দেশে চলমান গ্যাস-সংকট কিছুটা কমে আসায় শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে শুরু করেছে। গত কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর রোববার থেকে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী ও হবিগঞ্জের অনেক কারখানায় কাজ শুরু হয়েছে। তবে ঢাকার বাইরে বিদ্যুতের লোডশেডিং পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিল্প উদ্যোক্তারা।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দেশে দৈনিক ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ বাড়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। গত শনিবার সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনাল পুরোপুরি এবং এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল আংশিক চালু হওয়ায় সরবরাহ বেড়েছে। শুক্রবার সরবরাহ ১৭৩ কোটি ঘনফুটে নামলেও রোববার তা ২২৯ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে।
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হওয়ায় তাদের বন্ধ থাকা কারখানাগুলো সচল হচ্ছে। টি কে গ্রুপের পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা হায়দার জানান, ঢাকার আশপাশের কারখানা চালু হলেও লোডশেডিংয়ের কারণে ঢাকার বাইরে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল জানান, হবিগঞ্জে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও নরসিংদী ও গাজীপুরে বিকল্প উপায়ে উৎপাদন চালানো হচ্ছে। আর্টিসান সিরামিকসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মামুনূর রশীদ জানান, গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লেও তা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনের জন্য এখনো পর্যাপ্ত নয়।
এদিকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট পুরোপুরি সমাধানে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে সময় লাগার কারণে দ্রুত সমাধান সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, গ্যাসের চাপ বাড়লেও লোডশেডিংয়ের কারণে ডিজেল জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। গত ২১ জুলাই একটি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছিল।
দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় উৎপাদনে ফিরতে শুরু করেছে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো। তবে ঢাকার বাইরে লোডশেডিং অব্যাহত থাকায় এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি উৎপাদন প্রক্রিয়া।



0 মন্তব্যসমূহ