ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলার দাবি করেছে। সোমবার সকালে চালানো এই হামলায় কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। খামিস মুশাইত এলাকায় অবস্থিত এই ঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে এবং গোলাবারুদ গুদাম লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। হুথিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সৌদি বিমান হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই হামলার ঘটনার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ খামিস মুশাইতসহ দক্ষিণাঞ্চলের চারটি এলাকায় সংক্ষিপ্ত রেড অ্যালার্ট জারি করে। এর আগে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালির প্রবেশদ্বারের কৌশলগত পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয় হুথিরা। একই সময়ে সৌদি আরবের ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট তৈল পাইপলাইন’ ড্রোন হামলায় বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ৪ শতাংশ কমেছে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড গড়ে গ্যালনপ্রতি ৬.২৩ ডলার ছাড়িয়েছে। রিয়াদ এই পাইপলাইন হামলার জন্য ইরাকভিত্তিক ইরান সমর্থিত যোদ্ধাদের দায়ী করেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওমানে জিসিসি দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের নির্ধারিত বৈঠক শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ বদর আলবুসাইদি বৈঠক স্থগিতের কথা জানালেও ইরান দাবি করেছে, সৌদির অনুরোধেই এটি পেছানো হয়েছে। অন্যদিকে, প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগে ৭৭টি আন্তর্জাতিক জাহাজকে ব্ল্যাকলিস্ট করেছে ইরান। ইয়েমেন ইস্যুতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান সরাসরি মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ চাইলেও ট্রাম্প প্রশাসন তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যে, নভেম্বরের নির্বাচনের পর এই যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটবে এবং জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।
সৌদি আরবের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।



0 মন্তব্যসমূহ