পঞ্চগড়ে সরকারি স্কুলের জমি দখলের চেষ্টা ‘বাঁধা দিতে গিয়ে মারপিটের শিকার শিক্ষক


মোঃ কামরুল ইসলাম কামু পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ

পঞ্চগড়ে একটি সরকারি স্কুলের জমি নিয়ে র্দীঘদিন ধরে চলছিল বিবাদ। এই জমি নিয়ে স্থানিয়রা বেশ কদিন ধরে ঘটনা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসছিলো।এরই মদ্যে ঘটনা ঘটে মারপিটের ওই স্কুলের জমি নিয়ে। জনা যায়, করোনায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছো। 

এই সুযোগে পঞ্চগড় সদর উপজেলার পুরাডাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করেছেন স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। রাতারাতি বিদ্যালয়ের মাঠে জমি দখল করে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘর তোলেন তারা। বিষয়টির প্রতিবাদ করায় ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোলাম রব্বানীকে মেরে হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই শিক্ষক ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনায় এলাকায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের পুরাডাংগা এলাকায় অবস্থিত পুরাডাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যালয়টির জমি রয়েছে ৭০ শতাংশ। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জমি দান করেন। দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়লে বিশেষ এই পরিস্থিতিতে বিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এই ফাঁকে সম্প্রতি ওই এলাকায় একটি ভূমিদস্যুচক্র বিদ্যালয়ের মাঠের জমি নিজেদের দাবি করে বসেন। এই চক্রের সদস্যরা হলো বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরি ইউনিয়নের চিড়াকুটি এলাকার খয়রুল ইসলাম, গোবরাপাড়া এলাকার সফিকুল ইসলাম ও তার ভাই আলিয়ার রহমান, একই এলাকার পজির আলী, তাই ভাই আব্দুস সোবহান ও আব্দুল হামিদ, একই এলাকার তসলিম উদ্দিন, পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের কাপরাঙ্গাপাড়া এলাকার তাইজুদ্দীন ও তার ভাই নুরুল ইসলাম। 

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের করা একটি মামলাও আদালতে চলমান রয়েছে। আদালত সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু তা অমান্য করে চক্রটি গত ২৪ এপ্রিল ভোরে বিদ্যালয়ের মাঠের প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা দখল করে শক্ত করে বাঁশের বেড়া দেয় এবং ভেতরে একটি ঘর তোলে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। সোমবার ভোরে আবারো তারা বিদ্যালয় মাঠের বাকি অংশ দখল করে বেড়া দিয়ে গাছের চারা লাগানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোলাম রব্বানী তাদের বাধা দিলে তার ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করেন দখলকারী চক্রের সদস্যরা। এ সময় তাদের লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন ওই শিক্ষক। তার ডানটি ভেঙে যায়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন   

স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল হোসেন বলেন, আমরা শুরু থেকেই দেখে আসছি এটি বিদ্যালয়ের মাঠ। কিন্তু হঠাৎ একটি চক্র এসে মাঠের জমি তাদের বলে দাবি করছে। করোনায় স্কুল বন্ধের সুযোগে তারা বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে বসে। স্থানীয় বাসিন্দা পশিরুল আলম বলেন, তারা অনৈতিকভাবে জমিটি তাদের দাবি করছে। গোপনে তারা বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করেছে।    ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র আসিফ ইকবাল বলেন, আমরা এই বিদ্যালয়ের মাঠে খেলতাম। কিন্তু মাঠটির একাংশ দখল হয়ে যাওয়ায় এখন আর খেলাধুলা করার সুযোগ নেই। বিষয়টি দেখতেই খারাপ লাগছে। 

বিদ্যালয়ের সৌন্দর্যটাই নষ্ট করে দিয়েছে তারা। আবার আমাদের শিক্ষকের হাত ভেঙে দিয়েছে। আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। ওই বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক সফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সুযোগ এই এলাকার কিছু ভূমিদস্যু রাতারাতি বিদ্যালয় মাঠ দখল করে ঘর তুলেছে। তারা আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। দখল কাজে তারা নারীদের ব্যবহার করছে। দখলের প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের সহকারী শিক্ষক গোলাম রব্বানীকে মেরে হাত ভেঙে দেন তারা। বিষয়টি নিয়ে আমরা আদালতে মামলা করেছি। আদালত থেকে ১৪৪ জারি করা হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেই রাতারাতি তারা দখল করে বাঁশের বেড়া দিচ্ছে, ঘর তুলছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ করেছি। থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি 

ওই বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বারজুল হুদা বাদল বলেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা সাহস পেয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করছে। এমনকি শিক্ষকের হাত ভেঙে দিতেও দ্বিধা করছে না। পঞ্চগড় সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আইয়ুব আলী প্রধান বলেন, আদালতে মামলা চলমান অবস্থায় বিদ্যালয়ের জমি দখল হচ্ছে। শিক্ষককে মেরে হাত ভেঙে দিচ্ছে। কিন্তু কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমরা এ ঘটনায় বিস্মিত। এভাবে চলতে থাকলে সরকারি বিদ্যালয়ের জমি দখলের মহোৎসব শুরু হবে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পায়নি। তাই ভূমিদস্যুরা খুব সহজেই বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করছে। আমরা চাই দ্রত এই ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক। আর তা না হলে আমরা সকল শিক্ষকরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবো।  

পঞ্চগড় সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের জমি দখল ও শিক্ষকের ওপর হামলার বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আহত শিক্ষক কিছুটা সুস্থ হলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন, সরকারি জমি দখলের বিষয়ে আমরা কোনভাবেই ছাড় দেবো না। সে যত বড়ই প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর হোক। এছাড়া শিক্ষকের ওপর হামলা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি।  এ ঘটনার বিষয়ে দখলকারিরা কোন  মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ