মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছেন। শুক্রবার নিউইয়র্কের একটি পুলিশ একাডেমিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর খুব শীঘ্রই এই প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ট্রাম্পের এই হুমকির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একে ‘অর্থহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছে তেহরান। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, কোনো টুইট বা নির্বাচনী ভাষণ দিয়ে হরমুজ প্রণালী দখল করা সম্ভব নয়। এটি ইরানের ছিল এবং ইরানেরই থাকবে। দেশটির বিচার বিভাগের প্রধানও ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। বর্তমানে ইরান ও ওমানের মধ্যে এই জলপথের চলাচল ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
আইন বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এই দাবির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রুস ফেইন জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এককভাবে কোনো ভূখণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংযুক্ত করার সাংবিধানিক ক্ষমতা নেই। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ নাটালি ক্লেইনও মনে করেন, একতরফা ঘোষণায় সার্বভৌমত্ব পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সমর্থকদের সন্তুষ্ট করতেই ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এই যুদ্ধ নিয়ে জনসমর্থন কম এবং জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন চাপের মুখে রয়েছে।
হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই দাবিকে অর্থহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক আইন ও বাস্তবতার নিরিখে ট্রাম্পের এই বক্তব্য নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।



0 মন্তব্যসমূহ