বৌ শাশুড়ীকে বেদম প্রহার করে ‘ মামলা করলেন জামাই বাবু


মোঃ কামরুল ইসলাম কামু পঞ্চগড়ঃ 
পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের কায়েতপাড়া এলাকায় দি¦তীয় স্ত্রী কামরুন্নাহার কমলা ও শশুরকে অমানুষিক নির্যাতন ও মারধর,কূপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে আইনুল হক নামে এক জামাইয়ের বিরুদ্ধে। তবে এঘটনায় কমলা ও তার বাবাাসহ তার পরিবারের দশ জনের নামে সদর থানায় উল্টো মিথ্যা মারধরের মামলা দায়ের করে। 

এদিকে গৃহবধূ কমলার বাবা কফিল উদ্দির তার মেয়ে কমলাসহ তার উপর হামলা করায় আইনুলকে প্রধান আসামী  করে পঞ্চগড় বিজ্ঞ আমলী আদালত ০১ এ সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। জানা যায়, প্রায় ৬ বছর পূর্বে হাফিজাবাদ ইউনিয়নের আমবাড়ী গ্রামের সামসুল হকের ছেলে ফুল মিয়ার সাথে কামরুন্নাহার কমলার বিয়ে হয়। 

বিয়ের পর থেকে সংসার  করা অবস্থায় আল কাওছার (৫) নামের এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। এরমধ্যে বিয়ের পূর্ব থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাবার বাড়ীতে আসা যাওয়া করিতে থাকে কমলা নামে ওই গৃহবধু। এদিকে ওই এলাকার প্রতিবেশী সমেজ উদ্দীনের ছেলে আইনুল হক (৩৫) সব সময় কামরুন্নাহার কমলাকে উত্ত্যক্ত করতো এবং বিভিন্ন সময় ইশারা ইঙ্গিতে খারাপ প্রস্তাব দিত। রাতের বেলাতেও থাকার ঘরে ইট দিয়ে ঢিল ছুড়তো । 

আইনুলের অত্যাচারে সব সময় আতংকিত থাকতো। এমনকিগত  ২০১৯ সালে ৯ সেপ্টেম্বরে কামরুন্নাহার কমলা স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়োতে আসলে এসময় কমলা বাবার বাড়ীর সামনে বের হয়ে দাড়িয়ে থাকলে হঠাৎ বাড়ির সবার অগোচরে আইনুল হক লোকজন নিয়ে কমলার মূখ বেধে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। 

পরে পঞ্চগড়ের জগদল এলাকায় এক জনৈক বাড়িতে  প্রায় একমাস তালাবদ্ধ অবস্থায় আটকিয়ে রেখে শারীরিক নির্যাতন,প্রাণনাশের হুমকি ও ভয় দেখিয়ে ধর্ষন করে তার চিত্র মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে ব্লাক মেইলিং করে আইনুল। শুধু তাই নয় জোরপূর্বক কমলার প্রথম স্বামী ফুল মিয়াকে পঞ্চগড়ে আরাফাত ইদ্রিস নামে এক কাজীর কাছে গিয়ে তালাক প্রদান ও ঐ দিনই 

পঞ্চগড় নোটারি পাবলিকে আইনুল হক কামরুন্নাহার কামলাকে ভয়ভীাতি দেখিয়ে  জোরপূর্বক ভাবে  এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করে এক ভাড়া বাসায় তারা সংসার শুরু করে এবং বিয়ের কিছুদিন পর  কামরুন্নাহার কমলা আইনুলের গ্রামের বাড়ীতে যেতে চাইলে আইনুল তার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়  এবং আইনুল বাড়ির বাইরে গেলে কমলাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখতো । 

এবং কারো সাথে যোগায়োগ না করতে বাধ্য করে । এদিকে কমলা তার স্বামী আইনুলের নির্যাতনে বাঁচেতে কোন রকম রক্ষা পেয়ে কমলা  ঢাকায়  তার বড় ভাইয়ের বাসায় চলে যায়। সেখানে প্রায় ১০ মাস থাকার পর চলতি ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে কমলা তার বাবার বাড়ি পঞ্চগড় আসে। পঞ্চগড় আসার পর তার বাবা তাকে নিয়ে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথিমধ্যে তার  স্বামী আইনুল ও তার বড় ভাই ময়নুল, জয়নুল, জয়নুলের ছেলে মুরাদ ও মাজেদুল, আইনুলের বড় স্ত্রী খোরশিদা ও জয়নুলের স্ত্রী মমতা কমলা ও তার বাবার উপর হামলা চালায়। 

এসময়  খোরশিদা ও মমতা কমলার চোখে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে দেবার পর তারা সবাই কমলা ও তার  বাবা কফিলউদ্দীনের উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় এবং এসময় আইনুল তার ন্ত্রী ও তার শশুর কফিল উদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ি কূপিয়ে জখম করলে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা  কমলা ও তার বাবাকে দ্রুত ঘটনাস্থণ থেকে উদ্ধার করে প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে  ভর্তি  করে। 

তবে কফিল উদ্দীনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখাসে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং গৃহবধূ কমলার অবস্থা কিছুটা আশংকামুক্ত হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতে রয়েছে । এবিষয়ে গৃহবধু কামরুন্নাহার কমলা জানায়,আইনুল হক ইতিপূর্বে অনেক মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে এবং অনেক জায়গায় জরিমানাও দিয়েছে। 

তার স্ত্রী ও সন্তান থাকার পরেও সে আমার  স্বামীকে কৌশলে তালাক দিতে বাধ্য করায়  আমাকে জোরপূর্বক ভাবে বিয়ে করে আমার সাজানো সংসার নষ্ট করেছে। সে আমাকে ও আামার বাবাকে হত্যার চেষ্টার উদ্দ্যোশে হামলা চালায় এবং কূপিয়ে জখম করে আবার আমাদের উপর ওল্টো মামলা দায়ের করেছে । আমি তার উপযুক্ত বিচার চাই। তবে এবষিয়ে আইনুল হক জানান,কমলা তার পূর্বের স্বামীকে সে নিজের ইচ্ছাতেই তালাক দিয়েছে পরে সে আমাকে সেচ্ছায় বিয়ে করে সংসার করে। 

সে ভাড়া বাড়ি থেকে আমাকে না বলে ঢাকায় পালিয়ে যায় । তবে কমলা ও তার বাবার উপর আমরা কোন হামলা করিনি। আমাদের ক্ষেতের তাদের ছাগল রোপা নষ্ট করাকে কেন্দ্র করে উভয় পরিবারের মাঝে একটু দ্বন্ধ বাধে। 

এদিকে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)আবু আক্কাস আহম্মদ জানান,কমলা নামে ওই গৃহবধূর পরিবার কোর্টে মামলা দায়ের করলেও আমাদের কাছে এখনও আসে পৌছায়নি । তবে আইনুল হক বাদী হয়ে ওই গৃহবধুসহ তার পরিবারের দশ জনের নামে মামলা দায়ের করেছে থানায়। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য