অবাক হলেও সত্য গাইবান্ধায় যৌতুকের দাবিতে কথিত গুম

আঃ মতিন সরকার, গাইবান্ধাঃ 
যৌতুকের দাবিতে কথিত গুম ও নিহত গৃহবধু রৌশন আরা বেগম রিক্তা নামে এক গৃহবধূকে ৯ বছর পর জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ শুক্রবার গভীর রাতে রংপুর জেলার কামালকাছনা শালবন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে। উক্ত গৃহবধু গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান ভুইয়ার মেয়ে। 

এজন্য তার বড় বোন মুক্তা বেগম বাদি হয়ে ২০১১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা সদর থানায় (মামলা নং ৩৪) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় উল্লেখ করা হয়, সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নের পশ্চিম কুপতলা গ্রামের কপিল উদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলামের সাথে তার ছোট বোন রিক্তার বিয়ে হয়। 

পরবর্তীতে ২০১১ সালের ২২ জুলাই স্বামী রফিকুল ইসলামসহ তার ভাই, ভাবী এবং ছোট বোন যৌতুকের জন্য তার বোন রিক্তাকে মারপিট করে গুরুতর জখম করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে লাশ গুম করে রাখে। 

এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন কারাভোগ করতে হয় রিক্তার স্বামী রফিকুলসহ অন্যান্য সকল আসামীদের। রিক্তার স্বামী কিছুদিন আগে গাইবান্ধা সদর থানায় এসে জানায়, মিথ্যা অভিযোগে তাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। 

প্রকৃতপক্ষে রিক্তা রংপুরের কোন এক স্থানে আতœগোপন করে আছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ রিক্তার খোঁজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে শুক্রবার রাতে রংপুরের শালবন এলাকা থেকে কথিত মৃত রিক্তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ খান মো: শাহ্রিয়ার জানান, উদ্ধারকৃত গৃহবধূ রৌশন আরা বেগম রিক্তা উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশকে জানায়, স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে সে এতদিন ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছে এবং আল্লার পথের কাজ করেছে। 

তবে পুলিশ সন্দেহ করছে সে জঙ্গিবাদী কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত রয়েছে। রিক্তা পুলিশকে আরও বলেন, বিভিন্ন কারণে সে কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ আত্মগোপন করে। এছাড়াও তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হলে সে কোন জবাব দিতে পারেনি। উল্লেখ্য, আটক রিক্তা বর্তমানে গাইবান্ধা সদর থানায় পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

এদিকে রফিকুল ইসলাম জানায়, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানী করার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার বাদী মুক্তা বেগম ও পলাতক স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য