ইরানের বিমানবাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রাশিয়ার তৈরি ২০টি সুখোই-৩৫ (সু-৩৫) যুদ্ধবিমানের প্রথম ব্যাচের উৎপাদন সম্পন্ন হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপকে তেহরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাময়িকী মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিনের তথ্যমতে, রাশিয়ার কোমসোমলস্ক-অন-আমুর অ্যাভিয়েশন প্ল্যান্টে এই যুদ্ধবিমানগুলো তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে বিমানগুলো হস্তান্তরের অপেক্ষায় রাশিয়ায় অবস্থান করছে এবং এগুলোর যাবতীয় খরচ ইরান সরকার বহন করেছে।
ন্যাটো কর্তৃক ‘ফ্ল্যাঙ্কার-এম’ বা ‘সুপার ফ্ল্যাঙ্কার’ নামে পরিচিত এই সু-৩৫ যুদ্ধবিমানগুলো প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যুদ্ধকালীন পরিসীমায় কার্যকর। শক্তিশালী রাডার ও দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র বহনে সক্ষম এই বিমানগুলো অস্থায়ী রানওয়ে থেকেও পরিচালনা করা সম্ভব। যদিও এগুলো পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান নয়, তবে আকাশ থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী যুদ্ধবিমান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ইরান মোট ৪৮টি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করেছে। এই চুক্তিতে মি-২৮ অ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ বিমানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইতোমধ্যে ইরানি পাইলটদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে ইরানের হামাদান বিমানঘাঁটির অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে এই বিমানগুলো মোতায়েনে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। বর্তমানে রুশ ও ইরানি প্রকৌশলীরা ঘাঁটির উন্নয়নে কাজ করছেন।
দীর্ঘদিন ধরে স্নায়ুযুদ্ধকালীন পুরোনো এফ-১৪ টমক্যাট ও এফ-৪ ফ্যান্টম বিমানের ওপর নির্ভরশীল ইরানের জন্য এই সু-৩৫ যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্তি আকাশ প্রতিরক্ষা ও দূরপাল্লার আক্রমণ সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। এছাড়া ইরান আরও ১২টি সু-৩০এসএম২ যুদ্ধবিমানের অর্ডার দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান সু-৫৭ কেনার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
ইরানের বিমানবাহিনীকে শক্তিশালী করতে ২০টি অত্যাধুনিক সু-৩৫ যুদ্ধবিমানের প্রথম ব্যাচ প্রস্তুত করেছে রাশিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে তেহরানের এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া।


0 মন্তব্যসমূহ