ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা পুরনে বিরামপুরে বৃদ্ধি পেয়েছে পেঁয়াজের চাষ


মোসলেম উদ্দিন, হিলি দিনাজপুরঃ

ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা পুরনে পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার বেগমপুর গ্রামের কৃষক সোলায়মান আলী। আর বাবাকে সাহায্য করতে হাতে দাওলি নিয়ে পেঁয়াজ ক্ষেতে  ঘাস নিড়ানির কাজে নেমেছে কলেজে পড়ুয়া সোহাগ ও সুমন। দাম ভাল থাকায় এবং দেশে ভারতীয় পেঁয়াজের অভাব ঠেকাতে তাদের এই সংগ্রামী চাষাবাদ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সোলায়মান আলী এবছর এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছেন। আগে প্রতি বছর বাড়ির খাবারের জন্য কয়েক শতক জমিতে পেঁয়াজের চাষ করতেন তিনি। বর্তমান পেঁয়াজের দাম ভাল পাওয়ায় এবং ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায়, দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য এবছর তিনি এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছেন। 

এক বিঘা জমিতে ৬ মণ পেঁয়াজের বীজ বোপন করেছেন তিনি। মোট খরচ হবে প্রায় ২০ হাজার টাকা। আর ভাল ফলন হলে এক বিঘা জমি থেকে পেঁয়াজ উৎপাদন হবে ৮০ মণ। বর্তমান বাজার দাম হিসেবে বিক্রি হবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

প্রথমে এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষের জন্য গোবর সার ৮০ মণ, পটাস ১ বস্তা, ১ বস্তা,ইউরিয়া সাড়ে ৭ কেজি সার প্রয়োগ করে জমি তৈরি করা হয়েছেন তিনি। সোহাগ হোসেন বলেন, আমি এইবার এইচ এসসি পরীক্ষার্থী। করোনাকালীন কলেজ বন্ধ, তাই বাবা সাহায্য করতে মাঠে এসে পেঁয়াজের ক্ষেতে ঘাস নিড়ানি দিচ্ছি। লিখাপড়ার পাশাপাশি ক্ষেতে কাজ করতে ভাল লাগে এবং বাবারও অনেক কষ্ট দুর হয়।

সুমন হোসেন বলেন, আমরা এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছি। আমি ডিগ্রী ১ম বর্ষের ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি বাবাকে সাহায্য করছি। পেঁয়াজচাষী সোলায়মান আলী বলেন, বাড়িতে খাওয়ার জন্য প্রতি বছর দুই থেকে তিন শতক জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতাম। 

বর্তমান ভারত থেকে পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ আছে এবং বাজার ভাল থাকায় এবছর বিঘাখানিক পাতা পেঁয়াজের আবাদ করেছি। কিছু দিন পর এই পাতাপেঁয়াজ তুলে শুকনা পেঁয়াজের বীজ বোপন করবো। পেঁয়াজের ফলন ভাল হয়েছে, বাজারে মুল্যও ভাল পাবো আশা করছি। 

এবিষয়ে বিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার নিক্সোন চন্দ্র পাল বলেন, কয়েক বছরের মধ্যে এবছর পেঁয়াজের চাষ বেশি হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ১০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজর চাষ করেছেন কৃষকেরা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ