রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বিক্রির দায়িত্ব বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগটি মূলত লুটপাটের একটি নতুন লাইসেন্স। রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া অধিকার ভেঙে প্রতিযোগিতার কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত কয়েকটি প্রভাবশালী বেসরকারি গোষ্ঠীর হাতে জ্বালানির বাজার চলে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন তোলেন, যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বেসরকারি কোম্পানিগুলো রাষ্ট্রের নির্দেশ মানবে কি না এবং অলাভজনক দুর্গম এলাকায় তারা জ্বালানি সরবরাহ করবে কি না। তিনি মনে করেন, এটি কোনো সংস্কার নয় বরং নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া, যার আর্থিক বোঝা সাধারণ মানুষকে বইতে হবে। বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে দাম কমার সরকারি যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, এই ব্যবসায় বড় ধরনের অবকাঠামো ও বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন, যা কেবল হাতেগোনা কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর পক্ষেই সম্ভব। এতে রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া ব্যবস্থার বদলে বেসরকারি একচেটিয়া ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বিপিসির বিগত কয়েক বছরের লাভ-লোকসানের হিসাব তুলে ধরে জামায়াত নেতা বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট মূলত বিশ্ববাজার ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ফল, বিপিসির ব্যর্থতা নয়। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার তড়িঘড়ি করে আন্তর্জাতিক দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিন করেছে, যা স্বচ্ছতাকে বিঘ্নিত করবে এবং সিন্ডিকেটের সুযোগ করে দেবে। বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার এই বাজারে সামান্য মুনাফা বৃদ্ধির সুযোগও বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের পথ তৈরি করতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
জ্বালানি তেল আমদানি ও বিক্রির দায়িত্ব বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে লুটপাটের নতুন লাইসেন্স হিসেবে অভিহিত করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এতে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা কমবে এবং সিন্ডিকেটের সুযোগ তৈরি হবে।



0 মন্তব্যসমূহ