শফিকুল ইসলামঃ, কক্সবাজার | ৯ মার্চ, ২০২৬
পর্যটন নগরী কক্সবাজারের ভারসাম্য রক্ষা করে যে পাহাড়গুলো, সেগুলোকে বলা হয় শহরের ‘ফুসফুস’। কিন্তু সেই ফুসফুস এখন ক্ষতবিক্ষত। এবার ধ্বংসযজ্ঞের কালো থাবা পড়েছে শহরের দক্ষিণ আদর্শ গ্রাম এলাকায়। সেখানে চলছে বিশাল এক পাহাড় কাটার উৎসব। স্কেভেটর দিয়ে পাহাড়ের বুক চিরে মাটি সাবাড় করা হলেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন নীরব।
স্থানীয়দের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—প্রকৃতির এই বুক চিরে মাটি লুটের মহোৎসবে কার হাত? পাহাড় কাটার নেপথ্যে প্রভাবশালী তিনজনের নাম এখন মুখে মুখে ফিরছে। তারা হলেন— আতিক, আজিজ এবং ডাক্তার সাইফুল।
কার ইশারায় এই ধ্বংসযজ্ঞ?
সরেজমিনে দক্ষিণ আদর্শ গ্রাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের পরিচিত একটি বিশাল পাহাড়ের অর্ধেকের বেশি অংশ ইতিমধ্যে গায়েব হয়ে গেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এই পাহাড় কাটার নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন এই তিন প্রভাবশালী ব্যক্তি।
আতিক ও আজিজ: স্থানীয়দের অভিযোগ, আতিক ও আজিজ এই মাটি ব্যবসার সিন্ডিকেটের প্রধান কারিগর। তারা রাজনৈতিক ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে এমনকি দিনের আলোতেও পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছেন।
ডাক্তার সাইফুল: সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে ডাক্তার সাইফুলকে নিয়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, ডাক্তার সাইফুলের মৌন সমর্থন বা সরাসরি নির্দেশেই পাহাড়ের একটি বড় অংশ কাটা হচ্ছে। তবে তিনি কেন বা কোন উদ্দেশ্যে এই পাহাড় নিধনে জড়ালেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
বিপন্ন প্রকৃতি, নীরব প্রশাসন
পাহাড় কাটার ফলে বর্ষায় ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে এবং জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, "পাহাড় কাটার শব্দ আমরা প্রতিদিন শুনি, কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারি না। এই আতিক, আজিজ আর ডাক্তার সাইফুলের দাপটে সবাই তটস্থ।"
পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা বলছেন, কক্সবাজারের সৌন্দর্য রক্ষায় এই তিনজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায়, অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে দক্ষিণ আদর্শ গ্রামের এই পাহাড়গুলো।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাহাড় কাটার কোনো অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত অভিযান চালানো হবে। তবে অপরাধীরা প্রভাবশালী হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম নিয়ে জনমনে সংশয় রয়ে গেছে।

0 মন্তব্যসমূহ