ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাত দিনব্যাপী শোক ও দাফন অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে রাজধানী তেহরানে তাঁর জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) সকালে তেহরানের ঐতিহাসিক ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত এই জানাজায় লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। আলী খামেনির পাশাপাশি তাঁর পরিবারের নিহত আরও চার সদস্যের জানাজাও একই সাথে অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার পর শুরু হওয়া এই জানাজায় ইমামতি করেন ইরানের জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। অনুষ্ঠানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও আইআরজিসি কমান্ডার আহমেদ ভাহিদি এবং কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানি জানাজায় অংশ নেন।
সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, প্রয়াত নেতার তিন ছেলে মাসুদ, মেসাম এবং মোস্তফা জানাজায় উপস্থিত থাকলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সেখানে ছিলেন না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আলী খামেনি নিহত হন। ১৯৮৯ সাল থেকে তিনি ইরান শাসন করে আসছিলেন।
শোক অনুষ্ঠানের প্রথম দিন থেকেই তেহরানের রাজপথ কালো পোশাকধারী মানুষের পদচারণায় মুখরিত ছিল। জানাজা শেষে ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, সোমবার তেহরানে এবং মঙ্গলবার পবিত্র শহর কোমে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে এবং আগামী বৃহস্পতিবার মাশহাদ শহরে চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন হবে।
তেহরানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হলো ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা। রাজনৈতিক ও সামরিক শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে এই শোকাবহ বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।


0 মন্তব্যসমূহ