টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু তার একমাত্র ছেলের সুন্নাতে খতনা উপলক্ষে এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কোনো ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান আয়োজন না করে তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চারটি মাদরাসা ও এতিমখানার প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থীর জন্য একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করেন। শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার ধুলেরচর, বেবিস্ট্যান্ড, বাজিতপুর এবং ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামের চারটি মাদরাসা ও এতিমখানায় এই খাবার পরিবেশন করা হয়। খাবার বিতরণের আগে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও মুসল্লিদের অংশগ্রহণে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন ঢাকা থেকে সরাসরি টাঙ্গাইলে পৌঁছে ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামের জামিয়া আল-হেরা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। নামাজের আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে তিনি জানান, তার একমাত্র ছেলে মো. সাফারাত ওয়াসিত বিন সালাউদ্দিন গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করলেও সেখানে ইসলামি শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে এবং সে হেফজ পড়া শুরু করেছে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী খতনা উপলক্ষে লোকদেখানো আড়ম্বর না করে তিনি এতিম ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে এই আয়োজন করেছেন।
নামাজ শেষে প্রতিমন্ত্রী নিজে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে বসে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত মেন্যুতে ছিল গরুর মাংস, ডাল ও দই। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুল হক শানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সদস্য আব্দুল্লাহিল কাফিসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। জাঁকজমক এড়িয়ে এতিমদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর এই খাবার ভাগ করে নেওয়ার উদ্যোগটি স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
ছেলের খতনা উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন না করে টাঙ্গাইলের সাড়ে তিন হাজার এতিম ও মাদরাসা শিক্ষার্থীর খাবারের ব্যবস্থা করলেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগটি এলাকায় বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।



0 মন্তব্যসমূহ