পঞ্চগড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব বাড়ছে ; নি:স্ব হচ্ছে অনেকে

কামরুল ইসলাম কামু পঞ্চগড়ঃ 
মামলার দীর্ঘসূত্রতার নিয়ে সুযোগে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জিম্মি করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা জমাজমি নিয়ে রেশারেশি বিরোধ -দ্বন্দ এখন নিত্য দিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোট-কাচারি থেকে থানা, পুলিশ ‘ স্থানিয় প্রশাসন , সেটেলম্যান্ট ,এসিল্যান্ড স্থানিয় প্রেসক্লাব সহ এমনকি সরকারের সবোর্চ্চ পর্যায়ে অভিযোগ ও দেওয়া। ফলে সামাজিক পর্যায়ে নানা সমস্যার পাশাপাশি জমির অভিযোগের বিষয়টি একটি অন্যতম সমস্যা হয়ে দাঁড়িযেছে। 

এমনবস্থায় জমি-ভিটেবাড়ি নিয়ে ঝামেলায় নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকে। সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার নামে কৌশলে বিবদমান জমি দখলে নিচ্ছে চতুর লোক। আবার আদালতে ঝুলে থাকা মামলার দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সাধারণ লোকদের জিম্মি করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। জেলার পাঁচ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম ঘুরে এমনই চিত্র উঠে এসেছে। 

জানা গেছে, জমি নিয়ে বিরোধে বাড়ছে মারামারি। অনেকের জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকলেও বিরোধী পক্ষ লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে জমি দখল করছেন। কেউ কেউ দীর্ঘদিন জমির মালিকানার দলিলপত্র নিয়ে ঘুরলেও দখল নিতে পারছেন না। প্রকৃত মালিক এবং দখলদারের মাঝে ঢুকে পড়ছে তৃতীয় পক্ষ। 

সদর উপজেলার ডোকোরোপাড়া গ্রামের বিধবা রৌসনারা বেগম তিন মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন। আটোয়ারী উপজেলায় মির্জাপুর এলাকায় স্বামীর দুই বিঘা জমি ৩০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন তারা। সম্প্রতি এলাকার কিছু লোক ওই জমির মালিকানা দাবি করে দখল করে নিয়েছেন। রৌসনারা বলেন, ‘আমার জমির কাগজপত্র সঠিক। 

কিছু লোক নকল কাগজ দেখিয়ে জোর করে জমিটা দখল করে নিয়েছেন। আমি প্রতিদিন আদালত আর মানুষের কাছে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়।’ তেঁতুলিয়া উপজেলার ডিমাগজ গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন জানান, ৫০ বছর আগে কেনা আমার জমির রেকর্ড সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা করেছি। 

১০ বছর ধরে মামলাটি বিচারাধীন। রায় না হওয়ার আগেই জমিটি জোর করে দখল করেছে বিরোধী পক্ষ। জমিজমা নিয়ে এমন বহু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে পঞ্চগড়ে। মির্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ওমর আলী জানান, জমির বিরোধ নিয়ে প্রতিদিন দুই-তিনটা শালিস করতে হয়। গ্রামের মানুষের এখন অভাব নেই। 

কিন্তু সম্পত্তি ঘিরে আইনি জটিলতা ও আদালতের রায়ের দীর্ঘসূত্রতা তাদের চিন্তার কারণ। তেঁতুলিয়া থানার ওসি জহুরুল ইসলাম জানান, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আমরা নানা সামাজিক উদ্যোগ নিই। অনেকে তা মেনে নেয় অনেকে মানে না।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার সন্ন্যাসি পাড়া গ্রামের বাসিন্দাগন মোঃ সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি গন পিটিশন  দাখিল করেছে ‘ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে। ওই অভিযোগের অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং স্থানিয় প্রেসক্লাবে দেওয়া হয়েছে। 

অভিযোগে তারা উল্লেখ করেছেন স্থানয়ি তালমা নদীর পূর্বে পাশ ঘেষেঁ নদী রক্ষাকারি বাঁধের উপড় চলমান রাস্তা দিয়ে যুগ যুগ ধরে চলচল করে আসছে।এই রাস্তা দিয়ে ট্রাক-ট্রলি চলাচল করে। এই রাস্তাটি মাঠপর্চা হয়ে ডিপি খতিয়ানভূক্ত হয়েছে। 

এমতবস্থায় সিরাজুল ওই বার্ধেঁর রাস্তাটি কেটে ফেলে জমিতে রুপান্তরিত করেছে। ফলে প্রবল বৃষ্টিপাত এবং নদীর পানির চাপে বাধঁটি পুরোপুরি ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা সহ গ্রামটি নদীতে বিলীন হওযার সম্ভবনা রয়েছে।  এছাড়া তেততুঁলিয়া উপজেলার  দেবনগড় ইউনিয়নের শেখ গছ, সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের নালাগঞ্জ, তেতুঁলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা, শালবাহান আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের রসেয়া সহ জেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে রয়েছে জমি নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ। 

এ বিষয়ে সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সায়েদ নুর-ই আলম এর সাথে কথা বলতেই তিনি বলেন ‘ মারাতœক সমস্যা। এহেন অভিযোগের অন্ত নেই। সায়েদ নুর-ই আলম বলেন ‘ আমাদের ৭৫ হাজার টাকার উপড়ে শালিশ দরবার করার কোন বিধান নেই। ‘ তারপরে ও গ্রামের মানুষ বুঝতে চায়না ‘ অভিযোগ দেয় ‘ না নিলে কান্নাকাটি ‘ অনুনেয় বিনয় করে’। 

এখতয়িার হলেও দেয় না হলেও দেয়।’ এখনো অনেক অভিযোগ রয়ে গেছে’। এছাড়া পারিবারিক দ্বন্দে স্বামী-স্ত্রীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তো আছেই’। বোদা উপজেলার কাজলদিঘী কালিযাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আলাউ উদ্দীন (আলাল) জানান ‘ আমার ইউনিয়নের এসব অভিযোগ আসে ‘ ধান রোপন এবং ধান কাটার সময়’। 

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান (রাজস্ব) বলেন, ভূমি দখলদারদের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ পাই। তদন্ত করে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। আদালতের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করার সুযোগ নেই। ব্যক্তি মালিকানার জমির সমস্যা আদালতই নিরসন করবে। 

এ ছাড়া এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী’র সাথে কথা বললে ‘ তিনি বলেন জমির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আদালতের’। তারপরে অভিযোগ পেলে অভিযোগের ধরণ দেখে তা খতিয়ে দেখা হয়। এবং জবর দখল করা হলে ‘ সে বিষয়েআইনের বিধি মতে ব্যবস্থা গ্রহন করি’।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য