পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করলেন গুলিতে নিহত হওয়া রাশেদের বোন

আক্তার কামাল সোহেলঃ
সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা রাশেদ হত্যার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার মেরিন ড্রাইভে পুলিশের গুলিতে নিহত মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদের বোন পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

বুধবার কক্সবাজারের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই হত্যা মামলা দায়ের করেন শারমিন শাহরিয়ার। টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস এবং বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ লিয়াকত সহ নয়জন পুলিশ সদস্যকে আসামী করা হয়েছে মামলায়। এই মামলার তদন্ত করার জন্য র‍্যাবকে দায়িত্ব দিয়েছে আদালত।

গত ১লা অগাস্ট টেকনাফের বাহারছড়া চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ। এই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

পুলিশের বিরুদ্ধে এমন এক সময়ে মামলা দায়ের করা হলো যখন মেজর (অব.) রাশেদ নিহত হবার ঘটনায় পুলিশ এবং সেনাবাহিনী পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছে।

  আইনজীবীদের সাথে নিয়ে সকালে কক্সবাজারের আদালতে আসেন নিহত মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদের বোন শারমিন শাহরিয়ার।

মামলা দায়ের শেষে আদালত থেকে বেরিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তিনি।

শারমিন শাহরিয়ার বলেন, "আমার ভাইয়াকে যেভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার বিচারের জন্যই আমি এখানে কেস ফাইল (মামলা দায়ের) করতে এসেছি। আমরা অনুরোধ জানিয়েছি যেন র‍্যাবের মাধ্যমে তদন্ত করা হয়, এবং আদালত সেটা মঞ্জুর করেছে।"
থানায় কেন এ মামলা দায়ের করা হয়নি - এমন প্রশ্নে শারমিন শাহরিয়ার বলেন, থানায় মামলা করলে বিষয়টি হতো দীর্ঘসূত্রিতায় আটকে যেতে পারে। মামলা যাতে দ্রুত গতিতে অগ্রসর হয় সেজন্য আদালতে এসেছেন বলে জানান তিনি।

"আমার ভাইয়া মারা গেছে ৩১ তারিখ রাতে। টেকনাফ থানা থেকে আমার আম্মুকে ফোন করা হয়েছিল। জানার জন্য যে সিনহা আমার আম্মুর কী হয়? সে আর্মির মেজর কি না? কিন্তু থানা থেকে আমাদের বলা হয়নি যে আমার ভাইয়া মারা গিয়েছে।"

তিনি বলেন, তার ভাই সিনহা রাশেদ নিহত হবার বিষয়টি অন্য সূত্র থেকে জানতে পেরেছেন। পুলিশ তাদের কিছু জানায়নি।

আদালতে দায়ের করা মামলাটিকে টেকনাফ থানায় এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে সেটি আগামী সাতদিনের মধ্যে জানাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে পুলিশকে।

মেজর (অব.) রাশেদ নিহতের ঘটনা সেনাবাহিনীর মধ্যে দৃশ্যত ক্ষোভের জন্ম দেয়।

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা বা ডিজিএফআই'র একটি গোপন তদন্ত রিপোর্ট এরই মধ্যে গণমাধ্যমে ফাঁস হয়েছে।

সে রিপোর্টে বলা হয়, কর্তব্যরত পুলিশের এসআই যা করেছেন সেটি সামরিক বাহিনীর প্রতি 'অশ্রদ্ধা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ'।


অন্যদিকে টেকনাফ থানায় পুলিশ যে মামলা দায়ের করেছে সেখানে বলা হয়েছে, মেজর (অব.) রাশেদ এবং তার সাথে গাড়িতে থাকা সিফাত পরস্পর যোগসাজশে সরকারি কর্তব্য কাজে বাধা প্রদান করেছে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র দিয়ে গুলি করার জন্য তাক করেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য