কালীগঞ্জে ব্যাপক সংঘর্ষ, ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা

হাসানুজ্জামান হাসান, লালমনিরহাটঃ
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ছাত্রলীগের সংগঠন  কতিপয় কর্মীর বিডিএম আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে যোগদেন কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুজ্জামান আহমেদ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ৪২ বছর বয়সি উপজেলাছাত্রলীগের সভাপতি প্রভাষক হারুন উর রশিদ।

তিনি ছাত্রলীগ কর্মীদের ডেকে হুমকী দিলে পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে যান উপজেলা মহিলা লীগের সভানেত্রী সাজেদা জামান ও জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ মেলভীন। এ সময় কথার এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ সভাপতির  নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালানোর চেষ্টা করলে উভয় গ্রুপের লোকজন ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ৪ জন আহত হয়েছেন। 

এ ঘটনায় লালমনিরহাট - বুড়িমারী সড়ক অবরোধ করেন ছাত্রলীগের অপর একটি গ্রুপ। পরে তারা ছাত্রলীগ সভাপতি হারুনের গ্রেফতার দাবীতে প্রায় ২ শতাধিক ছাত্রলীগ কর্মী থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য যে, দীর্ঘদিন কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন না হওয়ায় এবং দল ক্ষমতায় থাকার সুবাদে ছাত্রলীগ সভপতির পদবী ব্যবহার করে ঠিকাদারী সহ বিভিন্ন অফিস আদালতে সুবিধা আদায় করে চলা ও   নিজের স্বেচ্ছাচারী মনোভাব ও সিনিয়র আওয়ামীলীগ নেতা ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরনের কারনে ও বিরোধের জেরে ব্যাপক সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। 

হামলার ঘটনায় জাকির হোসেন নামে একজনকে কুপিয়ে যখম সহ অন্তত চার জন নেতা-কর্মীকে আহত করেছেন হারুন ও তার সঙ্গে থাকা বহিরাগত সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় কালীগঞ্জ বাজার রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। 

গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯ টায় কালিগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা ও দলীয় নেতাকর্মীরা,  উপজেলা ছাত্রলীগের   সভাপতি হারুন উর রশিদ (৪২) এর বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকে ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে।

এ ঘটনায় হারুন উর রশিদ(৪২) সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। যাহার মামলা নং ১১। উক্ত ৭ জনের মধ্যে ২ জনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার মামলা চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকতা ঘটনা ও মামলা বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য