কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে জনবল নিয়োগের টেন্ডারে জালিয়াতি ও দুর্নীতি ফাঁস

মোঃ মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামঃ
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে দুর্নীতি এখন ওপেন সিক্রেট। গোপনে টেন্ডার জালিয়াতির ঘটনার পর জনবল নিয়োগে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইনে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পথ্য, ধূপি, স্টেশনারী ও নন-স্টেশনারী মালামাল সরবরাহের টেন্ডার গোপন সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাপের মুখে উক্ত টেন্ডার বাতিল করেন। যার সূত্রঃ জেনা:হাস:/কুড়ি:কমিটি /২০১৯-২০২০/৯৯৮ তারিখঃ ০৮.০৬.২০২০ ইং।

এরই মধ্যে আরেকটি টেন্ডারের দুর্নীতি ও জালিয়াতির খবর উম্মোচিত হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ২৯ জন ক্লিনার ও সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগের টেন্ডার ইতোপূর্বে সম্পন্ন হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ২০ জন ক্লিনার ও ৯ জন সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ প্রদানের লক্ষ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রংপুরের স্বরলিপি সিকিউরিটি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড চূড়ান্ত দরদাতা হিসাবে মনোনীত হয়। 

কিন্তু মনোনীত ঠিকাদারের অগোচরে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘদিন যাবৎ চিহ্নিত একটি চক্র গোপনে এই নিয়োগ সম্পন্নের পাঁয়তারা শুরু করে। চুক্তিনামা সম্পাদন ও কার্যাদেশের পত্র গোপন করে চিহ্নিত চক্রটি প্রতিটি নিয়োগের বিপরীতে দেড় লক্ষ থেকে দুই লক্ষ টাকা গ্রহণ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদনের অপচেষ্টা চালায়।

বিষয়টি টের পেয়ে রংপুরের স্বরলিপি সিকিউরিটি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড এর স্বত্বাধিকারী রেজাউল করিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট চুক্তিনামা সম্পাদনের পত্রের জন্যে দাবি জানায়। এর প্রেক্ষিতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল এর তত্বাবধায়ক ডাঃ জাকিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চুক্তিনামার পত্র গত ৩রা জুন ২০২০ইং এ স্বরলিপি সিকিউরিটি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড এর মেইলে প্রেরণ করা হয়। 

সূত্রঃ জেনা:হাস:/কুড়ি:কমিটি /২০১৯-২০২০/৮৬৬/১(৪) তারিখঃ ২০.০৫.২০২০ ইং। এই পত্র প্রাপ্তির ৪ মিনিট পরে তিনি একই মেইলে কার্যাদেশের পত্রটিও পান যার সূত্রঃ জেনা:হাস:/কুড়ি:কমিটি /২০১৯-২০২০/৮৭২ তাং ২২.০৫.২০২০ ইং।

চুক্তিনামা সম্পাদন ব্যতিরেকে এবং ১৪ দিন পরে ইস্যু কৃত পত্র প্রাপ্তিতে ঠিকাদার বিস্ময় প্রকাশ করে অসঙ্গতিসমূহ দূর করে নতুন করে চুক্তিনামা সম্পাদন ও কার্যাদেশ প্রাপ্তির লক্ষ্যে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল এর তত্বাবধায়ক বরাবর একই তারিখে স্বাক্ষরকৃত পত্র গত ৪ জুন ২০২০ ইং এ হাসপাতালে জমাদান ও মেইলে প্রেরণ করেন।

স্বরলিপি সিকিউরিটি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড এর স্বত্বাধিকারী লিখিত অভিযোগে জানান যে, তার স্বাক্ষর, সিলমোহর, প্যাড জাল করা হয়েছে। তিনশত টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিনি কোন চুক্তি সম্পাদন করেননি এবং জামানতের ৪৭ হাজার টাকার পে-অর্ডারও প্রদান করেননি।

এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল এর তত্বাবধায়ক ডাঃ জাকিরুল ইসলামকে ফোন করে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। প্রকৃত ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিনামা ব্যতিরেকে কার্যাদেশ প্রদানের বিষয়টি ভিডিও রেকর্ডিংয়ে তার সাক্ষাৎকার চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের চূড়ান্ত ঠিকাদার স্বরলিপি সিকিউরিটি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড এর স্বত্বাধিকারী রেজাউল করিমের নিকট বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষকে সকল বিষয় লিখিত আকারে অবহিত করেছি। আশা করি কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এদিকে বিভিন্ন তথ্য সুত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক আশরাফুল মজিদের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক আশরাফুল মজিদ ও জেলা যুবলীগের এক নেতার যোগসাজসে মূল ঠিকাদারকে পাশ কাটিয়ে আউট সোর্সিং এর এই ২৯ জন জনবল নিয়োগের পায়তারা চলছে। এটি সফল হলে এই সিন্ডিকেট ৪০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিতে সক্ষম হবে। 

এদিকে ইতোপূর্বে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ২৯ জন ক্লিনার ও সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগের টেন্ডার জালিয়াতির এবং স্বরলিপির স্বত্ত্বাধীকারির বক্তব্য অনুয়ায়ী কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের সিন্ডিকেটের বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক বিধি মোতাবেক ব্যাবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন টেন্ডারের অংশগ্রহন কারী অন্যান্য ঠিকাদারগণ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য