কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আধিপত্য বিস্তার ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বাড়াদি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুষ্টিয়া জেলা শাখার ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক এবং আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় একটি ফুটবল খেলার উদ্বোধন শেষে মিজানুর ও তাঁর সমর্থকরা একটি দোকানে বসেছিলেন। এ সময় কয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি কেরামত আলী ও তাঁর ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি মাসুদ রানার নেতৃত্বে একদল লোক দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা মিজানুর ও তাঁর সমর্থকদের কয়েকটি বাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর চালায় এবং তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ঠেকাতে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ইউনুস আলী জানান, এটি কোনো রাজনৈতিক ঘটনা নয়। মিজানুর রহমান আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে দল পরিবর্তন করেছেন। মূলত একটি নৌকা ভাঙাকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে এই হামলার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর বাড়িতে হামলা ও তিনটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক আধিপত্য নাকি ব্যক্তিগত বিরোধ, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।



0 মন্তব্যসমূহ