Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

বান্দরবানের সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চলে চলছে অবাধে গাছ কাটা ও কাঠ পাচার

বান্দরবানের সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চলে চলছে অবাধে গাছ কাটা ও কাঠ পাচার

বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে নির্বিচারে গাছ কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বন বিভাগের থানচি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেনের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ও অনুকম্পায় কাঠ পাচারকারীরা এই বনাঞ্চল ধ্বংস করে চলেছে। বনদস্যুদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নিয়ে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। কার্যকর আইনি পদক্ষেপের অভাবে বনাঞ্চল দ্রুত সংকুচিত হয়ে পড়ছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। সরেজমিন তদন্তে দেখা যায়, থানচি রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয় ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছাকাছি গড়ে ওঠা 'এসবিএম ইটভাটা'য় বনের কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় স্কুলশিক্ষক জানান, প্রতিদিন শত শত ঘনফুট কাঠ পোড়ানো হলেও বন বিভাগ নীরব রয়েছে এবং রেঞ্জ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এসব কাঠ সরবরাহে অলিখিত অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, অসাধু চক্রটি বন্ধ থাকা 'জোত পারমিট'-এর সুযোগ নিয়ে বনের কাঠ বান্দরবান সদর ডিপোতে নিয়ে ট্রানজিট পাসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করছে। একসময়ে সাঙ্গু নদীর দুই তীরে গোদা, গর্জন, চম্পা, জারুলসহ নানা শতবর্ষী গাছের সমারোহ থাকলেও পাচারকারীদের তাণ্ডবে তা আজ ধ্বংসের মুখে। ১৮৮০ সালে ঘোষিত এই বনাঞ্চলের আদি আয়তন প্রায় ৮২ হাজার ৮০ একর হলেও পরবর্তীতে তা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে থানচি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল সাঙ্গু রিজার্ভ ফরেস্ট রক্ষায় বন বিভাগের নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সংক্ষেপে:
বান্দরবানের সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নির্বিচারে গাছ কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, থানচি রেঞ্জ কর্মকর্তার যোগসাজশে এই অবৈধ কারবার চলছে।
বান্দরবানের সাঙ্গু সংরক্ষিত বনাঞ্চলে চলছে অবাধে গাছ কাটা ও কাঠ পাচার

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ