সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে পরিচিত এই চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জোটভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই ধারাটি অনেকটা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আর্টিকেল-৫-এর অনুরূপ।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিতিশীলতা এবং ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনার মধ্যেই এই চুক্তিটি সম্পন্ন হলো। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো সিনা তুসি এই চুক্তিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, মুসলিম বিশ্বের এই তিন শক্তি নিজেদের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছে।
চুক্তিটি এমন এক সময়ে সই হলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর মিত্র দেশগুলোর অনাস্থা বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিংস কলেজ লন্ডনের জ্যেষ্ঠ ফেলো নওয়াফ ওবাইদ বলেন, এই চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের নকশায় গড়ে ওঠা আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা থেকে সরে আসার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। তবে রিয়াদ, আঙ্কারা ও ইসলামাবাদ স্পষ্ট করেছে যে, এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি বিদ্যমান অন্য কোনো জোটের বিকল্প নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, এই চুক্তির ফলে ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে নেওয়া ‘আব্রাহাম চুক্তি’ বাস্তবায়নের পথ আরও কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আরব এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে না বলে জোরালো বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মক্কায় পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়েছে। কোনো এক দেশের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা বলে গণ্য হবে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় এটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।



0 মন্তব্যসমূহ