মো: আ. আল ফয়সাল মিয়া, নীলফামারীঃ
ঈদুল আজাহার দীর্ঘ ছুটি শেষে ঘরবন্ধু মানুষগুলো আবারও কর্মস্থল-শহরে ফিরে আসার জন্য গত কয়েকদিন ধরে রেলপথে নজিরবিহীন ভীড় তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা থেকে নীলফামারী পর্যন্ত চলাচলকারী নীলসাগর এক্সপ্রেস স্টেশনে পৌঁছার আগেই প্ল্যাটফর্মগুলো ভীড়ে ঠাসা হয়ে উঠছে এমনকি বগির ভেতর তিল পরিমাণ জায়গা পাওয়া যায় না, অনেকেই দাঁড়িয়ে বা বগির ছাদে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই বিপুল উন্মুখ যাত্রী চাপ ব্যাপক নিরাপত্তার উদ্বেগ তৈরি করেছে।
টিকিট না পেয়ে হাঙ্গামা ও প্ল্যাটফর্মে চাপ ঢাকা-কামালপুর রেলওয়ে স্টেশনে সকাল থেকে শুরু হয়ে এমন যে ভিড়, সেখানে সাধারণ যাত্রী থেকে শ্রমজীবী শ্রমিক এবং ছাত্রছাত্রীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকেই আগেই প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষা করলেও টিকিট না পাওয়ায় বহু মানুষ স্টেশনের বাইরে ও প্ল্যাটফর্মের প্রবেশদ্বারের কাছেই অপেক্ষায় থাকতে বাধ্য হয়েছেন।
যাত্রীদের বক্তব্যে পাওয়া গেছে যে, ভীড়ে ঢুকে নিজের জায়গা পেতে হয়েছে এককোষ্ঠ অর্জনের মতো প্রতিযোগিতায়, এবং শারীরিক দূরত্বও প্রায় উধাও হয়ে গেছে। অনেকেই বলছেন, “এমন ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং বয়স্ক বা শিশুদের জন্য পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক” এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অতিরিক্ত চাপ আগের ঈদ-পরবর্তী সময়ে রেলপথে ঘটে যাওয়া নীলসাগর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার ঘটনার স্মৃতি এখনো টাটকা। মার্চ ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে নীলসাগর এক্সপ্রেস বিঘ্নিত ভীড়ে বগুড়ার সান্তাহার অঞ্চলে পথচলা অবস্থায় ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়া একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল, এতে প্রায় ৬৬ থেকে ১১২ জন আহত হন। অনেক আহত যাত্রীই সেই সময় ছাদে কিংবা বগির বাহিরে থাকা অবস্থায় গুরুতরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন বলে ধারনা করা হয়।
এই ঘটনার পরেও এখনও পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা পূর্ণভাবে নেয়া হয়নি বলে মন্তব্য করছেন অনেক পরিবহন বিশ্লেষক এবং যাত্রী অভিব্যক্তি থেকে দেখা যায়, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং কোচ সংখ্যা বৃদ্ধির অভাব রয়েছে।
আরও তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ দাবি রেলপথ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র ট্রেনের সংখ্যা বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না; নিরাপত্তা কর্মী, পর্যাপ্ত কোচ-সুবিধা, নিয়মিত ট্রেনের বগি-সংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য- সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্ত করা জরুরি। এর পাশাপাশি, ট্রেন স্টেশনে মানুষের নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ নিরাপত্তা পারিচালনা ও জরুরি সেবা টিম স্থায়ী করা প্রয়োজন বলে তারা সতর্ক করেছেন।
যাত্রীদের মধ্যে অনেকে বলেন, “ভিড়ে প্রাণহানি ঘটার কোনও সম্ভাবনা চোখে পড়ছে না বলা সম্ভব নয়। শরীরের জায়গা না থাকায় অনেকেই ছাদ বা অন্য জায়গায় দাঁড়িয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে, এতে স্নায়ুর চাপ অনেক বেশি।”
সরকার ও রেল কর্তৃপক্ষের অবস্থা পর্যবেক্ষকরা বলছেন যে, ঈদের মতো উচ্চ চাপের সময়ে রেলপথে অতিরিক্ত কোচ ও নিরাপত্তা কর্মী স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু পরিষেবা প্রদানের জন্য তা যথেষ্ট নয়। গতবারের ঈদে প্রায় লাখ লাখ মানুষ বিভিন্ন রুটে রওনা দিয়েছিল এবং একই চিত্র পদ্মা ও যমুনা সেতুর দিকে যানজটেও দেখা গিয়েছিল।
এ পর্যন্ত রেল কর্তৃপক্ষ কোনো আধিকারিক সংখ্যা বা দুর্ঘটনা- সংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি, তবে তারা যাত্রী চাপ ও ট্রেনের সময়সূচী নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে।
সংক্ষেপে: ঈদ শেষে যানচলাচলের চাপের কারণে নীলসাগর এক্সপ্রেস ও অন্যান্য নর্থ বেঙ্গল রুটে ট্রেনের ভিড় ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষ প্ল্যাটফর্ম/ বগি ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় ঠাসা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন, যা নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। পরিপূর্ণ প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃদ্ধির দাবি করা হচ্ছে।



0 মন্তব্যসমূহ