তিনি একজন সাংবাদিক ও মানবতার ফেরিওয়ালা

চৌধুরী নুপুর নাহার তাজ দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় গোটা বিশ্ব এখন দিশেহারা। সংক্রমণরোধে সর্বত্র চলছে লকডাউন। দোকানপাট বন্ধ। কর্মহীন হয়ে পড়ায় নানাবিধ সংকট বাড়ছে। নিম্নবিত্ত তো বটেই মধ্যবিত্তরাও সংকটে পড়েছেন। কারো কাছে হাত পাততেও পারছেন না অনেকে। এই পরিস্থিতিতে মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে দিনরাত চিরিরবন্দর উপজেলার এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত ছুটে চলেছেন সাংবাদিক মাহাফুজুল ইসলাম আসাদ। সাধ্য মতো সহায়তা ও বিভিন্ন মহল থেকে খাদ্য সামগ্রী সংগ্রহ করে তুলে দিচ্ছেন দুর্দশাগ্রস্থ পরিবারের হাতে। পাশাপাশি উপজেলার অসহায় কর্মহীন মানুষদের পাশে দাড়ানোর জন্য ১২টি ইউনিয়নের একঝাঁক তরুনদের নিয়ে গঠন করেছেন "পাশে দাঁড়াও" নামের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন। সংগঠনটির আহব্বায়ক মাহাফুজুল ইসলাম আসাদ তরুন সেচ্ছা সেবকদের  নিয়ে বিরামবিহীন ভাবে ছুটছেন। তিনি খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতিতে অসহায় কর্মহীন মানুষদের কথা চিন্তা করে ২টি এম্বুলেন্স ফ্রী সার্ভিস এর ব্যবস্থা করেছেন, মোবাইল ফোনে ঘরে বসে অভিজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা  চিকিৎসা পরামর্শ, মুমুর্ষ রোগীদের জন্য জরুরী রক্ত সংগ্রহ ও মটরসাইকেল যোগে ব্লাড ডোনারদের হাসপাতাল পর্যন্ত পৌছে দেয়া ও ব্লাড দেয়ার পর নিরাপদে বাড়ী পৌছে দিতে ফ্রী যাতায়াত নিশ্চিত করা, তৃনমুল পর্যায়ের অসহায় মানুষদের খোঁজ খবর নিয়ে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেয়া, রেলওয়ে ষ্টেশনে থাকা ভাসমান মানুষকে সেহেরী নিয়ে নিজ হাতে পরিবেশন করে খাওয়ানো সহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। চিরিরবন্দর উপজেলায় ইতোমধ্যে  ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন সাংবাদিক মাহাফুজুল ইসলাম আসাদ। তিনি ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় বন্যাদুর্গত অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাড়িয়েছিলেন তা এখনো এক অনন্য নিদর্শন হয়ে আছে। প্রতি বছর শীতে অসহায় শীতার্ত মানুষদের পাশে শীতবস্ত্র নিয়েও হাজির হন তিনি। সাংবাদিক ও কবি মাহাফুজুল ইসলাম আসাদ জাতীয় দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার চিরিরবন্দর উপজেলা প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করে আসছেন, চিরিরবন্দর অনলাইন প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক তিনি মাঝে মধ্যেই অসাধারণ কবিতাও লিখেন। গত একুশে বই মেলায় চিরিরবন্দরের সন্তান উদীয়মান কবি রাজিউর রাকিবের যৌথ সম্পাদনায় "স্বপ্ন নীড়" বইটিতে মাহাফুজুল ইসলাম আসাদ এর বেশ কয়েকটি কবিতা প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এবং সাধারণ ছুটি ঘোষণার পরদিন থেকেই মূলত তিনি কাজ শুরু করেন সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি নিজের মোটর সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন দুর্দশাগ্রস্থ মানুষের খোঁজে। গরীব ও অসহায় মানুষের ঘরে খাদ্যসামগ্রী সহ বিভিন্ন সেবা পৌঁছে দিতে। যেখানেই দুর্দশাগ্রস্থ মানুষ দেখেছেন সেখানেই বাড়িয়ে দিয়েছেন সহযোগিতার হাত। তাঁর এই তৎপরতা সহজেই সকলের নজর কাড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসায় ভাসতে থাকেন মাহাফুজুল ইসলাম আসাদ । অনেকেই তাঁকে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি দিন রাত ২৪ ঘন্টায় সংগঠনের ১২ টি ইউনিয়নদের সেচ্ছাসেবক দের তথ্য মোতাবেক নিজেই মোটরসাইকেল নিয়ে অসহায় পরিবারের খোজ খবর নিয়ে  খাদ্যসামগ্রী নিজেই পৌছায় দিচ্ছেন কখনো এ্যাম্বুলেন্সে,কখনো ছুটে চলেছেন হাসপাতালে, সড়ক দুর্ঘটনা সহ বিভিন্ন রোগীদের নিয়ে ভর্তি করে ঔষধের পর্যন্ত ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। রোগী আনতে গিয়ে এ্যাম্বুলেন্সে বসেই ইফতার করতে দেখেছেন চিরিরবন্দরের মানুষ। তিনি একজন সাংবাদিক নন একজন মানবতার ফেরিওয়ালাও বটে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য