ডোমারে এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে দেড় কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ


রতন কুমার রায়, স্টাফ রিপোর্টারঃ

নীলফামারীর ডোমারে বন্যা ও দখলদারের হাতে বিলীন হয়ে যাওয়া সরকারী রেকর্ডভুক্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা একযুগ পরে পূর্নরায় স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে নির্মাণ করলেন এলাকাবাসী। উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামের কুড়ার হাট সংলগ্ন উত্তরে ডোমার চিলাহাটি প্রধান সড়ক হতে পশ্চিম দিকে কানার হাট যাওয়ার প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা বন্যায় বিলিন হয়ে যায়। 

রাস্তা সংলগ্ন জমির মালিকগন রাস্তার বাকী অংশ কেটে চাষাবাদ শুরু করেন। এতে উক্ত গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের প্রায় পাচঁ হাজার মানুষ যাতায়াতের চরম দূর্ভোগ পরে। রাস্তাটির পূর্নরুপ ফিরে পেতে দীর্ঘ একযুগ পর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সহযোগীতায় নকশা অনুযায়ী পরিমাপ ও জরিপ করে সীমানা নির্ধারন করা হয়। ডোমার উপজেলা সার্ভেয়ার( আমিন) পরিমল চন্দ্র রায় ও আবু বক্কর সিদ্দিক বিন আব্বাস  তিন দিন মাপ যোগের পরে  পিলার বসিয়ে দেন। সরকারী কোন বরাদ্দ না থাকায় স্ব-উদ্দ্যোগে এলাকাবাসী স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে রাস্তাটি নির্মাণ করেন।

স্থানীয় ফজলুল হক জানান, ১৫বছর আগে এই রাস্তাটি একটি পূর্নাঙ্গ রাস্তা ছিলো। কিন্তু বন্যার পানিতে রাস্তাটি বিলীন হয়ে যায়। আমাদের এই এলাকা থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রায় ১৫কি.মি. দুরে। রাস্তাটি না থাকায় একজন রোগীকে নিয়ে প্রায় ৩ কি.মি. অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হতো।  রাজু আহমেদ বলেন, এলাকার ৪০/৪৫ জন যুবকে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তাটি নির্মাণ করি। কিন্তু  মাটি না পাওয়ায় রাস্তাটি ৩ ফুটের মত উচু করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে উজানের পানির স্রােতে রাস্তাটি আবার ভেঙ্গে যেতে পারে। তাই রাস্তাটি টিকে রাখতে সরকারী বরাদ্দ দিয়ে উচুঁ করা ও পানি বের হওয়ার জন্য একটি ব্রীজ প্রয়োজন আছে।

রাস্তা পূর্ন নির্মানের প্রধান উদ্দ্যেক্তা ওই এলাকার অজিত সিং জানান, নিজের প্রয়োজনে আমরা এলাকাবাসী রাস্তাটি নির্মাণ করি। রাস্তাটি প্রধান রাস্তার সংযোগস্থলে উজানের পানি নিস্কাশনের জন্য বাশেঁর সাকোঁ দেওয়া হয়। কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্যে মৃত খয়রত উদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি পানি নিস্কাশনের পথটি বন্ধ করতে সাকোঁর সাথে বাধ দিয়ে রাখেন।

এব্যাপারে জোড়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এখনো কেউ আমাকে জানায়নি। আপনার মাধ্যমে অবগত হলাম। পানির স্রোতে যেই আটকানোর চেষ্টা করুক না কেন, আমি জনগনের স্বার্থে ইউএনও মহোদয়ের সাথে আলোচনা করে বাধটি কেটে দিব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য