দেশের চলমান জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল’ গঠনসহ চার দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। জামায়াতের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার অধীনে জরুরি সংস্কার ও ওয়ার্কওভার কাজের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের পরিচালনা পর্ষদকে প্রদান করা। এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কবে নাগাদ উৎপাদনে আসবে এবং এর ট্যারিফ কত হবে, সে বিষয়ে জনগণকে স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। দলটির অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে জরুরি দরপত্র মূল্যায়নের জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং অগ্রাধিকারভুক্ত প্রকল্পগুলোর জন্য একক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা, যাতে কোন ফাইল কোথায় কতদিন আটকে আছে তা নিয়মিত প্রকাশ করা যায়। সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া চ্যালেঞ্জের জবাবে বলেন, জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা সরকারের কাছে আগে থেকেই রয়েছে। তিনি বিরোধী দলের ১০ দফা এবং সংসদীয় বিশেষ কমিটির ১২ দফাকে ভিত্তি করে একটি যৌথ বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরির আহ্বান জানান। এই কাঠামোতে সরকার, বিরোধী দল, পেট্রোবাংলা, বাপেক্স, বিপিডিবিসহ বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, আগামী ৯০ দিন পর জাতীয় সংসদে এই কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। সেখানে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, সিস্টেম লস কমানো এবং অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, আবদুল হালিম, হামিদুর রহমান আযাদ, মুয়াযযম হোসাইন হেলাল এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
জ্বালানিসংকট নিরসনে ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল গঠনসহ ৪ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ৯০ দিন পর সংসদে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।



0 মন্তব্যসমূহ