আটোয়ারীর থানা হাজতের দরজায় মাথা ঠুকে মাদকাসক্ত যুবক আহত পরিবারের অভিযোগ পুলিশের দিকে

মোঃ কামরুল ইসলাম কামু পঞ্চগড়ঃ 
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে থানা হেফাজতের টয়লেটের দরজায় মাথা ঠুকে আহত হয়েছেন সাইদুর রহমান (২৬) নামে এক মাদকাসক্ত যুবক। পরে সে পুলিশের বিরুদ্ধেই থানা হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ তোলে। 

আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং রাতে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চুরির অভিযোগে শুক্রবার বিকালে আটোয়ারী উপজেলা সদরের ছোটদাপ এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। বর্তমানে তিনি সুস্থ্য রয়েছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, সাইদুর রহমনের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে মামলা রয়েছে। তার বাড়ি থেকে চুরির মালামাল উদ্ধারও হয়েছিল। সেই মামলায় সে জামিনে রয়েছে। শুক্রবার বিকেলের পর আরেকটি চুরির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। 

শনিবার দুপুরে তাকে জেল হাজতে নেওয়ার সময় প্রথমে সে যেতে রাজী হচ্ছিল না। এক পর্যায়ে সে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সামনে টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে। কিন্তু টয়লেট থেকে ফেরার সময় সবার সামনেই সেখানকার দরজার লোহার হাতলে নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করতে থাকে ওই যুবক। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতলে নেয়।

এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেন, রাগের কারণে সে এমন কান্ড করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। এর কিছু সময় পর অজ্ঞাত কারণে তাদের মত পাল্টে ফেলেন তারা। সাংবাদিক ও স্থানীয়দের সামনে তারা থানা হেফাজতে পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। পুলিশ তাকে ছেড়ে দিতে উৎকোচ চেয়েছেন বলেও পরিবারের পক্ষে অভিযোগ করা হয়।
অভিযুক্ত যুবকের বোন জেসমিন আক্তার বলেন, 

শুক্রবার বিকালে আমার ভাইকে তারা তুলে নিয়ে যায়। পুলিশ শুক্রবার রাতে ডেকে আমাদের কাছে উৎকোচ দাবি করেছিল তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য। পরে পুলিশ থানায় তাকে নির্যাতন করে হাসপাতালে ভর্তি করে। আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, সাইদুরের মাথায় আঘাত রয়েছে। 

ধাতব কোন কিছু দিয়ে আঘাত পেতে পারে বলে মনে হচ্ছে। আটোয়ারী থানা পুলিশের ওসি ইজার উদ্দিন বলেন, সাইদুরকে চুরির অভিযোগে আটক করা হয়। এর আগেও তার বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চুরির অভিযোগে মামলা রয়েছে। থানা হেফাজতে তাকে কোন প্রকার নির্যাতন করা হয়নি। সে থানা হাজতের টয়লেটে নিজেই নিজের মাথা ঠুকে আহত হয়। আমরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং সকলের সাথে কথা বলি। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে সত্য কথাই বলেছিলেন। পরে তারা অজ্ঞাত কারণে তাদের মত পাল্টান। এখন পুলিশের বিরুদ্ধে নিয়াতনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। 

থানা হেফাজতে কিংবা অন্য কোনভাবে তাকে নির্যাতন করা হয়নি। তাকে জেল হাজতে নেওয়ার সময় প্রথমে সে যেতে চাচ্ছিল না। পরে সকলের সামনে টয়লেটে গিয়ে সেখানকার দরজার লোহার হাতলে নিজের মাথা ঠুকে আহত হন। অভিযুক্ত চোর কিংবা কোন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের পর তারা যদি এমন কান্ড করেন, সেক্ষেত্রে আমাদের আর কি বলার থাকে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য