গণতান্ত্রিক নিয়মে চসাসের ২১ পদে নির্বাচন সহ ক্যালেন্ডার প্রকাশনা অনুষ্ঠন সম্পন্ন


মোঃ মনছুর আলম: চট্টগ্রাম থেকে প্রতিষ্ঠিত ব্যতিক্রমী সাংবাদিক সংগঠন "চট্টগ্রাম সাংবাদিক সংস্থা, (চসাস)" এর ত্রিবার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়। গত ৯ ডিসেম্বর শনিবার গণতান্ত্রিক নিয়মে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ২১ পদ ভোট গ্রহণ শেষে নির্বাচিত প্রার্থী ও নির্বাহী সদস্যদের নিয়ে ৩১ জন বিশিষ্ট কমিটি গঠন হয়। সাংবাদিকদের ভোটে সভাপতি পদে সাংবাদিক দিদার আশরাফী  এবং সাধারণ সম্পাদক পদে সাংবাদিক ওসমান এহতেসাম নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ৪ ডিসেম্বর সাংবাদিক সজল চৌধুরীকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্ধারণ করে সাংবাদিক প্রণবরাজ বড়ুয়া ও সাংবাদিক খোরশেদ আলম মাইজভান্ডারীদের নিয়ে ৩জন বিশিষ্ট নির্বাচন কমিটি গঠন হয়।

শনিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ শেষে পরদিন রবিবার চট্টগ্রাম একাডেমি হল রুমে সকলের উপস্থিতিতে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিক সজল চৌধুরী। ফলাফল ঘোষণার পরপর নবনির্বাচিত প্রার্থী সহ সকল সদস্যেরকে শপথ বাক্য পাঠ করান তিনি। এসময় অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রাক্তন সভাপতি ও ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস এর ব্যুরো প্রধান কবি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, সারোয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাতির সূর্যসন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ বেলাল হোসেন, মোহনা টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান আলী আহমেদ শাহীন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বন গোপাল দাশ। একই সময় চসাস'র উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ বেলাল হোসেনের সৌজন্যে ইংরেজী ২০২৪ সালের বাৎসরিক ক্যালেন্ডার প্রকাশনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

এই নির্বাচনে ২১টি পদে প্রার্থীতা করেছেন ৫০জন। মোট ভোটার ৮০ জনের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৭৫ জন। ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে আপেল প্রতীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় সাংবাদিক দিদার আশরাফী পেয়েছেন ৬৪ ভোট। তিনি এর আগেও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে চসাসের নেতৃত্ব দেন। এই নিয়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মত সভাপতি নির্বাচিত হন।

সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে ডাব প্রতীকে ৪৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন মোহনা টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান আলী আহমেদ শাহীন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গরু প্রতীকে সাংবাদিক আব্দুল কাদের পেয়েছেন ২৩ ভোট।

সহ-সভাপতি পদে মোরগ প্রতীকে ৪২ ভোট পেয়ে জয়ী হন দৈনিক জার নিউজ এর সম্পাদক মোঃ জিন্নাত আলী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গোলাপ প্রতীকে দৈনিক পূর্বকোণ ও জাতীয় দৈনিক যায়যায়দিন এর রাজস্থলী প্রতিনিধি আজগর আলী খাঁন পেয়েছেন ৩০ ভোট।

সবচেয়ে বেশিসংখ্যক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে সাধারণ সম্পাদক পদে হাতি প্রতীকে ৩৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন কলামিস্ট ওসমান এহতেসাম। এর আগেও তিনি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেঁপে প্রতীকে দৈনিক স্বপ্নের বাংলা'র সম্পাদক সাফি ইরফাত জেবিন ইভা পেয়েছেন ৩০ ভোট। এছাড়াও অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ফুটবল প্রতীকে দৈনিক দেশ বাংলা'য় কর্মরত সাইফুর রহমান নিশাদ আকন্দ ও পেন্সিল প্রতীকে দৈনিক স্বপ্নের বাংলা'র প্রতিনিধি ইসরাত জাহান পেয়েছেন ২ ভোট করে। মই প্রতীকে দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ফিরোজ উদ্দিন চায়ের কাপ প্রতীকে দৈনিক অগ্রসর পত্রিকার চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ফারজানা কবির রুমী পেয়েছেন ১ ভোট করে। অপর ৩ প্রতিদ্বন্দ্বী আম প্রতীকে দৈনিক সময়ের কাগজের সিনিয়র রিপোর্টার জামশেদুল ইসলাম চৌধুরী, টেলিভিশন প্রতীকে স্বপ্নের বাংলার প্রতিনিধি রাফিকা আক্তার ও ঘুড়ি প্রতীকে পপুলার টেলিভিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম রেজাগণ কোন ভোট পাননি।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে বই প্রতীকে ৩৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন দৈনিক মানবকন্ঠের প্রতিনিধি মোঃ ওমরফারুক । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পাখি প্রতীকে দৈনিক অর্থনীতি পত্রিকার ক্রাইম রিপোর্টার, দৈনিক সরকার পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও বাঁশখালী নিউজের সম্পাদক মনছুর আলম পেয়েছেন ৩৪ ভোট। আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী বাঘ প্রতীকে সাপ্তাহিক অভিযোগ এর সহ-সম্পাদক পলাশ কান্তি নাথ পেয়েছেন ৪ ভোট।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে কলম প্রতীকে ৫৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন চট্টলা টিভির স্টাফ রিপোর্টার রিদওয়ান হৃদয়। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সিংহ প্রতীকে মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন পেয়েছেন ১৩ ভোট।

সহ-সাংগঠনিক পদে ফড়িং প্রতীকে ৫৩ ভোট পেয়ে জহী হন সাপ্তাহিক অভিযোগ পত্রিকার সহ-সম্পাদক পলাশ কান্তি নাথ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ঘড়ি প্রতীকে পপুলার টেলিভিশনের চেয়ারম্যান সেলিম রেজা পেয়েছেন ১৭ ভোট।

যোগাযোগ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় মোবাইল প্রতীকে ৫৮ ভোট পেয়েছেন দৈনিক সরকার পত্রিকার আনিছুর রহমান।

অর্থ সম্পাদক পদে ফ্যান প্রতীকে ৩০ ভোট পেয়ে জয়ী হন দৈনিক আশ্রয় প্রতিদিনের নেজাম উদ্দীন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী টিয়া পাখি প্রতীকে ওয়াজেদ ও ব্যাট প্রতীকে সুমন দাশ পেয়েছেন যথাক্রমে ৩ ও ৪ ভোট।

প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে মাইক প্রতীকে ৪৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন দৈনিক সরকার পত্রিকার চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি ও বাঁশখালী নিউজের নির্বাহী সম্পাদক গাজী গোফরান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যাট প্রতীকে শ্রাবণ মাহমুদ পেয়েছেন ১০ ভোট, চেয়ার প্রতীকে আমাদের চট্টলার স্টাফ রিপোর্টার ঈসা মোহাম্মদ তকী তাজওয়ার পেয়েছেন ৮ ভোট। মা ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকায় টেবিল প্রতীকে প্রচার প্রচারণা না করার ব্যর্থতায় কোন ভোট পাননি দৈনিক গর্ব বাংলাদেশ এর প্রতিনিধি নীলকমল সুশীল।

দপ্তর সম্পাদক পদে আনারস প্রতীকে ৫৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ এর স্টাফ রিপোর্টার আবুল হাসনাত মিনহাজ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গাজর প্রতীকে মিন্টু দাশ পেয়েছেন ১২ ভোট।

প্রশিক্ষণ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় চশমা প্রতীকে ৫৮ ভোট পেয়েছেন মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন।

সমাজসেবা সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ঘোড়া প্রতীকে ৬২ ভোট পেয়েছেন মোঃ ফিরোজ উদ্দিন।

জেলা সমন্বয়কারী পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জাহাজ প্রতীকে ৬০ ভোট পেয়েছেন মোঃ মাসুম বাবুল। 

ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক পদে মোমবাতি প্রতীকে ৪৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন দৈনিক দেশকালের সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আবীর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী পানপাতা প্রতীকে দৈনিক দেশ বাংলা'য় কর্মরত সাইফুর রহমান নিশাদ আকন্দ পেয়েছেন ২৬ ভোট।

অনুষ্ঠান সম্পাদক পদে তাল প্রতীকে ৪০ ভোট পেয়ে জয়ী হন আমাদের চট্টলার স্টাফ রিপোর্টার ঈসা মোহাম্মদ তকী তাজওয়ার। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আম প্রতীকে দৈনিক সময়ের কাগজের জামশেদুল ইসলাম পেয়েছেন ৩০ ভোট।
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে বাস প্রতীকে ৫২ ভোট পেয়ে জয়ী হন দৈনিক বিজয় বাংলাদেশ'র হাটহাজারী প্রতিনিধি আরফাত আহমেদ আরমান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কাঁঠাল প্রতীকে দৈনিক সকালের সময় এর রিপোর্টার বিদ্যুৎ দেব পেয়েছেন ২০ ভোট।

তথ্য সংরক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক পদে স্যাটেলাইট প্রতীকে ৪১ ভোট পেয়ে জয়ী হন দৈনিক অর্থনীতি পত্রিকার ক্রাইম রিপোর্টার, দৈনিক সরকার পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও বাঁশখালী নিউজের সম্পাদক মনসুর আলম। তার প্রতিদ্বন্দ্বী লিচু প্রতীকে চট্টলা টিভির রিপোর্টার রাশেদা বিনতে ইসলাম পেয়েছেন ২০ ভোট এবং সংবাদপত্র প্রতীকে দৈনিক ইনকিলাব এর প্রতিনিধি বিপ্লব ইসলাম পেয়েছেন ১১ ভোট।

নির্বাহী সদস্য পদে তরমুজ প্রতীকে ২৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন আমাদের নতুন সময় এর সিনিয়র রিপোর্টার সজল চৌধুরী। তার অপর প্রতিদ্বন্দ্বী মিষ্টি কুমড়া প্রতীকে আতিকুর গোলদার পেয়েছেন ২৬ ভোট, ছাতা প্রতীকে জিয়াউল ইসলাম জিয়া পেয়েছেন ১৩ ভোট, সাইকেল প্রতীকে মোঃ এবাদুল হক পেয়েছেন ১০ ভোট, মোটরসাইকেল প্রতীকে রাজিব দাশ তুষার পেয়েছেন ২ ভোট, ও হরিণ প্রতীকে আব্দুল কাদের পেয়েছেন ১ ভোট।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ