপরি হাঁচি আসতে থাকলে তিনবার পর্যন্ত জবাব দেওয়ার বিধান রয়েছে। এর বেশি হলে তা সাধারণ সর্দি হিসেবে গণ্য হয় এবং তখন চাইলে জবাব দেওয়া বা বিরত থাকা যায়। এছাড়া অমুসলিম ব্যক্তি হাঁচি দিলে ইসলাম মানবিক সদাচরণ ও হেদায়েত কামনার শিক্ষা দেয়। মদিনার ইহুদিরা নবীজির সামনে এসে ইচ্ছা করে হাঁচি দিলে তিনি তাদের জবাবে হেদায়েতের দোয়া করতেন। তবে নামাজের বিধান সম্পূর্ণ আলাদা। নামাজে মানুষের স্বাভাবিক কথাবার্তা বা হাঁচির জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা বৈধ নয়। সাহাবি মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম আস–সুলামি (রা.) একবার নামাজের মধ্যে এক ব্যক্তির হাঁচির জবাবে কথা বলে ফেললে নবীজি তাঁকে স্নেহের সাথে তা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, নামাজের ভেতর হাঁচির জবাবে এ জাতীয় শব্দ বললে নামাজ ভেঙে যায়। তবে নামাজরত অবস্থায় নিজের হাঁচি এলে মুখ ঢেকে নেওয়া এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে আলহামদুলিল্লাহ বের হয়ে গেলে নামাজ নষ্ট হয় না। আলেম ও প্রাবন্ধিক নাহিদা সুলতানা এসব ইসলামি শিষ্টাচার ও আদব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

সংক্ষেপে:
ইসলামে হাঁচি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট আদব ও নিয়ম রয়েছে। হাঁচির পর আলহামদুলিল্লাহ বলা এবং তার জবাব দেওয়ার নিয়মসহ বিভিন্ন বিধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
ইসলামে হাঁচি দেওয়ার আদব ও সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ