পঞ্চগড়ে ভূয়া এনজিও খুলে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

মোঃ কামরুল ইসলাম কামু পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ 
প্রতারণা থেমে নেই এবারে পঞ্চগড়ে ‘জনসেবা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ভূয়া সংস্থা সহজ শর্তে সীমিত হারের সুদে ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রামের নিরীহ নারীদের কাছ থেকে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে।

পঞ্চগড় জেলা শহরের পূর্ব জালাসী এলাকায় বেশ কিছুদিন আগে আশরাফ আলী ওরফে আফ্রিকা নামে এক ব্যাক্তির টিনশেডের বাড়ি ভাড়া নেন আসাদুজ্জামান নামের এক প্রতারক।তিনি নিজেকে ওই সংস্থার ম্যানেজার পরিচয় দেন এবং ঠাকুরগাঁওয়ে সংস্থার প্রধান কার্যালয় বলে জানান। এরপর ওই প্রতারক স্থানীয় ৩ জন মেয়েকে চাকরি দিয়ে এনজিও খুলে বসেন। 

গত কয়েকদিনে ওই প্রতারক পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘি ইউনিয়নের গলেহা কান্তমনি,চছ পাড়া,বলেয়া পাড়া,দফাদার পাড়া ও বোদা উপজেলার কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের পানিডুবি,সুপার ভিটা,উৎকুড়া,আমতলা কাজীপাড়া সহ বেশ কিছু এলাকায় গিয়ে গ্রামের সহজ-সরল নিরীহ নারীদের নিয়ে গ্রুপ তৈরী করেন। 

৫ থেকে ১০ জনকে নিয়ে গ্রুপ তৈরী করে প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে প্রতি ১০ হাজার ঋণে ১ হাজার করে টাকা সঞ্চয় গ্রহণ করেন। এতে এ কয়েকদিনে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সে।

গ্রুপের সদস্যদের ঋণের টাকা ও পাস বই দেয়ার জন্য রোববার পূর্ব জালাসীস্থ অফিসে আসতে বলে সে। সদস্যরা এদিন দুপুরে এসে অফিস তালাবদ্ধ দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিক্ষুব্ধ নারীরা এক পর্যায়ে বাড়ির মালিককে ঘেরাও করে রাখে। 

খবর পেয়ে পঞ্চগড় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রতারণার শিকার পানিডুবি এলাকার যশোমতি জানান, তিনি তার গ্রুপ থেকে ওই প্রতারকের হাতে সঞ্চয় বাবদ ১৫ হাজার টাকা তুলে দেন। তার গ্রুপের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে ঋণ দেয়ার কথা বলে সঞ্চয়ের নামে এই টাকা নেন বলে তিনি জানান।

একই এলাকার সেফালী জানান, তিনিও তার গ্রুপ থেকে ৬ হাজার টাকা প্রতারক আসাদুজ্জামানের হাতে তুলে দেন। তাদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে ঋণ দেয়ার কথা।যশোমতি ও শেফালীর মতো প্রায় তিন শতাধিক নারীর কাছ থেকে ওই প্রতারক টাকা হাতিয়ে নেয় বলে ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেন। 

বাড়ির মালিক আশরাফ আলী জানান, ঠাকুরগাঁও জেলায় ওই প্রতারকের বাড়ি। কিছুদিন আগে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় তার বাড়িটি ভাড়া নেয় সে। কিন্তু ওই প্রতারকের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং এন জি ও টির বৈধতা আছে কিনা তার কোন খোঁজখবর নেননি বলে তিনি স্বীকার করেন। 

এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু আক্কাস আহমেদ সোমবার দুপুরে জানান, 
আমি বিষয়টি জানা মাত্রই ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠাই। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাইনি। কোন ধরনের অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য